সোহাগ আহমদে
সিনিয়র রিপোর্টার
বাতিল হচ্ছে গণভোট অধ্যাদেশ
নিজস্ব প্রতিবেদক: সম্প্রতি অনুষ্ঠিত গণভোটের জন্য জারি করা বিশেষ অধ্যাদেশটি তার লক্ষ্য পূরণ করায় এখন অকার্যকর হতে যাচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই অধ্যাদেশের অধীনে নির্দিষ্ট গণভোটটি সম্পন্ন হয়ে যাওয়ায় এটিকে নতুন করে সংসদে বিল আকারে পেশ করে স্থায়ী আইনে পরিণত করার কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই।
আইনি বাধ্যবাধকতা ও বর্তমান অবস্থা:
সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ অধিবেশন শুরু হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে অধ্যাদেশগুলো সংসদে উত্থাপন ও অনুমোদন করতে হয়। সেই ধারাবাহিকতায় গণভোট অধ্যাদেশটিও সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই অধ্যাদেশের কার্যকারিতা কেবল ওই নির্দিষ্ট গণভোটের জন্যই ছিল। যেহেতু ভোট গ্রহণ শেষ, তাই এটি ভবিষ্যতে ব্যবহারের আর সুযোগ নেই।
সংসদে উত্থাপন ও ল্যাপস প্রক্রিয়া:
আইনপ্রণেতারা জানিয়েছেন, সীমানা নির্ধারণ বা আরপিও-র মতো অধ্যাদেশগুলোর ভবিষ্যৎ কার্যকারিতা থাকায় সেগুলো বিল আকারে এনে স্থায়ী আইন করা হয়। কিন্তু গণভোট অধ্যাদেশটি ব্যবহারের পর এর প্রয়োজন ফুরিয়ে গেছে। ৩০ দিনের সময়সীমার মধ্যে এটি পাস করা না হলে নিয়ম অনুযায়ী তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে অকার্যকর বা 'ল্যাপস' হয়ে যাবে। এতে করে পূর্ববর্তী গণভোটের বৈধতায় কোনো সংকট তৈরি হবে না।
বৈধতা নিয়ে সংশয় নিরসন:
অধ্যাদেশের অধীনে অনুষ্ঠিত গণভোটের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে জানানো হয়, এটি একটি আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই সম্পন্ন হয়েছে। সংসদে এটি উত্থাপন করার মাধ্যমেই সংবিধানের প্রাথমিক বাধ্যবাধকতা পূরণ হয়েছে। এরপর এটি বিল হিসেবে না আনলে কোনো আইনি জটিলতা সৃষ্টি হবে না, কারণ এটি সংবিধানের স্থায়ী কোনো অংশ ছিল না।
পরবর্তী পদক্ষেপ:
আসন্ন সংসদ অধিবেশনে আরও বেশ কিছু অধ্যাদেশ বিল আকারে আনার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। তবে সময় স্বল্পতার কারণে যেসব অধ্যাদেশ এই ১২ দিনের অধিবেশনে শেষ করা সম্ভব হবে না, সেগুলো পরবর্তী অধিবেশনে বিল আকারে আনা হতে পারে। কিন্তু গণভোট অধ্যাদেশের ক্ষেত্রে তেমন কোনো প্রয়োজনীয়তা দেখছে না সংশ্লিষ্ট বিভাগ।
সোহাগ/
