| ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

২০২৯ সালে বন্ধ হতে পারে টুজি নেটওয়ার্ক, ঝুঁকিতে ৬ কোটি ফোন

জাতীয় ডেস্ক . বিনোদন৬৯.কম
২০২৬ অক্টোবর ১৫ ১৬:৩২:২২
২০২৯ সালে বন্ধ হতে পারে টুজি নেটওয়ার্ক, ঝুঁকিতে ৬ কোটি ফোন

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশে টুজি মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধের পরিকল্পনা ঘিরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বাটন ফোন ব্যবহারকারীদের মধ্যে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)–এর পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে টুজি সেবা বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে প্রচলিত টুজি ফোন ব্যবহারকারীদের ফোরজি-সমর্থিত ফোনে যেতে হতে পারে। তবে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে প্রায় ছয় কোটি টুজি হ্যান্ডসেট ব্যবহারকারী কীভাবে এই পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়াবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

কবে বন্ধ হবে টুজি ফোনের ব্যবহার?

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা বিটিআরসির পরিকল্পনা অনুযায়ী, ধাপে ধাপে দেশে টুজি ফোনের উৎপাদন, বিক্রি ও নেটওয়ার্ক সেবা বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

পরিকল্পনার সময়সূচি অনুযায়ী:

২০২৬ সালের পর: নতুন টুজি ফোনের মডেল অনুমোদন বন্ধের পরিকল্পনা।

৩১ মার্চ ২০২৭: দেশে টুজি ফোন উৎপাদন বন্ধের নির্ধারিত লক্ষ্য।

জুন ২০২৭: টুজি ফোন বিক্রি বন্ধের পরিকল্পনা।

ডিসেম্বর ২০২৯: গ্রাহক পর্যায়ে টুজি নেটওয়ার্ক সেবা বন্ধের লক্ষ্য।

তবে এসব সময়সীমা কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ। তাই নির্ধারিত তারিখগুলোকে বাস্তবায়িত সিদ্ধান্ত হিসেবে ধরে নেওয়ার আগে বিটিআরসির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা যাচাই করা প্রয়োজন।

কেন বন্ধের পরিকল্পনা টুজি নেটওয়ার্ক?

টুজি থেকে ফোরজি নেটওয়ার্কে স্থানান্তরের মাধ্যমে মোবাইল নেটওয়ার্কের সক্ষমতা বাড়ানো এবং তরঙ্গের ব্যবহার আরও কার্যকর করাই এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।

টুজি নেটওয়ার্কের জন্য ব্যবহৃত তরঙ্গ ফোরজি সেবায় কাজে লাগানো গেলে অপারেটররা আরও কার্যকরভাবে ডেটা সেবা দিতে পারবে। পাশাপাশি পুরোনো নেটওয়ার্ক রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয় কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বাংলালিংক ও রবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও টুজি থেকে ফোরজিতে স্থানান্তরের পক্ষে মত দিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, ফোরজি নেটওয়ার্কের জন্য তরঙ্গের দক্ষ ব্যবহার বাড়ানো গেলে ডেটা সেবার সক্ষমতা উন্নত হবে।

সবচেয়ে বেশি চাপে পড়তে পারেন নিম্নআয়ের গ্রাহকরা

বাংলাদেশে অনেক মানুষ এখনো কম দামের বাটন ফোন ব্যবহার করেন। এসব ফোনে সাধারণত কল করা ও খুদে বার্তা পাঠানোর মতো মৌলিক সুবিধা থাকে। স্মার্টফোনের তুলনায় দাম কম হওয়ায় গ্রামাঞ্চল ও নিম্নআয়ের মানুষের কাছে এগুলো জনপ্রিয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে প্রায় ছয় কোটি টুজি হ্যান্ডসেট চালু রয়েছে। নেটওয়ার্ক বন্ধ হলে এসব ফোনে প্রচলিত মোবাইল সেবা ব্যবহার করা সম্ভব হবে না, যদি না ফোনগুলো অন্য কোনো সমর্থিত নেটওয়ার্কে কাজ করতে পারে।

এ ক্ষেত্রে গ্রাহকদের ফোরজি-সমর্থিত ফোন কিনতে হতে পারে। কিন্তু সাশ্রয়ী ফোনের বিকল্প সীমিত হলে অতিরিক্ত খরচ অনেক পরিবারের জন্য চাপ তৈরি করতে পারে।

ফোরজি ফোনের দাম কত, বাটন ফোনের বিকল্প কী?

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাজারে ফিচার ফোনের দাম প্রায় ৯৫০ টাকা থেকে শুরু হলেও সাশ্রয়ী স্মার্টফোনের দাম প্রায় সাড়ে ৯ হাজার টাকা। ফলে টুজি ফোন থেকে স্মার্টফোনে যেতে হলে অনেক গ্রাহককে আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বেশি অর্থ ব্যয় করতে হতে পারে।

তবে সব বাটন ফোনই যে টুজি-নির্ভর, তা নয়। কিছু বাটন ফোন ফোরজি নেটওয়ার্ক সমর্থন করে। তাই ফোন পরিবর্তনের আগে সেটটি ফোরজি সমর্থন করে কি না, তা যাচাই করা জরুরি।

নিম্নআয়ের মানুষের জন্য পাঁচ হাজার টাকায় স্মার্টফোন বাজারে আনার সরকারি উদ্যোগের কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সাশ্রয়ী বিকল্প তৈরিতে সহায়ক হতে পারে। তবে ফোনের প্রাপ্যতা, বৈশিষ্ট্য ও চূড়ান্ত দাম সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য জানা প্রয়োজন।

টুজি ফোন উৎপাদন বন্ধ হলে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে দেশীয় শিল্প

টুজি নেটওয়ার্ক বন্ধের পরিকল্পনা শুধু গ্রাহকদের নয়, দেশীয় হ্যান্ডসেট উৎপাদকদেরও প্রভাবিত করতে পারে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালে দেশে উৎপাদিত মোট হ্যান্ডসেটের প্রায় ৬৫ শতাংশ ছিল টুজি ফোন। ফলে এই বাজার দ্রুত সংকুচিত হলে স্থানীয় উৎপাদকদের ব্যবসায়িক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে।

মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি জাকারিয়া শহীদ নিম্নআয়ের মানুষের স্বার্থ বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, টুজি থেকে ফোরজিতে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে দরিদ্র গ্রাহকদের সক্ষমতা ও স্বার্থ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।

টুজি ফোন ব্যবহারকারীদের এখন কী করা উচিত?

টুজি নেটওয়ার্ক বন্ধের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হবে কি না এবং ঠিক কবে থেকে কার্যকর হবে, তা জানতে বিটিআরসির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা অনুসরণ করা উচিত। পাশাপাশি নিজের ব্যবহৃত ফোনটি ফোরজি সমর্থন করে কি না, সেটিও যাচাই করে রাখা ভালো।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, টুজি নেটওয়ার্ক বন্ধের পরিকল্পনা মানেই এখনই সব বাটন ফোন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে—এমন নয়। বাটন ফোনের ধরন, নেটওয়ার্ক সমর্থন এবং চূড়ান্ত বাস্তবায়নসূচির ওপর নির্ভর করবে কোন ফোন কত দিন ব্যবহার করা যাবে।

সোহাগ/

আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ

ক্রিকেট

বাংলাদেশ সফরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দল ঘোষণা, নতুন মুখ উইকহ্যাম

বাংলাদেশ সফরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দল ঘোষণা, নতুন মুখ উইকহ্যাম

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজকে সামনে রেখে ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে ...

লিটন-মিরাজের শতরানের জুটিতে লাঞ্চের আগে বাংলাদেশের লিড ৪৪৩

লিটন-মিরাজের শতরানের জুটিতে লাঞ্চের আগে বাংলাদেশের লিড ৪৪৩

নিজস্ব প্রতিবেদক: আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন বাংলাদেশের লিটন দাস। ...

ফুটবল

৯০ মিনিটের খেলা শেষ; ইন্টার মায়ামি বনাম নিউইয়র্ক সিটি, জানুন ফলাফল

৯০ মিনিটের খেলা শেষ; ইন্টার মায়ামি বনাম নিউইয়র্ক সিটি, জানুন ফলাফল

নিজস্ব প্রতিবেদক: ওনেল মেসির দুর্দান্ত অ্যাসিস্ট ও রদ্রিগো ডি পলের গোলে নিউইয়র্ক সিটি এফসিকে ২-০ ...

হামজা চৌধুরী কয় ম্যাচ নিষিদ্ধ, জানা গেল নিয়ম

হামজা চৌধুরী কয় ম্যাচ নিষিদ্ধ, জানা গেল নিয়ম

নিজস্ব প্রতিবেদক: পোর্টসমাউথের কাছে ৩-২ গোলে হেরে চ্যাম্পিয়নশিপে হতাশার রাত কাটিয়েছে শেফিল্ড ইউনাইটেড। দলের হারের ...