মোবাইলে ৫০০ টাকা ইমার্জেন্সি ব্যালান্স, ফি কত?
নিজস্ব প্রতিবেদক: মোবাইল ফোনে জরুরি প্রয়োজনে নেওয়া ইমার্জেন্সি ব্যালান্সের সর্বোচ্চ সীমা ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে দেশের মোবাইল অপারেটরগুলো। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে গ্রাহকেরা প্রয়োজনের সময় আরও বেশি টাকা ধার নিয়ে মোবাইল ডেটা, মিনিট ও অন্যান্য প্যাকেজ কিনতে পারবেন। তবে বাড়তি ব্যালান্সের জন্য সেবা ফিও দিতে হতে পারে।
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সঙ্গে আলোচনা করে এ প্রস্তাব তৈরি করেছে মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন অ্যামটব। তবে নতুন নিয়ম কার্যকর করতে বিটিআরসির চূড়ান্ত অনুমোদন প্রয়োজন।
৫০০ টাকা ইমার্জেন্সি ব্যালান্স নিলে ফি কত?
প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০০ টাকার বেশি থেকে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা পর্যন্ত ইমার্জেন্সি ব্যালান্স নিলে সেবা ফি হতে পারে সর্বোচ্চ ১০ টাকা। এর সঙ্গে প্রযোজ্য কর যোগ হলে মোট ফি দাঁড়াতে পারে ১৩ টাকা ৯০ পয়সা।
বর্তমানে ২০০ টাকা পর্যন্ত ইমার্জেন্সি ব্যালান্স নিলে সেবা ফি ২ টাকা। করসহ গ্রাহককে দিতে হয় ২ টাকা ৭৮ পয়সা।
অর্থাৎ, প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে বেশি পরিমাণ ইমার্জেন্সি ব্যালান্স নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। তবে ব্যালান্সের পরিমাণ অনুযায়ী ফি কাঠামো চূড়ান্ত হওয়ার আগে গ্রাহকদের খরচ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে না।
কেন বাড়ানো হচ্ছে ইমার্জেন্সি ব্যালান্সের সীমা?
মোবাইল অপারেটরগুলোর দাবি, বর্তমান ২০০ টাকার সীমায় অনেক সময় গ্রাহকেরা প্রয়োজনীয় ডেটা বা মিনিটের প্যাকেজ কিনতে পারেন না। উদাহরণস্বরূপ, কোনো প্যাকেজের দাম ৩১০ টাকা হলে ২০০ টাকা ইমার্জেন্সি ব্যালান্স দিয়ে সেটি কেনা সম্ভব নয়।
রবির চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার সাহেদের ভাষ্য অনুযায়ী, সীমা বাড়ানো হলে গ্রাহকেরা প্রয়োজন অনুযায়ী বেশি দামের প্যাকেজ কেনার সুযোগ পাবেন।
অপারেটরগুলোর মতে, বর্তমানে ইমার্জেন্সি ব্যালান্সের আওতায় শুধু টাকা ধার নয়, মিনিট লোন, ডেটা লোন এবং ‘বাই নাও পে লেটার’ ধরনের সুবিধাও রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে গ্রাহক আগে সেবা ব্যবহার করেন, পরে রিচার্জের সময় বকেয়া টাকা ও প্রযোজ্য ফি পরিশোধ করেন।
কোন অপারেটরে কত টাকা ইমার্জেন্সি ব্যালান্স পাওয়া যায়?
বর্তমান ব্যবস্থায় গ্রামীণফোন, রবি ও বাংলালিংক সর্বোচ্চ ২০০ টাকা পর্যন্ত ইমার্জেন্সি ব্যালান্স দিয়ে থাকে। অন্যদিকে, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন টেলিটকে সর্বোচ্চ ৫০ টাকা পর্যন্ত এই সুবিধা পাওয়া যায়।
বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, দেশের চার মোবাইল অপারেটরের মোট গ্রাহকসংখ্যা ১৯ কোটির বেশি। অপারেটরগুলোর দাবি, চার প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকদের মধ্যে প্রতিদিন গড়ে ৩৫ লাখ মানুষ ইমার্জেন্সি ব্যালান্স নেন।
কীভাবে ৫০০ টাকা করার প্রস্তাব এল?
ইমার্জেন্সি ব্যালান্সের সীমা বাড়ানোর উদ্যোগে প্রথমে গ্রামীণফোন ২০২৬ সালের ৩ মার্চ বিটিআরসির কাছে সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যালান্স দেওয়ার অনুমতি চেয়ে চিঠি দেয়। এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২০ টাকা ফি রাখার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল।
তবে অন্য অপারেটরগুলো এককভাবে এ সুবিধা অনুমোদন করলে প্রতিযোগিতায় অসমতা তৈরি হতে পারে বলে আপত্তি জানায়। পরে সব অপারেটরের জন্য অভিন্ন প্রস্তাব তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয় অ্যামটবকে।
চলতি বছরের ২৩ জুলাই অ্যামটব বিটিআরসির কাছে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা পর্যন্ত ইমার্জেন্সি ব্যালান্স দেওয়ার প্রস্তাব জমা দেয়। প্রস্তাবে ১০ টাকা পর্যন্ত ব্যালান্সে কোনো ফি না রাখা, ১০ থেকে ২০০ টাকায় ২ টাকা এবং ২০০ থেকে ৫০০ টাকায় সর্বোচ্চ ১৫ টাকা ফি নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।
পরে ২০ আগস্ট বিটিআরসি ও অ্যামটবের আলোচনায় ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত ব্যালান্সের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০ টাকা সেবা ফি রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সব অপারেটর কি একমত?
অ্যামটব সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গ্রামীণফোন, রবি ও টেলিটক প্রস্তাবটিতে সম্মত হয়েছে। তবে বাংলালিংক ব্যালান্সের পরিমাণ অনুযায়ী ধাপে ধাপে সেবা ফি নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে।
বাংলালিংকের প্রস্তাবে ১১ থেকে ২০ টাকা ব্যালান্সের জন্য ২ টাকা, ২১ থেকে ৫০ টাকায় ৩ টাকা এবং ১৫১ থেকে ২০০ টাকায় ৬ টাকা ফি রাখার কথা বলা হয়েছে। আর ৪০১ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত ব্যালান্স নিলে ফি হতে পারে ১০ টাকা।
এ প্রস্তাব কার্যকর হলে কিছু ক্ষেত্রে ২০০ টাকার কম ইমার্জেন্সি ব্যালান্স নিলেও গ্রাহকদের বর্তমানের তুলনায় বেশি ফি দিতে হতে পারে।
কবে থেকে পাওয়া যাবে ৫০০ টাকা ইমার্জেন্সি ব্যালান্স?
ইমার্জেন্সি ব্যালান্সের সীমা ৫০০ টাকা করার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হলেও নতুন নিয়ম এখনো চূড়ান্তভাবে কার্যকর হয়নি। বিটিআরসির অনুমোদন ও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত গ্রাহকেরা বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী এই সুবিধা পাবেন।
তাই মোবাইলে ইমার্জেন্সি ব্যালান্স নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট অপারেটরের বর্তমান ব্যালান্সসীমা ও সেবা ফি যাচাই করে নেওয়া ভালো।
সোহাগ/
