Xiaomi 18 Pro Max: ব্যাটারি ৭,০৫০mAh, বাংলাদেশি টাকায় দাম কত
নিজস্ব প্রতিবেদক: Xiaomi 18 Pro Max-এর গ্লোবাল সংস্করণে ব্যাটারির সক্ষমতা কমতে পারে। ইউরোপের এনার্জি লেবেলে ফোনটির ব্যাটারি ৭,০৫০mAh উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে চীনা সংস্করণে রয়েছে ৮,৫০০mAh ব্যাটারি। অন্যদিকে, ইউরোপের সম্ভাব্য দাম বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ লাখ ৫৭ হাজার টাকা। তবে বাংলাদেশে ফোনটির আনুষ্ঠানিক দাম এখনো নিশ্চিত নয়।
Xiaomi-র নতুন ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন Xiaomi 18 Pro Max নিয়ে প্রযুক্তিপ্রেমীদের আগ্রহের মধ্যে সামনে এসেছে ব্যাটারির সক্ষমতা ও সম্ভাব্য বৈশ্বিক দামসংক্রান্ত তথ্য। ইউরোপের পণ্য জ্বালানি-দক্ষতা নিবন্ধনব্যবস্থা EPREL-এর লেবেলসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, ফোনটির গ্লোবাল সংস্করণে রেটেড ব্যাটারির সক্ষমতা ৭,০৫০mAh।
অন্যদিকে, চীনে বিক্রি হওয়া সংস্করণে Xiaomi ৮,৫০০mAh ব্যাটারির কথা জানিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, দুই সংস্করণের সংখ্যাগত পার্থক্য ১,৪৫০mAh। তবে রেটেড ক্যাপাসিটি ও সাধারণত প্রচার করা ব্যাটারির সক্ষমতা এক ধরনের পরিমাপ নয়। তাই শুধু এই দুই সংখ্যা তুলনা করে ব্যাটারির প্রকৃত পারফরম্যান্স সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না।
বাংলাদেশে Xiaomi 18 Pro Max-এর সম্ভাব্য দাম কত?
বাংলাদেশি ক্রেতাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, ফোনটির দাম কত হতে পারে। প্রতিবেদনে ১২ জিবি র্যাম ও ৫১২ জিবি স্টোরেজের Xiaomi 18 Pro Max-এর ইউরোপীয় দাম ১,৮৪৯ ইউরো হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এটি ফাঁস হওয়া দাম, Xiaomi-র আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নয়।
২২ অক্টোবর ২০২৬-এর বিনিময় হার ধরে ১ ইউরো প্রায় ১৩৯.১ টাকা হিসেবে হিসাব করলে দাম দাঁড়ায়:
-
ইউরোপের সম্ভাব্য দাম: ১,৮৪৯ ইউরো
-
বাংলাদেশি টাকায় আনুমানিক মূল্য: প্রায় ২ লাখ ৫৭ হাজার টাকা
এই হিসাব কেবল মুদ্রা রূপান্তরের ভিত্তিতে করা হয়েছে। এর সঙ্গে বাংলাদেশের আমদানি শুল্ক, কর, পরিবহন ব্যয়, বিক্রেতার মুনাফা ও অন্যান্য খরচ যোগ হলে দাম ভিন্ন হতে পারে। তাই এটিকে বাংলাদেশের সম্ভাব্য বাজারদরের নিশ্চিত পূর্বাভাস হিসেবে দেখা উচিত নয়।
চীনের বাজারে একই ১২ জিবি র্যাম ও ৫১২ জিবি স্টোরেজের সংস্করণের প্রতিবেদনে উল্লেখিত দাম ৭,৯৯৯ ইউয়ান। ১ ইউয়ান প্রায় ১৮.৫৩ টাকা ধরে এর মুদ্রা রূপান্তরিত মূল্য প্রায় ১ লাখ ৪৮ হাজার টাকা। তবে চীনের দাম ও ইউরোপের সম্ভাব্য দাম সরাসরি তুলনা করার সময় কর, বাজারভেদে মূল্য নির্ধারণ এবং বিক্রয় খরচের পার্থক্য বিবেচনায় রাখতে হবে।
গুরুত্বপূর্ণ: Xiaomi 18 Pro Max-এর বাংলাদেশি বাজারে আনুষ্ঠানিক মূল্য ও বিক্রির তারিখ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ২ লাখ ৫৭ হাজার টাকাকে বাংলাদেশের অফিসিয়াল দাম বলা যাবে না।
Xiaomi 18 Pro Max-এর ব্যাটারি নিয়ে কী জানা গেছে?
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীনা সংস্করণে ৮,৫০০mAh ব্যাটারি থাকলেও ইউরোপের নিবন্ধনে গ্লোবাল সংস্করণের রেটেড সক্ষমতা ৭,০৫০mAh দেখানো হয়েছে। Xiaomi যদি গ্লোবাল সংস্করণের সাধারণ ব্যাটারি সক্ষমতা প্রায় ৭,২০০mAh হিসেবে বাজারজাত করে, তাহলে একই ধরনের সক্ষমতার ভিত্তিতে চীনা সংস্করণের তুলনায় ব্যবধান প্রায় ১৫.৩ শতাংশ হতে পারে।
তবে Xiaomi এখনো গ্লোবাল সংস্করণের চূড়ান্ত ব্যাটারি স্পেসিফিকেশন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ফলে বিভিন্ন বাজারের সংস্করণে ব্যাটারির পার্থক্যের কারণও নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
একবার চার্জে কতক্ষণ চলবে ফোনটি?
ইউরোপের এনার্জি লেবেলসংক্রান্ত তথ্যে Xiaomi 18 Pro Max-এর জন্য প্রতি চার্জে ৭০ ঘণ্টা ৪০ মিনিটের এনার্জি-লেবেলভিত্তিক সহনক্ষমতার হিসাব উল্লেখ করা হয়েছে। একই প্রতিবেদনে iPhone 18 Pro Max-এর জন্য প্রায় ৬২ ঘণ্টার কথা বলা হয়েছে।
এই পরিসংখ্যান নির্দিষ্ট পরীক্ষাপদ্ধতির ভিত্তিতে তৈরি। বাস্তবে স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা, গেম খেলা, ভিডিও দেখা, মোবাইল নেটওয়ার্ক, অ্যাপের ব্যবহার ও সফটওয়্যারের ওপর ব্যাটারির স্থায়িত্ব নির্ভর করবে। তাই পরীক্ষার ফলকে সরাসরি দৈনন্দিন ব্যবহারের সময় হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়।
চার্জিং সুবিধাতেও নজর
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী, Xiaomi 18 Pro Max-এর চীনা সংস্করণে ১০০ ওয়াট তারযুক্ত এবং ৫০ ওয়াট ওয়্যারলেস চার্জিংয়ের সুবিধা রয়েছে। তবে গ্লোবাল সংস্করণের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত স্পেসিফিকেশন Xiaomi-র আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশে কেনার আগে যেসব বিষয় জানা জরুরি
বাংলাদেশে ফোনটি কেনার পরিকল্পনা করলে কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখা দরকার। প্রথমত, স্থানীয় বাজারে অফিসিয়াল সংস্করণ আসবে কি না এবং তার দাম কত হবে, তা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। দ্বিতীয়ত, বিদেশ থেকে আমদানি করা ফোনের ক্ষেত্রে ওয়ারেন্টি, সফটওয়্যার, নেটওয়ার্ক সমর্থন এবং Google পরিষেবা ব্যবহারের বিষয়গুলো যাচাই করা জরুরি।
সব মিলিয়ে, Xiaomi 18 Pro Max-এর গ্লোবাল সংস্করণের ব্যাটারি নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এলেও ফোনটির চূড়ান্ত বৈশ্বিক স্পেসিফিকেশন ও বাংলাদেশি মূল্য নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষা রয়েছে। কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে Xiaomi-র আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এবং স্থানীয় বিক্রেতার তথ্য যাচাই করাই সবচেয়ে ভালো।
আশা/
