বাংলাদেশের ছাত্র সংগঠন ছাত্রদল-শিবির-এনসিপির আয়ের উৎস কি
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের প্রধান ছাত্র সংগঠনগুলো তাদের অর্থের উৎস নিয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপির ছাত্র সংগঠন ছাত্রদল এবং জামায়াতে ইসলামী-সমর্থিত ছাত্রশিবির একে অপরের অর্থ সংগ্রহের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। একই সঙ্গে, গণ-অভ্যুত্থানের ছাত্র নেতাদের নতুন দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র অর্থায়ন নিয়েও আলোচনা চলছে।
সম্প্রতি, ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতারা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তাদের অর্থের উৎস ব্যাখ্যা করেছেন, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অন্যদিকে, ছাত্রদলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাবাজি ও দখলের অভিযোগ উঠেছে, যা ছাত্রলীগের বিরুদ্ধেও অতীতে শোনা গেছে। ছাত্রদলের এসব অভিযোগকে 'অপরিপক্ক' বলে উল্লেখ করেছে ছাত্রশিবির।
ছাত্রদলের অর্থের উৎস
শেখ হাসিনার সরকার আমলে ছাত্রদল প্রকাশ্যে সক্রিয় হতে পারেনি, কারণ ছাত্রলীগের আধিপত্য ছিল প্রবল। তবে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়, চাঁদাবাজি, তদবির ও সন্ত্রাসের অভিযোগ ছিল। গত আগস্টে সরকার পরিবর্তনের পর, ছাত্রদল প্রকাশ্যে রাজনীতি শুরু করলে বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে তাদের টাকা চাওয়ার অভিযোগ ওঠে।
ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম জানিয়েছেন, তাদের সংগঠনের জন্য অর্থ আসে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের গঠিত 'বিএনপি পরিবার' নামক একটি সংগঠন থেকে। এছাড়া, সাবেক নেতৃবৃন্দ ব্যক্তিগতভাবে দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অর্থ ব্যয় করেন।
শিবিরের অর্থের উৎস
ছাত্রশিবির সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক কর্মসূচি চালাচ্ছে, যার মধ্যে ইফতার বিতরণ অন্যতম। ছাত্রদল যখন শিবিরের অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তোলে, তখন শিবির জানায়, তারা প্রতিদিন প্রায় তিন লাখ টাকা ব্যয় করে, তবে এটি অনুমাননির্ভর তথ্য।
শিবিরের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম সাদ্দাম জানিয়েছেন, তাদের সদস্যরা স্বেচ্ছায় দান করেন এবং সাবেক সদস্যরা নিয়মিত 'এয়ানত' (দান) দিয়ে থাকেন। এছাড়া, শিবিরের প্রকাশনা সামগ্রীর বিক্রি থেকেও কিছু অর্থ আসে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অর্থের উৎস
গণ-অভ্যুত্থান থেকে উঠে আসা ছাত্রনেতাদের গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র বিশাল সমাবেশ ও অন্যান্য কার্যক্রমের ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে, দলটির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করা হয়নি। এনসিপির দাবি, তারা মূলত তরুণ পেশাজীবীদের অনুদানের মাধ্যমে অর্থ পেয়ে থাকে।
বিশ্লেষকদের মতামত
বিশ্লেষকরা মনে করেন, বাংলাদেশে ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে অর্থ সংগ্রহের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, "ক্ষমতার পরিবর্তন হলেও চাঁদাবাজির সংস্কৃতি থেকে কেউ বের হতে পারেনি। শুধু ব্যানার পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু অর্থ সংগ্রহের পুরনো পদ্ধতিই বহাল রয়েছে।"
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কাজী মারুফুল ইসলাম বলেছেন, "বাংলাদেশে রাজনৈতিক দলগুলোর অর্থায়নের স্বচ্ছতা নেই। নির্বাচনি তহবিল ও রাজনৈতিক দলগুলোর ব্যয় পরিচালনার বড় অংশই চাঁদাবাজির মাধ্যমে আসে।"
এই পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন আনতে হলে ছাত্র সংগঠনগুলোর আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। বর্তমানে, অর্থের উৎস নিয়ে স্পষ্টতা না থাকায় জনগণের মধ্যে সন্দেহ ও বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে।
বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতিতে ক্ষমতার পরিবর্তন হলেও অর্থ সংগ্রহের অনিয়ম রয়ে গেছে। যদি এই অবস্থা চলতে থাকে, তবে ভবিষ্যতেও ছাত্র সংগঠনগুলোর প্রতি জনগণের আস্থা কমতে থাকবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ
- কেন পে-স্কেল দিতে পারল না অন্তর্বর্তী সরকার? আসল কারণ জানালেন শফিকুল আলম
- সরকারি কর্মচারীদের জন্য বড় সুখবর
- নতুন সরকারি ছুটি বাড়ল একদিন
- আজকের সোনার বাজারদর: ২১ এপ্রিল ২০২৬
- Bangladesh Women Vs Sri Lanka Women; লাইভ দেখুন এখানে
- নতুন পে-স্কেল নিয়ে বড় আপডেট: কবে বাড়তে পারে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন
- আজকের সকল টাকার রেট: ২১ এপ্রিল ২০২৬
- আজকের সোনার বাজারদর: ২২ এপ্রিল ২০২৬
- বাজেট অধিবেশনের আগে পে-স্কেল বাস্তবায়নের কর্মসূচি আসছে
- নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে বড় পদক্ষেপ
- গ্যাস সরবরাহে নতুন সরকারি নির্দেশনা
- হু হু করে বাড়ল সৌদি রিয়ালের বিনিময় হার
- আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা ও রুপা
- আজকের সকল টাকার রেট: ২২ এপ্রিল ২০২৬
- বাড়ল সিঙ্গাপুর ডলারের বিনিময় হার
