চীন থেকে উড়ে রহস্যজনক ভাবে ইরানে গিয়ে উধাও যুদ্ধবিমান
নিজস্ব প্রতিবেদক: ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার মধ্যেই এক অদ্ভুত কাণ্ড ঘটেছে আকাশপথে। চীন থেকে উড্ডয়ন করা তিনটি রহস্যময় কার্গো বিমান ইউরোপের দিকে যাওয়ার কথা থাকলেও মাঝপথেই রাডার থেকে হারিয়ে যায় এবং শেষবার ইরান সীমান্তের কাছে দেখা যায়। এতে শুরু হয়েছে জল্পনা—চীন কি সরাসরি ইরানকে সামরিক সহায়তা দিচ্ছে?
ব্রিটিশ পত্রিকা দ্য টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, ইসরায়েলের হামলার পরদিনই চীন থেকে প্রথম বিমানটি উড্ডয়ন করে। এরপর দু’দিনে আরও দুটি কার্গো বিমান চীন থেকে উড়ে যায়। ফ্লাইট পরিকল্পনায় লক্ষ্য ছিল ইউরোপের লুক্সেমবার্গ, কিন্তু বাস্তবে সেগুলো ইউরোপের আকাশেই প্রবেশ করেনি।
বিমানগুলো উত্তর চীন থেকে কাজাখস্তান, উজবেকিস্তান ও তুর্কমেনিস্তান অতিক্রম করে ইরান সীমান্তে পৌঁছেই রাডার থেকে অদৃশ্য হয়ে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরণের বিমান সাধারণত সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত হয়। এসব বিমানের অপারেটরদের কেউ কেউ সরকারি প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় কাজ করে।
কার্গো বিমানের ভেতরে কি ছিল, তা স্পষ্ট নয়। তবে কিছু বিমান পরবর্তীতে তুর্কমেনিস্তান-ইরান সীমান্ত থেকে আবার উড্ডয়ন করে লুক্সেমবার্গের দিকে যায়। কিন্তু লুক্সেমবার্গভিত্তিক কোম্পানি কার্গোলাক্স দাবি করেছে, তারা ইরানের আকাশপথ ব্যবহার করে না। তবে তারা ওই ফ্লাইটগুলোতে কি পরিবহন করেছে, সে প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
ইসরায়েলের নিরাপত্তা বিশ্লেষক টুভিয়া গেরিং মনে করেন, চীন সরাসরি ইরানে অস্ত্র পাঠাচ্ছে—এমন সম্ভাবনা কম। কিন্তু বর্তমান ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই ঘটনাগুলো নজরদারির দাবি রাখে। ইরানে সরকার পতনের মতো বড় ঘটনা হলে, তা চীনের মধ্যপ্রাচ্য নীতি ও জ্বালানি স্বার্থকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
চীন হয়তো এখনো সরাসরি সামরিক পদক্ষেপে যায়নি, তবে পর্দার আড়ালে বড় কোনো চাল চালছে বলেই ধারণা বিশ্লেষকদের। এই বিমান চলাচল ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের আঁচ যেমন সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে, তেমনি ছড়িয়ে পড়ছে কূটনৈতিক ও সামরিক সরঞ্জামের বাণিজ্যে। আর এই অদৃশ্য কার্গো ফ্লাইটগুলো যেন সেই যুদ্ধের নতুন রহস্যময় অধ্যায়।
আশা/
