মাত্র ১৭টি তৈরি, আইফোনের দাম ২৬ লাখ টাকা
নিজস্ব প্রতিবেদক: বিলাসিতার অনন্য সমন্বয়ে তৈরি হয়েছে বিশেষ সংস্করণের এক আইফোন, যার দাম সর্বোচ্চ প্রায় ২৬ লাখ টাকা। স্টার্লিং সিলভারে তৈরি এই ফোনের নাম দেওয়া হয়েছে ‘লিকুইড মেটাল’। আর সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, এর মাত্র ১৭টি ইউনিট তৈরি করেছে বিলাসবহুল পণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ক্যাভিয়ার।
ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যাপলের ভাঁজযোগ্য আইফোন ডুওকে ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে ক্যাভিয়ারের এই বিশেষ সংস্করণ। প্রযুক্তির সঙ্গে এতে যুক্ত করা হয়েছে মূল্যবান ধাতু, আয়নার মতো চকচকে ফিনিশ এবং ভাস্কর্যের আদলে বিশেষ নকশা।
যুক্তরাজ্যের বাজারে সাধারণ আইফোন ডুওর দাম ১ হাজার ৯৯৯ থেকে ৩ হাজার ১৯৯ পাউন্ডের মধ্যে। অন্যদিকে ক্যাভিয়ারের ‘লিকুইড মেটাল’ সংস্করণের সর্বোচ্চ দাম ২১ হাজার ৩৪০ ডলার। অর্থাৎ সাধারণ মডেলের তুলনায় এর দাম প্রায় ১০ গুণ বেশি।
স্টার্লিং সিলভারে তৈরি
‘লিকুইড মেটাল’ সংস্করণটি তৈরি করা হয়েছে স্টার্লিং সিলভার দিয়ে। ফোনের বাইরের অংশে ব্যবহার করা হয়েছে আয়নার মতো ঝকঝকে পলিশ। ফোন ভাঁজ খোলা ও বন্ধ করার সময় এর আকৃতির যে পরিবর্তন হয়, সেটিকেই নকশার মূল অনুপ্রেরণা হিসেবে নেওয়া হয়েছে।
ফোনটির শরীরে থাকা প্রবহমান ধাতব রেখাগুলো একে সাধারণ স্মার্টফোনের তুলনায় অনেকটাই ভাস্কর্যের মতো আলাদা চেহারা দিয়েছে।
দাম কত?
ফোনটির ধারণক্ষমতা অনুযায়ী দামও ভিন্ন।
২৫৬ জিবি: ১৮ হাজার ৮৪০ ডলার
৫১২ জিবি: ১৯ হাজার ২০০ ডলার
১ টেরাবাইট: ১৯ হাজার ৯১০ ডলার
২ টেরাবাইট: ২১ হাজার ৩৪০ ডলার
বাংলাদেশি মুদ্রায় সর্বোচ্চ দাম প্রায় ২৬ লাখ টাকা।
আইফোন ১৮ প্রো ও প্রো ম্যাক্সেও বিলাসবহুল সংস্করণ
শুধু ভাঁজযোগ্য আইফোন ডুও নয়, আইফোন ১৮ প্রো ও প্রো ম্যাক্সেরও বিশেষ সংস্করণ বাজারে এনেছে ক্যাভিয়ার। প্রতিষ্ঠানটি এসব মডেলের মাত্র ৭৬টি বিশেষ ইউনিট তৈরি করেছে। এগুলোর দাম ৭ হাজার ১৩০ থেকে ৮৮ হাজার ২৯০ ডলার পর্যন্ত।
এর মধ্যে ‘পালমেট ১৮কে’ মডেলে ব্যবহার করা হয়েছে ১৮ ক্যারেট সোনা ও শতাধিক হাতে বসানো হীরা। এমনকি ফোনের অ্যাপল লোগোকেও সাজানো হয়েছে মূল্যবান পাথর দিয়ে।
বিলাসবহুল আইফোন তৈরিতে ক্যাভিয়ার
বিলাসবহুল আইফোন তৈরিতে ক্যাভিয়ারের অভিজ্ঞতা অবশ্য নতুন নয়। এর আগেও প্রতিষ্ঠানটি আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্সের বিশেষ সংস্করণ তৈরি করেছিল। সেই সংস্করণে অ্যাপলের সহপ্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবসের বিখ্যাত কালো টার্টলনেক পোশাকের এক টুকরা কাপড় ব্যবহার করা হয়েছিল।
সব মিলিয়ে ক্যাভিয়ারের ‘লিকুইড মেটাল’ আইফোন সাধারণ স্মার্টফোনের গণ্ডি ছাড়িয়ে প্রযুক্তি, শিল্প ও বিলাসিতার এক বিরল সংমিশ্রণ হিসেবে আলোচনায় এসেছে। মাত্র ১৭টি ইউনিট তৈরি হওয়ায় সংগ্রাহকদের কাছেও এটি হয়ে উঠতে পারে বিশেষ আকর্ষণের পণ্য।
আশা/
