Vivo Y32 5G আসছে? সার্টিফিকেশন সাইটে মিলল নতুন তথ্য, বাংলাদেশেও সম্ভাবনা
নিজস্ব প্রতিবেদক: ভিভোর নতুন 5G স্মার্টফোন Vivo Y32 5G নিয়ে প্রযুক্তি অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। ফোনটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের TDRA এবং NEMKO সার্টিফিকেশন প্ল্যাটফর্মে তালিকাভুক্ত হয়েছে। এর আগে একই মডেল নম্বর ভারতের BIS সার্টিফিকেশন সাইটেও দেখা যায়। ফলে ফোনটি ভারতসহ একাধিক বাজারে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বাংলাদেশে ফোনটি কবে লঞ্চ হবে, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি ভিভো।
TDRA-এর তালিকায় ফোনটির নাম Vivo Y32 5G এবং মডেল নম্বর V2639 উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, NEMKO-এর তালিকা থেকে ফোনটিতে USB Type-C পোর্ট থাকার তথ্য জানা গেছে। তবে ফোনটির প্রসেসর, ক্যামেরা, ডিসপ্লে, ব্যাটারি ও দাম সম্পর্কে বিস্তারিত এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।
Vivo Y32 5G-এর TDRA ও NEMKO তালিকায় কী জানা গেল?
সংযুক্ত আরব আমিরাতের TDRA সার্টিফিকেশন প্ল্যাটফর্মে Vivo Y32 5G ফোনটি V2639 মডেল নম্বরের অধীনে তালিকাভুক্ত হয়েছে। তালিকার তথ্য অনুযায়ী, ডিভাইসটি ৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে নিবন্ধিত হয়। এর ইকুইপমেন্ট রেজিস্ট্রেশন নম্বর ER66442/26।
এদিকে, NEMKO সার্টিফিকেশন সাইটেও একই মডেল নম্বর দেখা গেছে। সেখান থেকে ফোনটিতে USB Type-C পোর্ট থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।
ভারতের BIS সার্টিফিকেশন প্ল্যাটফর্মেও V2639 মডেল নম্বর দেখা যাওয়ায় দেশটিতে ফোনটি বাজারে আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে সার্টিফিকেশন সাইটে তালিকাভুক্ত হওয়া মানেই নির্দিষ্ট সময়ে ফোনটি বাজারে আসবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
Vivo Y32 5G-এর ফিচার ও দাম কত হতে পারে?
এখন পর্যন্ত Vivo Y32 5G-এর পূর্ণাঙ্গ স্পেসিফিকেশন প্রকাশ করা হয়নি। ফলে ফোনটির ডিসপ্লের আকার, রিফ্রেশ রেট, চিপসেট, RAM, স্টোরেজ, ক্যামেরা এবং ব্যাটারির সক্ষমতা সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
একইভাবে ফোনটির সম্ভাব্য দাম, লঞ্চের তারিখ ও বিক্রির সময়সূচিও অজানা। বাংলাদেশে ফোনটি আনুষ্ঠানিকভাবে বিক্রি হবে কি না, সেটিও এখনো নিশ্চিত নয়।
ভিভোর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এলে এসব তথ্য আরও পরিষ্কার হতে পারে।
বাংলাদেশে থাকা Vivo Y32 4G মডেলে কী কী ফিচার রয়েছে?
নতুন Vivo Y32 5G-এর তথ্য এখনো সীমিত। তবে তুলনার জন্য Vivo Y32 4G মডেলের ফিচারগুলো জানা যেতে পারে। উল্লেখ্য, Vivo Y32 4G ও Vivo Y32 5G আলাদা মডেল। 4G সংস্করণের স্পেসিফিকেশন নতুন 5G ফোনটির ফিচার হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, Vivo Y32 4G ফোনে রয়েছে ৬.৮৭ ইঞ্চির LCD ডিসপ্লে। এর রেজোলিউশন ১৫৯২ × ৭২০ পিক্সেল এবং রিফ্রেশ রেট ১২০ হার্টজ। ডিসপ্লেটিতে সর্বোচ্চ ১,৩০০ নিটস ব্রাইটনেস ও ২৫৫ PPI পিক্সেল ডেনসিটির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
ফোনটিতে Unisoc T7300 প্রসেসর, LPDDR4X RAM এবং UFS 2.2 স্টোরেজ রয়েছে। সফটওয়্যার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে Android-ভিত্তিক OriginOS 6।
Vivo Y32 4G-তে ৮,০০০mAh ব্যাটারি
ব্যাটারির ক্ষেত্রে Vivo Y32 4G মডেলে রয়েছে ৮,০০০mAh সক্ষমতার ব্যাটারি, যা ৪৪W ফাস্ট চার্জিং সমর্থন করে।
ছবি তোলার জন্য ফোনটির পেছনে রয়েছে ৫০ মেগাপিক্সেলের মূল ক্যামেরা ও ২ মেগাপিক্সেলের বোকেহ সেন্সর। সামনে রয়েছে ৮ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা।
অন্যান্য ফিচারের মধ্যে রয়েছে USB Type-C পোর্ট, Bluetooth 5.4, NFC, ডুয়াল-ব্যান্ড Wi-Fi, ডুয়াল সিম এবং সাইড-মাউন্টেড ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর। ফোনটিতে IP68 ও IP69 রেটিং, রিভার্স চার্জিং এবং ডুয়াল স্টেরিও স্পিকারের সুবিধার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া রয়েছে Game Boost মোড, 4D গেম ভাইব্রেশন এবং বিভিন্ন AI ফিচার। তবে এসব বৈশিষ্ট্য Vivo Y32 4G মডেলের, এখনো Vivo Y32 5G-এর জন্য নিশ্চিত নয়।
বাংলাদেশে Vivo Y32 5G-এর দাম কত হতে পারে?
Vivo Y32 5G-এর বাংলাদেশি দাম এখনো ঘোষণা করা হয়নি। ফোনটি বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে লঞ্চ হবে কি না, সে বিষয়েও নিশ্চিত তথ্য নেই। তাই আপাতত নির্দিষ্ট দাম বলা সম্ভব নয়।
ভিভো বাংলাদেশে ফোনটি বাজারে আনার ঘোষণা দিলে এর দাম, RAM ও স্টোরেজ ভ্যারিয়েন্ট এবং বিক্রির সময়সূচি জানা যাবে।
সব মিলিয়ে, Vivo Y32 5G-এর সার্টিফিকেশন তালিকাভুক্তি সম্ভাব্য বাজারজাতকরণের ইঙ্গিত দিলেও ফোনটির ফিচার, দাম ও বাংলাদেশে লঞ্চের বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়। নতুন তথ্যের জন্য ভিভোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা করতে হবে।
আশা/
