কিভাবে ভারত পাকিস্তানের বড় ভাই হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ
নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকার বিকেলটা আজ এক অদ্ভুত শান্তিতে ভরা। গাছের পাতায় ঝিরঝিরে আলো পড়ে, আকাশে কিছু সাদা মেঘ ভেসে বেড়াচ্ছে। প্রধান উপদেষ্টার অফিসের জানালায় ঝুলে থাকা আলোতে কাঁপছে এক নতুন স্বপ্নের রেখা। একসময় এই শহর ছিল স্বাধীনতার সংগ্রামের অগ্নিকুণ্ড। এখানেই লাল সূর্য উঁকি দিয়েছিল গোলাগুলির ধোঁয়ার ভেতর দিয়ে। আজও সেই শহরে আগুন জ্বলছে, তবে এখন আর তা স্বাধীনতার সংগ্রাম নয়; এখন সেই আগুন জ্বলছে রাজনৈতিক আলোয়, ইতিহাসের নতুন অধ্যায়ের দিকে।
এই শহরের প্রাণে দাঁড়িয়ে, ড. মোহাম্মদ ইউনুস, নোবেল পুরস্কৃত অর্থনীতিবিদ, শুধু অর্থনীতির মঞ্চে নয়, বাংলাদেশের কূটনৈতিক ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায়ের স্থপতি হয়ে উঠেছেন। বাংলাদেশে, রাজনীতিতে বরাবর দুই ধরনের মেরু ছিল—একপক্ষ ভারতের দিকে তাকিয়ে দেশ পরিচালনার নীতি নির্ধারণ করত, যেন বাংলাদেশ ছিল ভারতের করদ রাজ্য। আর অন্যপক্ষ ছিল যারা চাইত বাংলাদেশ পাকিস্তানের আদলে ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্র গঠন করতে। এই দুই বিপরীত চিন্তা-ধারার মাঝখানে পড়ে, জনগণ হারিয়েছিল তাদের স্বাধীন চেতনা ও জাতীয় গর্ব।
কিন্তু এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসেছেন একজন নেতা, প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইউনুস। তিনি প্রমাণ করেছেন, বাংলাদেশ মানে বাংলাদেশ। ভারত বা পাকিস্তান, কারও সঙ্গে তুলনা নয়; সম্পর্ক হবে ন্যায্যতা ও সমতার ভিত্তিতে। নতুন সরকারের কিছু অংশ ভারতবিরোধী বলে চিহ্নিত করার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু যখন ড. ইউনুস সরকার পাকিস্তানকে ১৯৭১ সালের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার এবং বাংলাদেশের পাওনা ৪.৫ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণের দাবি তুললেন, তখন সেই প্রোপাগান্ডা একেবারে উড়ে গেছে।
ড. ইউনুসের কূটনীতি এখন বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে। তিনি পাকিস্তানকে ক্ষমা চাইতে ও ক্ষতিপূরণ দিতে বললেন, যা দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক পরিবেশে একটি ঐতিহাসিক মোড় এনে দিল। বাংলাদেশ ঘোষণা করল, সে আর কারো অধীনস্থ নয়, এবং ভারতকে একবার ভাবতে বাধ্য করেছে।
ভারত বহু বছর ধরে বাংলাদেশকে তার ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে ব্যবহার করেছে। তিস্তা চুক্তি আটকে আছে, সীমান্তে হত্যাকাণ্ড চলছে, অথচ দিল্লি এসবের বিরুদ্ধে নীরব। এমন এক সময়ে, যখন পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের সম্ভাবনা উন্মুক্ত হচ্ছে, ভারতীয় কূটনীতি প্রশ্নের মুখে পড়ছে। ভারতীয় জনগণ হয়তো প্রশ্ন তুলতে শুরু করবে, কেন পাকিস্তান অতীত ভুল মেনে সম্পর্ক গড়ছে, অথচ ভারত এখনও দাদাগিরির ভুমিকায় দাঁড়িয়ে আছে?
বছরের পর বছর, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বাংলাদেশকে ভারতের ছায়া বা পাকিস্তানের অতীত হিসেবে দেখানো হতো। কিন্তু এই বদ্ধচক্র থেকে বেরিয়ে এসেছেন প্রফেসর ইউনুস। তার নেতৃত্বে আজ দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি এক নতুন দৃষ্টিকোণে পরিণত হচ্ছে। বাংলাদেশ আর কারো ছোট ভাই নয়, আজ বাংলাদেশ তার নিজের পরিচয়ে বড় ভাই হতে চায়।
শেখ হাসিনার বিদায়ের পর, ভারত যখন পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথ খুঁজছে, তখন পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের সম্ভাবনা ভারতীয় কৌশলকে চ্যালেঞ্জ করছে। সামাজিক মাধ্যমে বিদ্রুপ ছড়াচ্ছে—ভারত যা পারেনি, ইউনুস তা করে দেখাচ্ছেন। তাকে ভারতবিরোধী প্রমাণ করার ব্যর্থতা এখন স্পষ্ট।
এই পরিবর্তনের মূল কথা হলো, বাংলাদেশ এখন আর ভারতের কিংবা পাকিস্তানের ছায়া নয়; বরং তার নিজস্ব কূটনীতি এবং আত্মবিশ্বাসের উপর দাঁড়িয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিষ্ঠা করছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি এখন বহুমুখী, যেখানে চীন, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, সৌদি আরব—সব দেশের সঙ্গে ভারসাম্য রেখে নিজের অবস্থান তৈরি করছে।
এখন বিকেল শেষ, সন্ধ্যা আসছে। প্রধান উপদেষ্টার সরকারি অফিসের ছাদে বৈদ্যুতিক আলো জ্বলছে। ড. ইউনুস জানেন, দেশ কখনও সীমানা বা পারমাণবিক শক্তিতে বড় হয় না। নতুন বিশ্বের সবচেয়ে বড় শক্তি হল একটি দেশের কৌশলগত অবস্থান। ভারত ও পাকিস্তান যখন নিজেদের আধিপত্য নিয়ে ব্যস্ত, তখন বাংলাদেশ তার কৌশলগত অবস্থান ব্যবহার করে দক্ষিণ এশিয়ার গতি নির্ধারণ করবে। এখন, ভারত বা পাকিস্তানি চোখ বন্ধ করলে, তারা যতদূর নিজেদের দেশ দেখতে পায়, বাংলাদেশও ততদূরই দৃশ্যমান।
এটাই ইতিহাসের প্রথমবারের মতো: বাংলাদেশ আর কারো অনুগামী নয়; সে নিজেই পথ দেখাবে।
সোহাগ/
আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ
- বাংলাদেশে ঈদ কবে!
- আজকের সোনার বাজারদর: ১৬ মার্চ ২০২৬
- ঈদের ছুটি নিয়ে আসলো নতুন নির্দেশনা
- বৃষ্টিবলয় ‘গোধূলি’: ৮০ কিমি বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস ও সতর্কবার্তা
- এক মসজিদে ১৬০০ মুসল্লির ইতিকাফ: এসেছেন ৮ দেশের নাগরিকও
- আজকের সকল টাকার রেট: ১৬ মার্চ ২০২৬
- ঈদের ছুটিতে খোলা থাকবে যেসব ব্যাংক
- দেশের বাজারে আজকের স্বর্ণের দাম
- শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মচারীদের অনুদান, আবেদন করুন এখানে
- হাসপাতালে ভয়াবহ আগুন: ১০ রোগীর মৃত্যু
- ১৫ জেলায় ৮০ কিমি বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস
- ভিসা ছাড়াই বিদেশ ভ্রমণ: বাংলাদেশিদের জন্য ৪০টি দেশের তালিকা
- পাকিস্তানকে হারিয়ে সুখবর পেল বাংলাদেশ
- অর্থসংকটে সরকার: নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা
- যে কারনে বাতিল হল ফিনালিসিমা
