iQOO Neo 12-এ ১৮৫Hz ডিসপ্লে, বাংলাদেশে দাম কত
নিজস্ব প্রতিবেদক: নতুন pTSF OLED প্রযুক্তি, ২K রেজল্যুশনের ১৮৫Hz ডিসপ্লে, Snapdragon 8 Elite Gen 5 চিপসেট ও সক্রিয় কুলিং ফ্যান নিয়ে আসছে iQOO Neo 12। গেমিং ফোনটির বাংলাদেশি দাম এখনো ঘোষণা করা হয়নি।
গেমিং স্মার্টফোনের বাজারে নতুন চমক নিয়ে আসছে iQOO। আসন্ন iQOO Neo 12 হবে Visionox-এর নতুন ‘Sky Mirror’ pTSF OLED প্রযুক্তি ব্যবহার করা প্রথম স্মার্টফোন। ১৪ অক্টোবর ২০২৬-এ iQOO, Visionox ও চীনের Tsinghua University-এর যৌথ প্রযুক্তি অনুষ্ঠানে ডিসপ্লেটির নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়েছে। ফোনটি চলতি অক্টোবরেই চীনের বাজারে উন্মোচনের কথা রয়েছে। তবে বাংলাদেশে কবে আসবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
iQOO Neo 12-এর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এর ২K রেজল্যুশনের OLED ডিসপ্লে, যেখানে ১৮৫Hz রিফ্রেশ রেট থাকার কথা নিশ্চিত করা হয়েছে। সাধারণ ১২০Hz ডিসপ্লের তুলনায় বেশি রিফ্রেশ রেট দ্রুতগতির গেমিং ও স্ক্রিনে চলাচল আরও মসৃণ করতে পারে।
ফোনটির ডিসপ্লেতে ব্যবহার করা হবে Visionox-এর নতুন ‘Sky Mirror’ pTSF প্রযুক্তি। pTSF-এর পূর্ণরূপ Phosphorescence-Assisted Thermally Activated Sensitized Fluorescence। এই প্রযুক্তিতে আলো উৎপাদনের দক্ষতা বাড়ানোর মাধ্যমে ডিসপ্লের বিদ্যুৎ খরচ কমানো এবং রঙের মান উন্নত করার চেষ্টা করা হয়েছে।
কোম্পানির দাবি অনুযায়ী, আগের প্রজন্মের উপকরণের তুলনায় নতুন প্রযুক্তিতে ডিসপ্লের আলোকদক্ষতা ৮ শতাংশ বাড়বে, সর্বোচ্চ উজ্জ্বলতা ১০ শতাংশ বাড়বে এবং বিদ্যুৎ খরচ ৬.৫ শতাংশ কমবে। পাশাপাশি ডিসপ্লের আয়ুষ্কাল ৫০ শতাংশ বাড়ার দাবিও করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এগুলো নির্মাতার প্রকাশিত দাবি, স্বাধীন পরীক্ষায় যাচাই করা ফলাফল নয়।
পারফরম্যান্সের জন্য iQOO Neo 12-এ থাকবে Qualcomm-এর Snapdragon 8 Elite Gen 5 প্রসেসর। এর সঙ্গে যুক্ত থাকবে iQOO-এর Q3 ই-স্পোর্টস চিপ এবং নতুন Monster Super Core Engine।
এই সমন্বয় গেমিংয়ের সময় উচ্চ ফ্রেম রেট, উন্নত গ্রাফিকস ও পারফরম্যান্স নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে বাস্তবে গেমের পারফরম্যান্স নির্ভর করবে সফটওয়্যার অপটিমাইজেশন, তাপমাত্রা ও গেমভেদে ব্যবহৃত সেটিংসের ওপর।
iQOO Neo 12-এর আরেকটি উল্লেখযোগ্য ফিচার হলো Ice Dome সক্রিয় কুলিং ব্যবস্থা। এটি Neo সিরিজে প্রথমবার যুক্ত হচ্ছে।
সাধারণ স্মার্টফোনে তাপ ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য মূলত প্যাসিভ কুলিং ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়। কিন্তু নতুন ফোনটিতে ফ্যান ও বিশেষভাবে তৈরি এয়ার ডাক্টের মাধ্যমে ভেতরে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা থাকবে। দীর্ঘ সময় গেম খেলার সময় অতিরিক্ত তাপ নিয়ন্ত্রণে এটি সহায়ক হতে পারে।
তবে ফ্যানের কার্যকারিতা, শব্দের মাত্রা এবং দীর্ঘ সময় ব্যবহারে পারফরম্যান্স কতটা স্থিতিশীল থাকবে, তা ব্যবহারিক পরীক্ষার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।
| ফিচার | বিস্তারিত |
|---|---|
| ডিসপ্লে | ২K OLED (প্রত্যাশিত) |
| রিফ্রেশ রেট | ১৮৫Hz (প্রত্যাশিত) |
| ডিসপ্লে প্রযুক্তি | Visionox Sky Mirror pTSF OLED |
| প্রসেসর | Qualcomm Snapdragon 8 Elite Gen 5 |
| গেমিং চিপ | iQOO Q3 |
| কুলিং ব্যবস্থা | Ice Dome সক্রিয় কুলিং ফ্যান |
| পারফরম্যান্স ইঞ্জিন | Monster Super Core Engine |
| ব্যাটারি | ৯,০০০ mAh (অনিশ্চিত) |
| চীনে লঞ্চ | অক্টোবর ২০২৬-এ প্রত্যাশিত |
| বাংলাদেশে দাম | এখনো ঘোষণা হয়নি |
নোট: ফোনটির চূড়ান্ত স্পেসিফিকেশন, ব্যাটারি ও বাংলাদেশি দাম আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর নিশ্চিত হবে।
উল্লেখ্য, ব্যাটারির ধারণক্ষমতাসহ কিছু স্পেসিফিকেশন চীনা বাজারের প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে। চূড়ান্ত সংস্করণের সব তথ্য আনুষ্ঠানিক লঞ্চের পর নিশ্চিত হবে।
বাংলাদেশের বাজারে iQOO Neo 12-এর অফিসিয়াল দাম এখনো ঘোষণা করা হয়নি। তাই এই মুহূর্তে নির্ভরযোগ্যভাবে নির্দিষ্ট কোনো বাংলাদেশি দাম বলা সম্ভব নয়।
তুলনা হিসেবে, বাংলাদেশে iQOO Neo 10-এর ৮ জিবি র্যাম ও ১২৮ জিবি স্টোরেজ সংস্করণের অনানুষ্ঠানিক বাজারদর ৫১,৫০০ টাকার কাছাকাছি দেখা গেছে। তবে এটি Neo 12-এর দাম নয়।
Neo 12-এর চূড়ান্ত দাম নির্ভর করবে চীনের বাজারমূল্য, আমদানি খরচ, কর, স্টোরেজ ভ্যারিয়েন্ট এবং বাংলাদেশে ফোনটি অফিসিয়ালি নাকি অনানুষ্ঠানিকভাবে বিক্রি হচ্ছে তার ওপর। তাই কোনো নির্দিষ্ট মূল্যকে এখনই বাংলাদেশি বাজারদর হিসেবে প্রচার করা ঠিক হবে না।
iQOO জানিয়েছে, Neo 12 চলতি অক্টোবর মাসে চীনে উন্মোচিত হবে। তবে বাংলাদেশে ফোনটির আনুষ্ঠানিক লঞ্চ, বিক্রির তারিখ কিংবা ওয়ারেন্টির বিষয়ে এখনো নিশ্চিত ঘোষণা পাওয়া যায়নি।
সব মিলিয়ে, ২K রেজল্যুশনের ১৮৫Hz ডিসপ্লে, নতুন pTSF OLED প্রযুক্তি, Snapdragon 8 Elite Gen 5 প্রসেসর এবং সক্রিয় কুলিং ফ্যান iQOO Neo 12-কে গেমিংপ্রেমীদের জন্য আকর্ষণীয় একটি সম্ভাব্য ফ্ল্যাগশিপ ফোনে পরিণত করেছে। তবে বাংলাদেশের ক্রেতাদের জন্য চূড়ান্ত দাম, স্থানীয় সংস্করণের স্পেসিফিকেশন ও ওয়ারেন্টি নিশ্চিত হওয়ার পর সিদ্ধান্ত নেওয়াই ভালো।
সোহাগ/
