| ঢাকা, সোমবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২৩, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪৩০

বাংলাদেশ হেরে যাক কিন্তু ৫০ ওভার কেন খেলতে পারছে না হতাশ ক্রিকেট প্রেমীরা

২০২৩ সেপ্টেম্বর ২৩ ২২:১০:৩৩
বাংলাদেশ হেরে যাক কিন্তু ৫০ ওভার কেন খেলতে পারছে না হতাশ ক্রিকেট প্রেমীরা

বোলিংয়ে ভালো শুরু করলেও মধ্য ওভারে সেই দাপট ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ। যার ফলে লড়াই লড়াই করার মতো পুজি পেয়েছে নিউজিল্যান্ড। রান তাড়া করতে গিয়ে অধিনায়ক লিটন দাসের উইকেট হারানোর পর দুই তামিমের ব্যাটে ভালোই এগিয়ে যায় টাইগাররা। কিন্তু এক ইশ সোধিতে সামলাতেই হিমসিম খেয়েছে লাল সবুজের দল। এই কিউই লেগ স্পিনারের ঘুর্ণির কাছেই বড় ব্যবধানে হার মানল বাংলাদেশ।

শনিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৪৯.২ ওভারে ২৫৪ রান করে নিউজিল্যান্ড। জয়ের জন্য ২৫৫ রানের টার্গেট নিয়ে বাংলাদেশ দল ৪১ ওভার ১ বলে সবকটি উইকেট হারিয়ে ১৬৮ রান করে। এতে ৮৬ রানের জয়ে তিন ম্যাচ সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গেল সফরকারীরা।

নিউজিল্যান্ডের ২৫৪ রান তাড়া করতে নেমে প্রথম ওভারেই প্রাণ ফিরে পান লিটন। ট্রেন্ট বোল্টের বলে এমবিডব্লিউর আবেদনে সাড়া দিয়ে দেন আম্পায়ার। তবে রিভিউ নিয়ে সে যাত্রায় বেঁচে যান ডানহাতি এই ব্যাটার। তবে জীবন পেয়েও ইনিংস বড় করতে পারেননি তিনি। ব্যক্তিগত ৬ রানে সাজঘরের পথ ধরেন টাইগার ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক।

এরপর ব্যাট করতে আসেন তরুণ খেলোয়াড় তানজিৎ হাসান তামিম। বড় তামিম ও ছোট তামিম ৪১ রানের জুটি গড়েন। তবে এশিয়া কাপের মতো ঘরের মাটিতে যে সুযোগ পেয়েছেন তা কাজে লাগাতে পারেননি জুনিয়র তামিম। ১২ বলে ১৬ রান করে বিদায় নিতে হয় তাকে। ইশ সোদির এই ব্যাটসম্যানকে বোল্ড করে লকি ফার্গুসনের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট করেন।

একই ওভারে বিদায় নেন সৌম্য সরকারও। ২০২১ সালের পর ওয়ানডেতে ফিরেছিলেন সৌম্য সর্বশেষ ম্যাচ দিয়ে। তবে বৃষ্টিতে এক ইনিংসও হতে পারেনি সে ম্যাচে, সৌম্যও ব্যাটিং পাননি। আজ পেলেন। তবে ২ বছর পর ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়ে ২ বল টিকলেন শুধু। ইস সোধির হাতে রিটার্ন ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান তিনি।

সম্ভাবনার মৃত্যু ঘটলো তাহিদ হৃদয়ের আউট হওয়ার মধ্য দিয়ে। ৭ বল খেলে ৪ রান করলেন তিনি। এরপরই বোল্ড হয়ে গেলেন ইশ সোধির বলে। ৭০ রানের মাথায় পতন ঘটলো বাংলাদেশের ৪ উইকেটের। এরপর দলীয় ৯২ রানের মাথায় বিদায় নেন তামিমও। ৮০ দিন পর ব্যাট হাতে নেমে ৫৮ বলে ৪৪ রান করেন বাঁহাতি এই ব্যাটার।

টপ অর্ডারের পর ব্যর্থ মিডল অর্ডার ব্যাটাররাও ব্যর্থ। এমন সময় উইকেটে আসেন মেহেদি হাসান। উইকেটে এসে খুব একটা যে স্বস্তিতে ছিলেন তা বলা যাবে না। শেষ পর্যন্ত আউটও হয়েছেন অনেকটা অস্বস্তিতেই। সোধির সোজা বল পেছনের পায়ে ভর দিয়ে খেলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ব্যাটে-বলে করতে পারেননি। ১৭ রান করা মেহেদিকে বোল্ড করে ইনিংসে ব্যাক্তিগত পঞ্চম উইকেট শিকার করেন সোধি। বাংলাদেশের আশার আলো হয়ে তখনও উইকেটে ছিলেন মাহমুদউল্লাহ।

তবে মাহমুদউল্লাহর লড়াই বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। বলটি ছেড়ে দিলে নিশ্চিত ওয়াইড হতো। অথচ পার্ট টাইমার কোল ম্যাকনকির সে বলটি মাহমুদউল্লাহ মারলেন সরাসরি ফাইন লেগে থাকা ফিল্ডারের হাতে! সেটিও আবার ৪৯ রানে দাঁড়িয়ে থেকে। উইকেট পাওয়ার পর ম্যাকনকির হাসিই বলছিল, এ উইকেট আশা করেননি তিনি কোনোভাবেই!

আজকের দিনটাই বোধহয় সোধির। এই স্পিনারের ফুল লেন্থের বলে হাসান কিছুই করতে পারলেন না। স্টাম্প উপড়ে গেছে। ফলে সোধি পেয়েছেন ষষ্ঠ উইকেট। যা তার ক্যারিয়ার সেরা। একই ওভারের শেষ বলে ক্যাচ মিস না হলে ৭ উইকেট পেতে পারতেন। তবে তা হয়নি। ৬ উইকেট নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে। এরপর বাংলাদেশও আর বেশি দূর এগোতে পারেনি। ৪ বলের ব্যবধানে শেষ দুই উইকেট হারিয়ে ১৬৮ রানে থামে স্বাগতিকরা।

এর আগে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে মুস্তাফিজুর রহমান ও খালেদ আহমেদের বোলিং তোপে ৩৬ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে যায় নিউজিল্যান্ড। সেখান থেকে হেনরি নিকোলস ও টম ব্লান্ডেল জুটিতে শুরুর সেই বিপর্যয়ে কাটিয়ে উঠে কিউইরা। চতুর্থ উইকেটে তারা দুজনে মিলে ১১১ বলে ৯৫ রানের জুটি গড়েন। নিকোলসকে ৪৯ রানে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন খালেদ।

নিকোলস ফিফটিবঞ্চিত হলেও আরেক ব্যাটার ব্লান্ডেল ঠিকই তুলে নেন ফিফটি। হাসান মাহমুদের বলে বোল্ড হওয়ার আগে ৬৬ বলে ৬৮ রান করেন উইকেটকিপার এই ব্যাটার। তবে লোয়ার অর্ডারে ইশ সোদি ৩৫, কাইল জেমিসন ২০ ও কোলে ম্যাকোনলির ২০ রানে নির্ধারিত সময়ের আগেই ৪৯.২ ওভারে অলআউট হওয়ার আগে স্কোরবোর্ডে ২৫৪ রান সংগ্রহ করে নিউজিল্যান্ড।

বাংলাদেশের হয়ে বোলিংয়ে ৩ উইকেট শিকার করেন শেখ মাহেদি হাসান ও খালেদ আহমেদ। মুস্তাফিজুর রহমান পান ২টি করে উইকেট। এছাড়া হাসান মাহমুদ, ও নাসুম আহমেদ নেন ১টি করে উইকেট।

পাঠকের মতামত:

ক্রিকেট এর সর্বশেষ খবর

ক্রিকেট - এর সব খবর



রে