‘উড়ন্ত গাড়ি’ রোডস্টার আনল টেসলা, বাজারে আসবে কবে
নিজস্ব প্রতিবেদক: গাড়ির গতির সংজ্ঞা বদলে দেওয়ার দাবি নিয়ে নতুন রোডস্টার প্রদর্শন করেছে মার্কিন বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলা। স্পেসএক্সের প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি এই গাড়ি নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে গাড়িপ্রেমীদের মধ্যে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক জানিয়েছেন, ২০২৮ সালে গাড়িটি বাজারে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এর দাম, ব্যাটারির ক্ষমতা এবং সাধারণ সড়কে চলাচলের অনুমোদন নিয়ে এখনো বেশ কিছু প্রশ্ন রয়ে গেছে। খবর আনাদোলু এজেন্সির।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে স্পেসএক্সের ম্যাকগ্রেগার স্থাপনায় নতুন রোডস্টারটি প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন টেসলার বহু ভক্ত ও সম্ভাব্য ক্রেতা। তাঁদের মধ্যে এমন ব্যক্তিও ছিলেন, যারা গাড়িটি বাজারে আসার আশায় প্রায় নয় বছর আগে ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার করে অগ্রিম জমা দিয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রদর্শনীতে নতুন রোডস্টারটি কয়েকটি ব্যতিক্রমী কসরত দেখিয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানানো হয়েছে। এর মধ্যে ছিল উল্টো হয়ে চলা, পাশাপাশি রাখা পাঁচটি টেসলা গাড়ি টপকে যাওয়া এবং স্পেসএক্সের থ্রাস্টার ব্যবহার করে শূন্যে ঘোরার প্রদর্শনী।
গাড়িটির পারফরম্যান্স নিয়ে টেসলার দাবি আরও চমকপ্রদ। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, থ্রাস্টার সক্রিয় থাকলে গাড়িটি স্থির অবস্থা থেকে ঘণ্টায় ৯৬ দশমিক ৬ কিলোমিটার গতিতে পৌঁছাতে মাত্র এক সেকেন্ড সময় নিতে পারে। এর সর্বোচ্চ গতি হতে পারে ঘণ্টায় ৩৭০ কিলোমিটার।
তবে এগুলো প্রতিষ্ঠানের দাবি। গাড়িটির বাস্তব পারফরম্যান্স, নিরাপত্তা এবং দৈনন্দিন ব্যবহারের সক্ষমতা সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়নের জন্য আরও তথ্য ও যাচাই প্রয়োজন।
ইলন মাস্কের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৮ সালে নতুন রোডস্টার বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু এখনো গাড়িটির চূড়ান্ত দাম ঘোষণা করেনি টেসলা।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর আগে কিছু সম্ভাব্য ক্রেতা গাড়িটির জন্য ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার করে অগ্রিম জমা দিয়েছিলেন। তবে বাজারে আসার সময়, চূড়ান্ত মূল্য এবং ক্রেতাদের কাছে গাড়ি সরবরাহের সময়সূচি সম্পর্কে আরও নিশ্চিত তথ্য প্রয়োজন।
নতুন রোডস্টার নিয়ে বড় প্রশ্নগুলোর একটি হলো, এটি সাধারণ সড়কে আইনগতভাবে চালানো যাবে কি না। প্রদর্শনীতে ব্যতিক্রমী কসরত দেখাতে পারা আর জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য সড়ক চলাচলের অনুমোদন পাওয়া এক বিষয় নয়।
অনুষ্ঠানে দর্শকদের উদ্দেশে মাস্ক বলেন, গাড়িটি বাস্তবেই রাস্তায় চলার উপযোগী হবে। পরে তিনি স্পষ্ট করেন, এটি কোথায় চালানো যাবে, তা স্থানীয় নিয়মকানুনের ওপর নির্ভর করতে পারে। সব বিচারব্যবস্থায় গাড়িটি আইনসম্মত হবে কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন বলেও জানান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যক্তিগত রেসিং ট্র্যাকে কোনো গাড়ি চালানোর সুযোগ থাকা এবং সাধারণ সড়কে চলাচলের অনুমোদন পাওয়া আলাদা বিষয়। তাই নতুন রোডস্টারের সড়ক-ব্যবহারের অনুমোদন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি অনিশ্চিতই থাকছে।
নতুন রোডস্টারের ব্যাটারির ধারণক্ষমতা কিংবা একবার পূর্ণ চার্জে কত দূর চলতে পারবে, সে বিষয়ে টেসলা এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমান মডেলটির একবার পূর্ণ চার্জে প্রায় ৯৯৮ কিলোমিটার চলার সক্ষমতা রয়েছে। তবে এই পরিসংখ্যানকে নতুন মডেলের নিশ্চিত রেঞ্জ হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। নতুন গাড়িটির চূড়ান্ত ব্যাটারি, রেঞ্জ ও অন্যান্য প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশের অপেক্ষা করতে হবে।
সব মিলিয়ে, থ্রাস্টারযুক্ত নতুন রোডস্টারকে ঘিরে টেসলা বড় প্রত্যাশা তৈরি করেছে। তবে ২০২৮ সালে বাজারে আসার পরিকল্পনা, গাড়ির চূড়ান্ত দাম, বাস্তব পারফরম্যান্স এবং সাধারণ সড়কে চলাচলের অনুমোদন—এসব বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া গেলেই গাড়িটির সম্ভাবনা আরও স্পষ্ট হবে।
সোহাগ/
