নতুন ইঞ্জিন, ৬-স্পিড গিয়ারবক্স ও Google Maps সুবিধা নিয়ে Bajaj Pulsar N250SS
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাজাজের জনপ্রিয় ২৫০ সিসি মোটরসাইকেল সিরিজে নতুন সংযোজন Bajaj Pulsar N250SS। নতুন এই সংস্করণে ইঞ্জিন, গিয়ারবক্স, ডিজিটাল ডিসপ্লে ও রাইডিং প্রযুক্তিতে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিশেষ করে ৪-ভালভ ইঞ্জিন, ৬-স্পিড গিয়ারবক্স, ৫ ইঞ্চির TFT ডিসপ্লে এবং দ্বিমুখী কুইকশিফটার মোটরসাইকেলটিকে আগের Pulsar N250-এর তুলনায় আরও আধুনিক করেছে।
ভারতে মোটরসাইকেলটির এক্স-শোরুম মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ১.৫৯ লাখ রুপি। তবে বাংলাদেশে এর দাম, আনুষ্ঠানিক বাজারজাতকরণ কিংবা বিক্রির শুরুর সময় সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
Bajaj Pulsar N250SS-এর দাম কত?
প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতে নতুন Bajaj Pulsar N250SS-এর এক্স-শোরুম দাম ১ লাখ ৫৯ হাজার ৪০৬ রুপি। অন্যদিকে, সাধারণ Pulsar N250-এর দাম ১ লাখ ৪৫ হাজার ২৭০ রুপি।
দুই মডেলের দামের পার্থক্য ১৪ হাজার ১৩৬ রুপি। অতিরিক্ত দামের বিনিময়ে নতুন সংস্করণে পাওয়া যাচ্ছে উন্নত ইঞ্জিন, ৬-স্পিড গিয়ারবক্স, TFT ডিসপ্লে এবং বেশ কিছু ইলেকট্রনিক সুবিধা।
উল্লেখ্য, প্রতিবেদনের শিরোনামে ১ লাখ ৫৯ হাজার রুপির কথা বলা হলেও বিস্তারিত মূল্যতালিকায় ১ লাখ ৫৯ হাজার ৪০৬ রুপি উল্লেখ রয়েছে। এখানে বিস্তারিত মূল্যতালিকার অঙ্কটি ব্যবহার করা হয়েছে।
৪-ভালভ ইঞ্জিন ও ৬-স্পিড গিয়ারবক্স
Pulsar N250SS-এর অন্যতম বড় পরিবর্তন নতুন ৪-ভালভ ইঞ্জিন। এই ইঞ্জিন থেকে সর্বোচ্চ ২৫ পিএস শক্তি ও ২২ এনএম টর্ক পাওয়া যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাধারণ Pulsar N250-এর ২-ভালভ ইঞ্জিনের তুলনায় নতুন সংস্করণে শক্তি ও টর্ক—দুটিই সামান্য বেড়েছে। পাশাপাশি আগের ৫-স্পিড গিয়ারবক্সের পরিবর্তে যুক্ত হয়েছে ৬-স্পিড গিয়ারবক্স।
নতুন গিয়ারবক্সের ফলে হাইওয়েতে চলার সময় ইঞ্জিনের গতি নিয়ন্ত্রণ এবং দীর্ঘ পথের রাইডিং অভিজ্ঞতা আরও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ হতে পারে। তবে বাস্তবে জ্বালানি সাশ্রয়, গতি ও রাইডিংয়ের পার্থক্য নির্ভর করবে চালানোর ধরন ও সড়কের অবস্থার ওপর।
৫ ইঞ্চির TFT ডিসপ্লেতে Google Maps
নতুন Pulsar N250SS-এ রয়েছে ৫ ইঞ্চির TFT ডিজিটাল ডিসপ্লে। এতে ব্লুটুথ সংযোগের পাশাপাশি কয়েকটি স্মার্ট সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে।
ডিসপ্লের উল্লেখযোগ্য সুবিধাগুলো হলো—
-
Google Maps মিররিংয়ের সুবিধা।
-
ফোনকল ও এসএমএসের নোটিফিকেশন।
-
মিউজিক নিয়ন্ত্রণ।
-
প্রয়োজনীয় নথি সংরক্ষণের সুবিধা।
এসব সুবিধার মাধ্যমে রাইডার মোটরসাইকেল চালানোর সময় প্রয়োজনীয় কিছু তথ্য ডিসপ্লেতে দেখতে পারবেন। তবে Google Maps ও অন্যান্য সংযুক্ত সুবিধা ব্যবহারের ক্ষেত্রে স্মার্টফোনের সঙ্গে সংযোগ এবং সংশ্লিষ্ট ফিচারের সামঞ্জস্য প্রয়োজন হতে পারে।
যুক্ত হয়েছে দ্বিমুখী কুইকশিফটার
মোটরসাইকেলটিতে রয়েছে দ্বিমুখী কুইকশিফটার। এর মাধ্যমে ক্লাচ লিভার ব্যবহার না করেই নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে গিয়ার ওপরে ও নিচে পরিবর্তন করা যায়। ফলে দ্রুত গিয়ার পরিবর্তনের সুবিধা পাওয়া যেতে পারে।
এ ছাড়া নতুন সংস্করণে ইলেকট্রনিক থ্রটল বডি (ETB) এবং রাইড মোড যুক্ত হয়েছে। আগে থেকে থাকা ABS মোডের পাশাপাশি এসব প্রযুক্তি রাইডিং নিয়ন্ত্রণে বাড়তি সুবিধা দিতে পারে।
নতুন ফিচারের তালিকায় আরও রয়েছে—
-
সামঞ্জস্যযোগ্য ক্লাচ লিভার।
-
সামঞ্জস্যযোগ্য সামনের ব্রেক লিভার।
-
USB Type-C চার্জিং পোর্ট।
-
প্যানিক ব্রেক অ্যালার্ট।
-
হ্যাজার্ড সুইচ।
এই সুবিধাগুলো দৈনন্দিন যাতায়াত ও দীর্ঘ পথের রাইডিংয়ে ব্যবহারিক সুবিধা দিতে পারে।
চারটি নতুন রঙে পাওয়া যাবে
Bajaj Pulsar N250SS চারটি নতুন রঙে বাজারে এসেছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। রঙগুলো হলো—
১. Atlantic Blue২. Brooklyn Black৩. Fiery Red Orange৪. Pearl Metallic White
রঙের ধরন অনুযায়ী মোটরসাইকেলটিতে নতুন গ্রাফিকস ও রঙিন রিম ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে ডিজাইনের দিক থেকেও নতুন সংস্করণটি আগের মডেল থেকে আলাদা পরিচিতি পেয়েছে।
সাসপেনশন ও ব্রেকিংয়ে কী থাকছে?
নতুন ফিচার যুক্ত হলেও মোটরসাইকেলটির চাকার আকার ও সাসপেনশন ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
এতে সামনে ও পেছনে ১৭ ইঞ্চির চাকা রয়েছে। সাসপেনশনের জন্য সামনে ইনভার্টেড ফর্ক এবং পেছনে মনোশক ব্যবহার করা হয়েছে।
ব্রেকিংয়ের ক্ষেত্রে সামনে দুই-পিস্টন ক্যালিপারসহ ৩০০ মিলিমিটারের ডিস্ক ব্রেক এবং পেছনে এক-পিস্টন ক্যালিপারসহ ২৪০ মিলিমিটারের ডিস্ক ব্রেক রয়েছে।
বাংলাদেশে Bajaj Pulsar N250SS-এর দাম কত হতে পারে?
বাংলাদেশি মোটরসাইকেলপ্রেমীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, নতুন Pulsar N250SS দেশে কবে আসবে এবং এর দাম কত হবে। তবে ভারতে লঞ্চ হওয়া মানেই বাংলাদেশে একই সময়ে মোটরসাইকেলটি বিক্রি শুরু হবে, এমন নয়।
বাংলাদেশে দাম নির্ভর করতে পারে আমদানি ও বাজারজাতকরণ, কর, শুল্ক, মডেলের অনুমোদন এবং স্থানীয় বিক্রয়ব্যবস্থার ওপর। তাই ভারতীয় এক্স-শোরুম দামকে বাংলাদেশের সম্ভাব্য খুচরা দাম হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
কেনার পরিকল্পনা থাকলে বাজাজের বাংলাদেশি অফিসিয়াল চ্যানেল বা অনুমোদিত বিক্রেতার কাছ থেকে মডেলটির প্রাপ্যতা, দাম, ওয়ারেন্টি এবং সার্ভিস-সুবিধা যাচাই করা উচিত।
সব মিলিয়ে কেমন Bajaj Pulsar N250SS?
নতুন Pulsar N250SS-এ শুধু বাহ্যিক পরিবর্তন নয়, ইঞ্জিন ও প্রযুক্তিগত ফিচারেও বেশ কিছু উন্নয়ন আনা হয়েছে। ৪-ভালভ ইঞ্জিন, ৬-স্পিড গিয়ারবক্স, TFT ডিসপ্লে, Google Maps মিররিং এবং দ্বিমুখী কুইকশিফটার এর প্রধান আকর্ষণ।
যারা ২৫০ সিসি শ্রেণির মোটরসাইকেলে আধুনিক প্রযুক্তি ও হাইওয়েতে স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ রাইডিংয়ের সুবিধা চান, তাদের কাছে মডেলটি আগ্রহের হতে পারে। তবে বাংলাদেশের ক্রেতাদের জন্য চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে স্থানীয় দাম, প্রাপ্যতা ও বিক্রয়োত্তর সেবা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।
আশা/
