| ঢাকা, বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

আইফোন কেন এত জনপ্রিয়? জেনে নিন সুবিধা-অসুবিধা

বিশ্ব ডেস্ক . বিনোদন৬৯.কম
২০২৬ আগস্ট ১২ ২১:২২:৫৯
আইফোন কেন এত জনপ্রিয়? জেনে নিন সুবিধা-অসুবিধা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০০৭ সালের ৯ জানুয়ারি প্রযুক্তি দুনিয়ায় নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হয়। অ্যাপলের সহপ্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবস মঞ্চে উন্মোচন করেন প্রথম আইফোন। ফিজিক্যাল কিবোর্ডের পরিবর্তে পুরো স্ক্রিনজুড়ে টাচ ইন্টারফেস, ইন্টারনেট ব্রাউজিং এবং আইপডের সুবিধা একসঙ্গে নিয়ে আসা এই ডিভাইস বদলে দেয় মোবাইল ফোনের প্রচলিত ধারণা।

এরপর প্রায় দুই দশকে আইফোনের প্রযুক্তি ও ডিজাইনে এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। স্মার্টফোনের বাজারে অসংখ্য অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস থাকলেও আইফোন এখনো আলাদা অবস্থান ধরে রেখেছে। তুলনামূলক বেশি দাম থাকা সত্ত্বেও বিশ্বজুড়ে এর জনপ্রিয়তা কমেনি। বরং নতুন মডেল বাজারে এলেই ক্রেতাদের মধ্যে তৈরি হয় ব্যাপক আগ্রহ।

তবে আইফোনের যেমন বেশ কিছু সুবিধা রয়েছে, তেমনি রয়েছে কিছু সীমাবদ্ধতাও। তাহলে কেন এত জনপ্রিয় এই ফোন? আর এর প্রধান সুবিধা-অসুবিধাগুলোই বা কী?

আইফোন কেন এত জনপ্রিয়?

দীর্ঘমেয়াদি সফটওয়্যার আপডেট

আইফোনের অন্যতম বড় সুবিধা হলো দীর্ঘ সময় সফটওয়্যার সাপোর্ট পাওয়া। অ্যাপল নিয়মিত আইওএস ও নিরাপত্তা আপডেট দেওয়ার কারণে তুলনামূলক পুরোনো আইফোনও কয়েক বছর ব্যবহার করা যায়। এতে ডিভাইসের নিরাপত্তা ও সফটওয়্যার অভিজ্ঞতা দীর্ঘ সময় ভালো থাকে।

শক্তিশালী ইকোসিস্টেম

অ্যাপলের ইকোসিস্টেম আইফোনের জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ। আইফোনের সঙ্গে ম্যাক, আইপ্যাড ও অ্যাপল ওয়াচের সহজ সংযোগ ব্যবহারকারীর কাজ অনেক সহজ করে। AirDrop, Continuity-এর মতো ফিচারের মাধ্যমে এক ডিভাইস থেকে অন্য ডিভাইসে দ্রুত তথ্য বা কাজ স্থানান্তর করা যায়।

নিরাপত্তা ও প্রাইভেসি

ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য ও গোপনীয়তার ওপর অ্যাপল বরাবরই গুরুত্ব দিয়ে থাকে। আইওএসের নিয়ন্ত্রিত অ্যাপ পরিবেশ ও বিভিন্ন নিরাপত্তা ফিচারের কারণে আইফোনকে নিরাপদ স্মার্টফোনগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

ক্যামেরা ও ভিডিও

ছবি তোলার পাশাপাশি ভিডিও ধারণের ক্ষেত্রেও আইফোনের বেশ সুনাম রয়েছে। বিশেষ করে ভিডিওর স্থিতিশীলতা, রঙের ভারসাম্য এবং বিভিন্ন ভিডিও ফিচারের কারণে কনটেন্ট নির্মাতা ও ভ্লগারদের কাছে আইফোন জনপ্রিয়।

ভালো রিসেল ভ্যালু

অন্যান্য অনেক স্মার্টফোনের তুলনায় আইফোনের পুনর্বিক্রয়মূল্য বা রিসেল ভ্যালু সাধারণত ভালো থাকে। কয়েক বছর ব্যবহারের পরও পুরোনো আইফোন তুলনামূলক ভালো দামে বিক্রি করা সম্ভব। ফলে নতুন আইফোন কেনার সময় অনেকের কাছে এটি বাড়তি সুবিধা হিসেবে কাজ করে।

শক্তিশালী প্রসেসর

অ্যাপলের নিজস্ব চিপসেট আইফোনের অন্যতম শক্তিশালী দিক। দৈনন্দিন ব্যবহার থেকে শুরু করে গেমিং, ভিডিও এডিটিং ও মাল্টিটাস্কিংয়ের মতো ভারী কাজেও এসব চিপ ভালো পারফরম্যান্স দিতে সক্ষম।

আইফোন ব্যবহারের অসুবিধা

দাম তুলনামূলক বেশি

আইফোনের সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতার একটি হলো এর দাম। একই দামের অ্যান্ড্রয়েড ফোনের তুলনায় অনেক সময় আইফোন কেনার জন্য বেশি অর্থ ব্যয় করতে হয়। ফলে বাজেটের মধ্যে স্মার্টফোন খুঁজছেন এমন অনেক ক্রেতার জন্য এটি কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

কাস্টমাইজেশনের সুযোগ সীমিত

অ্যান্ড্রয়েড ফোনে থিম, লঞ্চার, আইকনসহ বিভিন্ন বিষয় নিজের পছন্দমতো পরিবর্তনের সুযোগ বেশি। আইফোনে কাস্টমাইজেশনের সুবিধা থাকলেও তা তুলনামূলকভাবে সীমিত। ফলে বেশি স্বাধীনভাবে ফোন সাজাতে চান এমন ব্যবহারকারীদের কাছে এটি সীমাবদ্ধতা মনে হতে পারে।

মাইক্রোএসডি কার্ডের সুবিধা নেই

আইফোনে সাধারণত মাইক্রোএসডি কার্ড ব্যবহারের সুযোগ নেই। তাই ফোন কেনার সময় প্রয়োজন অনুযায়ী স্টোরেজ বেছে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। পরবর্তী সময়ে স্টোরেজের প্রয়োজন বাড়লে ক্লাউড স্টোরেজের মতো বিকল্প ব্যবহার করতে হয়।

অ্যাপলের ইকোসিস্টেম ব্যয়বহুল

অ্যাপলের ইকোসিস্টেম ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা সহজ করলেও এর সঙ্গে যুক্ত ডিভাইস ও আনুষঙ্গিক পণ্যের দাম তুলনামূলক বেশি। আইফোনের পাশাপাশি অ্যাপল ওয়াচ, এয়ারপডস কিংবা অন্যান্য অরিজিনাল অ্যাকসেসরিজ কিনতে গেলে অতিরিক্ত খরচ হতে পারে।

চার্জিংয়ে প্রতিযোগীদের তুলনায় পিছিয়ে

অনেক অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনে বর্তমানে অত্যন্ত দ্রুতগতির ফাস্ট চার্জিং প্রযুক্তি দেখা যায়। সে তুলনায় আইফোনের চার্জিং প্রযুক্তি অনেক ক্ষেত্রে কম গতির। দ্রুত চার্জিংকে অগ্রাধিকার দেওয়া ব্যবহারকারীদের কাছে এটি একটি সীমাবদ্ধতা হতে পারে।

যেভাবে বদলেছে আইফোন

প্রথম আইফোন থেকে বর্তমান প্রজন্ম পর্যন্ত অ্যাপল প্রায় প্রতিটি পর্যায়েই নতুন প্রযুক্তি ও ডিজাইন যুক্ত করেছে। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মাইলফলক হলো:

২০০৭: প্রথম আইফোন বা iPhone 2G বাজারে আসে। মাল্টি-টাচ স্ক্রিনের মাধ্যমে স্মার্টফোন ব্যবহারে নতুন অভিজ্ঞতা তৈরি করে এটি।

২০০৮: iPhone 3G-এর সঙ্গে যুক্ত হয় 3G নেটওয়ার্ক ও App Store। ফলে আইফোনে তৃতীয় পক্ষের অ্যাপ ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়।

২০১০: iPhone 4 মডেলে আসে Retina Display এবং সামনের ক্যামেরা। FaceTime ভিডিও কলিংও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

২০১১: iPhone 4S-এর মাধ্যমে পরিচিত হয় অ্যাপলের ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট Siri।

২০১৪: iPhone 6 ও iPhone 6 Plus-এর মাধ্যমে অ্যাপল বড় স্ক্রিনের স্মার্টফোনের বাজারে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করে।

২০১৭: iPhone X-এর মাধ্যমে হোম বাটনের পরিবর্তে ফুল-স্ক্রিন ডিজাইন, Notch এবং Face ID চালু করা হয়।

২০২০: iPhone 12 সিরিজে প্রথমবারের মতো 5G কানেক্টিভিটি যুক্ত করে অ্যাপল।

সাম্প্রতিক প্রজন্ম: আইফোনে এসেছে Dynamic Island, টাইটানিয়াম বডি এবং USB Type-C পোর্টের মতো পরিবর্তন।

একনজরে আইফোনের মডেল

২০০৭: iPhone 2G

২০০৮: iPhone 3G

২০০৯: iPhone 3GS

২০১০: iPhone 4

২০১১: iPhone 4S

২০১২: iPhone 5

২০১৩: iPhone 5S, iPhone 5C

২০১৪: iPhone 6, iPhone 6 Plus

২০১৫: iPhone 6S, iPhone 6S Plus

২০১৬: iPhone SE (১ম প্রজন্ম), iPhone 7, iPhone 7 Plus

২০১৭: iPhone 8, iPhone 8 Plus, iPhone X

২০১৮: iPhone XR, iPhone XS, iPhone XS Max

২০১৯: iPhone 11, iPhone 11 Pro, iPhone 11 Pro Max

২০২০: iPhone SE (২য় প্রজন্ম), iPhone 12 Mini, iPhone 12, iPhone 12 Pro, iPhone 12 Pro Max

২০২১: iPhone 13 Mini, iPhone 13, iPhone 13 Pro, iPhone 13 Pro Max

২০২২: iPhone SE (৩য় প্রজন্ম), iPhone 14, iPhone 14 Plus, iPhone 14 Pro, iPhone 14 Pro Max

২০২৩: iPhone 15, iPhone 15 Plus, iPhone 15 Pro, iPhone 15 Pro Max

২০২৪: iPhone 16, iPhone 16 Plus, iPhone 16 Pro, iPhone 16 Pro Max

২০২৫: iPhone 16e, iPhone 17, iPhone Air, iPhone 17 Pro, iPhone 17 Pro Max

২০২৬: iPhone 17e

দীর্ঘমেয়াদি সফটওয়্যার সাপোর্ট, শক্তিশালী প্রসেসর, ভালো ক্যামেরা, নিরাপত্তা এবং অ্যাপলের সমন্বিত ইকোসিস্টেম আইফোনকে অন্য অনেক স্মার্টফোন থেকে আলাদা করেছে। অন্যদিকে বেশি দাম, সীমিত কাস্টমাইজেশন, মাইক্রোএসডি না থাকা এবং তুলনামূলক ধীর চার্জিংয়ের মতো বিষয়গুলো কিছু ব্যবহারকারীর জন্য অসুবিধার কারণ হতে পারে।

তাই আইফোন কেনার আগে শুধু জনপ্রিয়তার দিকে না তাকিয়ে নিজের বাজেট, ব্যবহারের ধরন, ক্যামেরা, ব্যাটারি, স্টোরেজ ও অন্যান্য প্রয়োজন বিবেচনা করাই সবচেয়ে ভালো।

সিদ্দিকা/

আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ

ক্রিকেট

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের অবস্থান, ফাইনালের সমীকরণ কী

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের অবস্থান, ফাইনালের সমীকরণ কী

নিজস্ব প্রতিবেদক: চলমান আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ২০২৫-২৭ চক্রে দারুণ অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। এখন পর্যন্ত ...

বিশ্বকাপের ৯ দল চূড়ান্ত, বাংলাদেশের সামনে বড় সমীকরণ

বিশ্বকাপের ৯ দল চূড়ান্ত, বাংলাদেশের সামনে বড় সমীকরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: আয়ারল্যান্ডকে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৯২ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের মূল পর্বে ...

ফুটবল

৯০ মিনিটের খেলা শেষ; ইন্টার মায়ামি বনাম মন্তেরে, জানুন ফলাফল

৯০ মিনিটের খেলা শেষ; ইন্টার মায়ামি বনাম মন্তেরে, জানুন ফলাফল

ক্রীড়া ডেস্ক: লিগস কাপের গ্রুপ পর্বের হাইভোল্টেজ ম্যাচে ইন্টার মায়ামিকে ২-১ গোলের ব্যবধানে পরাজিত করেছে ...

ইন্টার মায়ামি বনাম লিওন: লাইভ যেভাবে দেখবেন

ইন্টার মায়ামি বনাম লিওন: লাইভ যেভাবে দেখবেন

ক্রীড়া প্রতিবেদক: লিগস কাপ ২০২৬-এর গ্রুপ পর্বের হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ইন্টার মায়ামি ও ...