শবে কদরের নামাজের নিয়ম ও দোয়া
শবে কদরের ফজিলত ও ইবাদতের নিয়ম: যেভাবে কাটাবেন মহিমান্বিত এই রাত
নিজস্ব প্রতিবেদক: পবিত্র রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোর মধ্যে লুকিয়ে আছে শবে কদর। ফারসি শব্দ ‘শব’ মানে রাত আর ‘কদর’ মানে সম্মান বা ভাগ্য। অর্থাৎ এটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ এবং ভাগ্য নির্ধারণের রাত। এই রাতে ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ও গুনাহ মাফের সুযোগ পান মুমিন মুসলমানরা।
ইবাদতের পদ্ধতি ও নামাজ
শবে কদরের জন্য বিশেষ কোনো ধরাবাঁধা নামাজের নিয়ম নেই। এই রাতে দুই রাকাত করে যত খুশি নফল নামাজ পড়া যায়। নামাজের জন্য আরবিতে নিয়ত করা জরুরি নয়, মন থেকে উদ্দেশ্য স্থির করলেই হয়। তবে কেউ চাইলে এভাবে নিয়ত করতে পারেন: “আমি কাবামুখী হয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য শবে কদরের দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ার নিয়ত করছি, আল্লাহু আকবার।”
সুরা পাঠ ও আমল
অনেকে মনে করেন এই রাতে নির্দিষ্ট কিছু সুরা পড়তে হবে, তবে এর কোনো বিশেষ বাধ্যবাধকতা বা ভিত্তি নেই। আপনি যেকোনো সুরা দিয়েই নামাজ পড়তে পারেন। তবে সুরা কদর ও সুরা ইখলাস বেশি করে তেলাওয়াত করা উত্তম। নামাজের পাশাপাশি কুরআন তেলাওয়াত, জিকির, তওবা-ইস্তেগফার এবং কবর জিয়ারত করার মাধ্যমে এই রাত অতিবাহিত করা যায়।
শবে কদরের বিশেষ দোয়া
হজরত আয়েশা (রা.) যখন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে জানতে চেয়েছিলেন শবে কদরে কোন দোয়াটি করা উচিত, তখন নবীজি এই দোয়াটি শিখিয়েছিলেন:“আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন, তুহিব্বুল আফওয়া ফাফু আন্নি।”অর্থ: হে আল্লাহ, আপনি মহানুভব ক্ষমাশীল। আপনি ক্ষমা করতে পছন্দ করেন। অতএব আপনি আমাকে ক্ষমা করুন। (তিরমিজি)
কবে শবে কদর
কোরআন ও হাদিসে শবে কদরের কোনো নির্দিষ্ট তারিখ বলা হয়নি। তবে রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে (২১, ২৩, ২৫, ২৭ ও ২৯তম রাত) শবে কদর তালাশ করার নির্দেশনা দিয়েছেন। তাই প্রতিটি বেজোড় রাতেই ইবাদতে মগ্ন থাকা মুমিনদের জন্য বুদ্ধিমানের কাজ।
আশা/
