৯ শ্রেণির দলিলে নামজারি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ!
নিজস্ব প্রতিবেদক: ত্রুটিপূর্ণ সাবকবলা, শর্তসাপেক্ষ হেবা এবং খাসজমির ক্ষেত্রে নামজারি হবে না; ঘুষ ও প্রভাব রুখতে কঠোর নির্দেশনা
ঢাকা: জমির নামজারি প্রক্রিয়াকে আরও শৃঙ্খলিত করতে কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে ভূমি মন্ত্রণালয়। প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস ও ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদারের নির্দেশনা এবং ভূমি সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদের তত্ত্বাবধানে জারি হওয়া এই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সুনির্দিষ্ট নয় শ্রেণির দলিলভিত্তিক জমির নামজারি (মিউটেশন) আর কোনোভাবেই করা যাবে না।
নামজারির আবেদনকারী যাদের দলিলে নিম্নলিখিত ত্রুটি বা বৈশিষ্ট্য থাকবে, তাদের আবেদন এসিল্যান্ড (সহকারী কমিশনার-ভূমি) সাংবিধানিক ও আইনি নিয়ম অনুযায়ী প্রত্যাখ্যান করবেন।
যে নয় শ্রেণির দলিলে নামজারি নিষিদ্ধ করা হয়েছে
ভূমি মন্ত্রণালয় কর্তৃক চিহ্নিত নয়টি শ্রেণিকে সংক্ষেপে নিচে তুলে ধরা হলো:
১. ত্রুটিপূর্ণ সাবকবলা দলিল: দলিলে দাগ নম্বর, ক্রেতা/বিক্রেতার নাম-ঠিকানা, সনাক্তকারীর তথ্য, সাক্ষীর নাম অথবা চৌহদ্দি (জমির চারপাশের সীমানা) যদি ভুল বা অস্পষ্ট থাকে।
২. শর্তসাপেক্ষ হেবা দলিল: 'রক্ত সম্পর্ক' (উত্তরাধিকার) শ্রেণির মধ্যে পড়ে না এমন ১৪টি নির্দিষ্ট শর্তের বাইরে করা হেবা দলিল বা প্রতারণার মাধ্যমে তৈরি করা হেবা দলিলের নামজারি মঞ্জুর হবে না।
৩. প্রতারণার মাধ্যমে গৃহীত হেবা: আত্মীয়স্বজনের অসুস্থতা বা মানসিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে প্রতারণামূলকভাবে সম্পত্তি নামজারি করা হলে, তদন্তে প্রমাণ সাপেক্ষে সেটি বাতিলযোগ্য হবে।
৪. পূর্বে নামজারি করা হয়েছে এমন জমি: যে জমি ইতোমধ্যে অন্য কোনো ব্যক্তির নামে নামজারি হয়ে গেছে, সেই জমির জন্য পূর্বের দলিলের ভিত্তিতে নতুন করে নামজারি দেওয়া হবে না, যদি না আইনি প্রক্রিয়ায় (যেমন মিসকেস/খন্ডন) নতুন নির্দেশ আসে।
৫. অর্পিত সম্পত্তি সম্পর্কিত দলিল: জমি ক্রয়ের সময় যদি অর্পিত সম্পত্তি (অর্পন বা স্থায়ী ভবিষ্যৎ দাবি সংক্রান্ত) সংক্রান্ত কোনো বিষয় থাকে, তবে সেই জমির নামজারি আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হবে।
৬. খাস জমি সম্পর্কিত দলিল: জমির মধ্যে খাস জমি থাকা সত্ত্বেও যদি সেই অংশটি বিক্রয় করে দলিল করা হয়, তবে নামজারি বৈধ হবে না।
৭. অধিক অংশ দেখিয়ে দলিল: বিক্রেতা তার নিজের মালিকানার অংশের চেয়ে বেশি পরিমাণ জমি বিক্রয় করে থাকলে, সেই অতিরিক্ত অংশের জন্য নামজারি মঞ্জুর করা হবে না।
৮. বন্টননামা ছাড়া উত্তরাধিকার সম্পত্তি বিক্রয়: উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি বাটোয়ারা দলিল (বন্টননামা) ছাড়া বিক্রি করে নামজারি চাওয়া হলে তা মঞ্জুর হবে না। একাধিক অংশীদার থাকলে সবাই মিলে যৌথ আবেদন বা বাটোয়ারা দলিল আবশ্যক।
৯. চলমান মামলা আছে এমন সম্পত্তি: জমি বা মালিকানা বিষয়ক কোনো আইনি মামলা চলমান থাকলে, মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নামজারি করা হবে না। মালিকানা সুস্পষ্টভাবে নিশ্চিত হওয়ার পরই কেবল নামজারি দেওয়া যাবে।
ঘুষ ও প্রভাবমুক্ত করার উদ্যোগ
নির্দেশনায় ভূমি প্রশাসন জনগণের প্রতি সতর্কবার্তা দিয়েছে যে দলিল তৈরি ও নামজারি করার সময় ইতিবাচকভাবে দলিলের সঠিকতা নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক। এসিল্যান্ডদের প্রতি কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, এসব ক্ষেত্রে ঘুষ বা অন্য কোনো প্রভাব-কৌশল প্রয়োগ করা হলেও, তারা যেন নিয়ম অনুযায়ী নামজারি প্রত্যাখ্যান করেন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভূমি মন্ত্রণালয়ের এই নির্দেশনা নামজারি প্রক্রিয়াকে আরও শৃঙ্খলিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। তবে স্থানীয় রেজিস্ট্রি অফিসগুলোর কার্যপ্রণালী এবং মামলার নিষ্পত্তির ওপর এর বাস্তব প্রয়োগের সাফল্য নির্ভর করবে।
সেলিম/
আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ
- নতুন পে স্কেল ঝুলে থাকলেও মহার্ঘ ভাতা পাচ্ছেন কর্মচারীরা
- নতুন পে স্কেলের আগে মহার্ঘ ভাতা নিয়ে বড় সুখবর
- নির্বাচনের আগেই হচ্ছে পে-স্কেল!
- নবম পে স্কেল চূড়ান্ত: সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতন কত বাড়ল
- নবম পে স্কেলের পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা চূড়ান্ত: জানুন বিস্তারিত তথ্য
- এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচী ঘোষণা
- পে স্কেলে স্বতন্ত্র বেতন কাঠামো নিয়ে যা জানা গেল
- পে স্কেলে ১:৮ অনুপাতে বেতন নির্ধারণ: চূড়ান্ত ঘোষণা ২১ জানুয়ারি
- নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন বিএনপির যেসব বিদ্রোহী নেতা
- পে স্কেল নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানালেন অর্থ উপদেষ্টা
- আজ ১৮, ২১, ২২ ক্যারেট সোনার দাম
- জামায়াতসহ ১১ দলের সমঝোতা চূড়ান্ত; যা জানা গেল
- শীতের তীব্রতা আরও বাড়বে: যেসব জেলায় শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস
- নির্বাচনের আগে মহার্ঘ ভাতা পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা
- নবম পে-স্কেল নিয়ে বড় আপডেট: যা বললেন অর্থ উপদেষ্টা
