সোহাগ আহমদে
সিনিয়র রিপোর্টার
৬ মাত্রার ভূমিকম্পের শঙ্কা! ৪০০ কিমি নতুন ফাটলরেখা শনাক্ত
নিজস্ব প্রতিবেদক: সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গবেষকদের একটি দল বাংলাদেশের ভূগর্ভে আরেকটি সক্রিয় ভূগর্ভস্থ ফাটলরেখার (Faultline) সন্ধান পেয়েছে, যা দেশের ভূমিকম্প ঝুঁকি নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ফাটলরেখাটি সর্বোচ্চ ৬ মাত্রার ভূমিকম্প তৈরি করতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
এই ফাটলরেখাটি বাংলাদেশের জামালপুর ও ময়মনসিংহ থেকে শুরু হয়ে ভারতের কলকাতা পর্যন্ত বিস্তৃত।
ফাটলরেখাটিকে তিন ভাগে বিভক্ত
বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আক্তারুল আহসানের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশের গবেষকদের নিয়ে গঠিত একটি দল এই গবেষণাটি সম্পন্ন করেছে।
গবেষকরা ফাটলরেখাটিকে তিনটি প্রধান ভাগে বিভক্ত করেছেন:
* এক ভাগে স্বল্প মাত্রার ভূমিকম্পের ঝুঁকি রয়েছে।
* দ্বিতীয় ভাগে রয়েছে উচ্চ মাত্রার ভূমিকম্পের ঝুঁকি।
* তৃতীয় ভাগে ভূমিকম্পের কোনো ঝুঁকি নেই।
তবে ঠিক কোন অংশে ঝুঁকি বেশি, তা এখন বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করতে চাননি আক্তারুল আহসান। গবেষণার সম্পূর্ণ তথ্য আগামী ১৪-১৯ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানায় অনুষ্ঠিতব্য আমেরিকান জিওফিজিক্যাল ইউনিয়নের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে তুলে ধরা হবে।
ভূমিকম্পের ইতিহাসে সংযোগ
গবেষণায় দেখা গেছে, নতুন চিহ্নিত হওয়া এই ফাটলরেখার সঙ্গে অতীতের কয়েকটি বড় মাত্রার ভূমিকম্প এবং ব্রহ্মপুত্র নদের গতিপথ পরিবর্তনের সরাসরি সংযোগ রয়েছে।
* ১৮৮৫ সালের বেঙ্গল আর্থকোয়েক: এই ফাটলের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত অন্যতম ভূমিকম্প হলো ১৮৮৫ সালের ‘বেঙ্গল আর্থকোয়েক’, যার মাত্রা ৭ ছিল বলে ধারণা করা হয়। সেই ভূমিকম্পে ময়মনসিংহসহ শেরপুরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল।
* ১৯২৩ সালের ভূমিকম্প: ইউএসজিএস-এর ক্যাটালগে লিপিবদ্ধ ১৯২৩ সালের ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ এলাকার ৬.৯ মাত্রার ভূমিকম্পের সঙ্গেও এই নতুন ফাটলরেখার সংযোগ পাওয়া গেছে।
প্লেট টেকটোনিক্স: ৪.৬ সেন্টিমিটার গতি
গবেষণা অনুযায়ী, নতুন ফাটলটির জন্ম প্রায় ৫ কোটি ৬০ লাখ বছর আগে (ইউসিন যুগ)। এটি দীর্ঘ সময় নিষ্ক্রিয় থাকার পর বর্তমানে ইন্ডিয়ান প্লেট ও ইউরেশিয়ান প্লেটের ক্রমাগত চাপের ফলে আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
গবেষক আক্তারুল আহসান জানান, ইন্ডিয়ান প্লেট প্রতি বছর ৪৬ মিলিমিটার বা ৪.৬ সেন্টিমিটার করে ইউরেশিয়ান প্লেটের নিচে ঢুকে যাচ্ছে। এই গতিপথ পরিবর্তনের ফলেই ডাউকি ফাটল এবং নতুন আবিষ্কৃত এই ফাটলরেখার জন্ম।
সতর্কতা ও বিশেষজ্ঞদের বার্তা
সাম্প্রতিক ২১ ও ২২ নভেম্বরের ভূমিকম্পের (যার মধ্যে ২১ নভেম্বরের মাত্রা ছিল ৫.৭) পর এই নতুন ফাটলের খবর আরও বেশি উদ্বেগ তৈরি করেছে।
তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আশরাফুল আলম সতর্ক করে বলেন, ভূতাত্ত্বিক বাস্তবতা হলো এই অঞ্চলে আরও অনেক ফাটলরেখা আছে। কিন্তু ফাটলরেখা থাকা মানেই যে উচ্চমাত্রার ভূমিকম্প হবে, তা নিশ্চিত করে বলা যায় না।
গবেষকরা আশা করছেন, এই নতুন তথ্য দেশের নীতিনির্ধারকদের ভূমিকম্প মোকাবিলা এবং অবকাঠামো নির্মাণে আরও বেশি সতর্ক হতে সাহায্য করবে।
সোহাগ/
আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ
- নতুন পে স্কেল নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের বড় সিদ্ধান্ত: চূড়ান্ত হচ্ছে কাঠামো
- নতুন পে স্কেলের আগে মহার্ঘ ভাতা নিয়ে বড় সুখবর
- নতুন পে স্কেল ঝুলে থাকলেও মহার্ঘ ভাতা পাচ্ছেন কর্মচারীরা
- নবম পে স্কেলের পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা চূড়ান্ত: জানুন বিস্তারিত তথ্য
- নবম পে স্কেল চূড়ান্ত: সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতন কত বাড়ল
- আজকের সোনার বাজারদর: ১২ জানুয়ারি ২০২৬
- পে স্কেলে স্বতন্ত্র বেতন কাঠামো নিয়ে যা জানা গেল
- এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচী ঘোষণা
- নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন বিএনপির যেসব বিদ্রোহী নেতা
- পে স্কেলে ১:৮ অনুপাতে বেতন নির্ধারণ: চূড়ান্ত ঘোষণা ২১ জানুয়ারি
- পে স্কেল নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানালেন অর্থ উপদেষ্টা
- নির্বাচনের আগেই হচ্ছে পে-স্কেল!
- যার নির্দেশে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় মির্জা ফখরুলের উপর হামলা হয়
- আজ ১৮, ২১, ২২ ক্যারেট সোনার দাম
- জামায়াতসহ ১১ দলের সমঝোতা চূড়ান্ত; যা জানা গেল
