উত্তাল দিল্লি, ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে বিক্ষোভ
নিজস্ব প্রতিবেদক: ভারতের রাজধানী দিল্লিতে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের ওপর নিষেধাজ্ঞা ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। মঙ্গলবার ব্যারিকেড টপকে যন্তর মন্তরে প্রবেশ করে বিক্ষোভ দেখানোর অভিযোগে ক্রোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) তিন গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে আটক করেছে পুলিশ। অন্যদিকে, ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার সিসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিহার ও কলকাতাসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ হয়েছে।
দিল্লির যন্তর মন্তর দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের প্রতিবাদ কর্মসূচির পরিচিত স্থান। তবে সেখানে বিক্ষোভের অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার লোহার ফটক ও ব্যারিকেড টপকে যন্তর মন্তরে প্রবেশ করেন ক্রোচ জনতা পার্টির নেতারা। ভারতের জাতীয় পতাকা হাতে স্লোগান দিয়ে প্রতিবাদ জানান সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা ও আজিঙ্কা সিন্ডেসহ দলের নেতাকর্মীরা।
এ ঘটনায় দলের তিন গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে আটক করে জাফরপুর থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। আটক নেতাদের অভিযোগ, তাঁদের আইনজীবীদের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি এবং তাঁদের মুঠোফোনও কেড়ে নেওয়া হয়েছে।
সহযোদ্ধাদের আটকের প্রতিবাদ জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা ও আহ্বায়ক অভিজিৎ দ্বীপ। সেখানে তিনি বলেন, প্রতিরোধকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা যায় না।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার সিসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতেও ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
বিহারের গান্ধী ময়দানে অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (আইসা)সহ কয়েকটি ছাত্রসংগঠন বিক্ষোভ করে। এ সময় বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। এতে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা থেকে মানুষের নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁরা এ ধরনের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান।
এদিকে কলকাতায় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মিছিল করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। মিছিলে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও তাঁকে সেখানে দেখা যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মিছিলটি পার্ক সার্কাসের সাত মাথার মোড় পর্যন্ত যাওয়ার কথা ছিল। তবে পুলিশি বাধার মুখে পড়ে কর্মসূচিটি।
দিল্লিতে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি নিয়ে করা আবেদনের শুনানি করেনি ভারতের সুপ্রিম কোর্ট।
এ ছাড়া প্রধান নির্বাচন কমিশনার সিসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে মঙ্গলবার ‘ইন্ডিয়া’ জোটের পক্ষ থেকে করা আবেদনেরও শুনানি হয়নি। আবেদনটিতে ১৪টি ত্রুটি চিহ্নিত করেছে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রি বিভাগ।
আইনজীবীদের অনুরোধে ত্রুটিগুলো সংশোধন করা হলে বুধবার আবেদনটি শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত হতে পারে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
দিল্লিতে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ওপর বিধিনিষেধ, রাজনৈতিক নেতাদের আটক এবং নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে প্রতিবাদ, সব মিলিয়ে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে। পরিস্থিতির পরবর্তী গতিপ্রকৃতি এখন নজরে রয়েছে।
সোহাগ/
