বিমান বিধ্বস্ত: আগুনের বিভীষিকা থেকে ফেরা শিক্ষকের লোমহর্ষক বর্ণনা
রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি এফ-৭ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৮ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় প্রাণে বেঁচে যাওয়া এক শিক্ষক সেই মুহূর্তের আকস্মিকতা ও বিভীষিকার এক লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন। তার মতে, ঘটনাটি এতটাই দ্রুত ঘটেছিল যে, কারো কোনো প্রতিক্রিয়া দেখানোর সুযোগই ছিল না।
বিমানটি যে ভবনের ওপর আছড়ে পড়েছিল, সেই ভবনে তখন শিক্ষার্থীরা ছুটির ঘণ্টার পর ক্লাস থেকে বের হওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছিল।
ওই শিক্ষক জানান, "ঠিক স্কুল ছুটির সময় ছিল। শিক্ষার্থীরা গেটে অপেক্ষা করছিল। কী ঘটছে তা বোঝার আগেই চারপাশে আগুন ছড়িয়ে পড়ল। মুহূর্তেই দৃষ্টিসীমা কমে এলো। আমি শুধু আগুন দেখতে পাচ্ছিলাম—তারপর ধোঁয়া।"
নিজের আঘাতের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, "আমার হাত পুড়ে গিয়েছে। শ্বাস নিতেও কষ্ট হচ্ছিল। আমার মুখ ও কান ঝলসে গেছে।"
এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত ওয়াশরুমে গিয়ে একটি ভেজা কাপড় দিয়ে নিজের নাক ঢাকেন তিনি। "কাছে থাকা বাচ্চাদেরও আমি একই কাজ করতে বললাম। তাদের অনেকের শার্টে ততক্ষণে আগুন ধরে গিয়েছিল। আমি তাদের নিচু হয়ে থাকতে এবং মুখ ঢাকতে বললাম," তিনি যোগ করেন।
ওই শিক্ষকের সঙ্গে তিনজন শিক্ষার্থী সেখান থেকে বের হয়ে আসতে সক্ষম হয়। তাদের মধ্যে গুরুতর দগ্ধ একজনকে সিএমএইচ-এর বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়।
শিক্ষক বলেন, "ওই শিক্ষার্থীর শরীরের কিছু অংশে চামড়া উঠে গিয়েছিল। আমি আমার পরা কাপড় দিয়ে তাকে মুড়িয়ে হাসপাতালে নিয়ে গেলাম। আমি নিজেও যন্ত্রণায় কাতর ছিলাম, কিন্তু নিজেকে স্থির রেখে অন্যদের শান্ত রাখার চেষ্টা করলাম।"
