সমবয়সী না ছোট—কাকে বিয়ে করা উত্তম
নিজস্ব প্রতিবেদক: অনেকেই দ্বিধায় থাকেন—সমবয়সী মেয়েকে বিয়ে করা ভালো, নাকি নিজের চেয়ে কয়েক বছরের ছোট কাউকে? ইসলামের আলোকে এই বিষয়টি বুঝতে হলে আমাদের কিছু দিক বিবেচনায় আনতে হবে।
সমবয়সী বা কাছাকাছি বয়সের মেয়েকে বিয়ে করলে সাধারণত পারস্পরিক বোঝাপড়া ভালো হয়। দাম্পত্য জীবনে একে অপরকে সহজে বুঝতে পারা, বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠা, মতের মিল—এসব কারণে সমবয়সী বিয়ে অনেক সময়েই সুন্দর ও স্থিতিশীল হয়।
এই বিষয়ে একটি প্রাসঙ্গিক ঘটনা হাদিসে পাওয়া যায়। এক সাহাবী একজন বিধবা নারীকে বিয়ে করেন যিনি সন্তানসহ ছিলেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) তখন তাকে বলেছিলেন, “তুমি কি কুমারী কাউকে বিয়ে করতে পারতে না? তাহলে তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া আরও ভালো হতো।” (মুসলিম শরীফ)
এখান থেকে বোঝা যায়, সাধারণভাবে নবীজী (সা.) সমবয়সী বা নিজের চেয়ে ছোট এবং কুমারী নারীকে বিয়ের ক্ষেত্রে উৎসাহ দিতেন, যাতে দাম্পত্য জীবনে অধিক ঘনিষ্ঠতা ও বন্ধন তৈরি হয়।
তবে এর মানে এই নয় যে তালাকপ্রাপ্ত, বিধবা বা সন্তানসহ নারীকে বিয়ে করা অনুচিত। বরং যদি কোনো নারী অসহায় হন, বা তার জীবনে নিরাপত্তা ও সহমর্মিতা দরকার হয়, এবং সেই মমত্ববোধ থেকে কেউ তাকে বিয়ে করেন, তাহলে সেটিও অত্যন্ত উত্তম কাজ এবং এতে অনেক সওয়াব আছে।
আসলে কারও বয়স বড় না ছোট—তা নয়, বরং সম্পর্কের গভীরতা, পারস্পরিক সম্মান, বোঝাপড়া ও নিয়ত—এসবই মূল বিষয়।
তাই সাধারণ অবস্থায় সমবয়সী বা কাছাকাছি বয়সের কাউকে বিয়ে করাই উত্তম হলেও, প্রেক্ষাপট ভেদে অন্যরকম সিদ্ধান্তও নেয়া যেতে পারে—সেখানে নিয়ত ও উদ্দেশ্যই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সোহাগ/
