রোবোট্যাক্সি কী, কীভাবে চালক ছাড়াই চলে গাড়ি
নিজস্ব প্রতিবেদক: চালক নেই, স্টিয়ারিং ধরার কেউ নেই—তবু নিজে থেকেই গন্তব্যে পৌঁছে যাচ্ছে গাড়ি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও আধুনিক সেন্সর প্রযুক্তির সাহায্যে চলা এমন চালকবিহীন ট্যাক্সিকে বলা হয় রোবোট্যাক্সি। মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে যাত্রা বুক করে নির্দিষ্ট স্থান থেকে গন্তব্যে যাওয়া যায়। ওয়েমো, বাইডু ও জুক্সের মতো প্রতিষ্ঠান এ প্রযুক্তির উন্নয়ন ও সেবা নিয়ে কাজ করছে।
কীভাবে নিজে নিজে পথ চলে রোবোট্যাক্সি?
রোবোট্যাক্সির চলার মূল শক্তি হলো এআই, ক্যামেরা, রাডার ও লিডার সেন্সর। ক্যামেরা রাস্তা, ট্রাফিক সিগন্যাল ও পথচারীদের শনাক্ত করতে সাহায্য করে। রাডার আশপাশের বস্তুর অবস্থান ও গতিবিধি বুঝতে সহায়তা করে। আর লিডার লেজার রশ্মির সাহায্যে চারপাশের ত্রিমাত্রিক ধারণা তৈরি করে।
এসব সেন্সর থেকে পাওয়া তথ্য একত্র করে এআই ব্যবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্লেষণ করে। সামনে পথচারী থাকলে গাড়ি থামতে পারে, যানজট হলে গতি কমাতে পারে এবং নিরাপদ হলে দিক পরিবর্তন করতে পারে। এভাবেই চালকের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই চলার সিদ্ধান্ত নেয় রোবোট্যাক্সি।
কীভাবে খুঁজে নেয় সঠিক রাস্তা?
রোবোট্যাক্সি সাধারণত আগে থেকে তৈরি বিস্তারিত ডিজিটাল মানচিত্রের সঙ্গে সেন্সরের মাধ্যমে পাওয়া তাৎক্ষণিক তথ্য মিলিয়ে নিজের অবস্থান নির্ধারণ করে। এরপর গন্তব্যের পথ, আশপাশের যানবাহন ও রাস্তার পরিস্থিতি বিবেচনা করে চলার পরিকল্পনা তৈরি করে।
তবে প্রযুক্তিটি এখনো সব পরিস্থিতিতে সমানভাবে কার্যকর নয়। ভারী বৃষ্টি, ঘন কুয়াশা, অস্বাভাবিক রাস্তার পরিস্থিতি কিংবা জটিল ট্রাফিক ব্যবস্থায় গাড়ির সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হতে পারে।
রোবোট্যাক্সি কি সম্পূর্ণ চালকবিহীন?
গাড়ির স্বয়ংক্রিয়তার আন্তর্জাতিকভাবে ব্যবহৃত শ্রেণিবিন্যাসে লেভেল ০ থেকে লেভেল ৫ পর্যন্ত ছয়টি স্তর রয়েছে। লেভেল ৪ প্রযুক্তির গাড়ি নির্দিষ্ট এলাকা ও নির্ধারিত পরিস্থিতিতে চালকের হস্তক্ষেপ ছাড়াই চলতে পারে। অনেক রোবোট্যাক্সি সেবা এই স্তরের স্বয়ংক্রিয়তার ওপর নির্ভরশীল।
অন্যদিকে, লেভেল ৫ বলতে এমন পূর্ণাঙ্গ স্বয়ংক্রিয়তা বোঝায়, যেখানে গাড়ি কার্যত সব ধরনের স্বাভাবিক সড়ক পরিস্থিতিতে মানুষের চালনা ছাড়াই চলতে পারবে। এই সক্ষমতা অর্জন এখনো প্রযুক্তি উন্নয়নের বড় চ্যালেঞ্জ।
রোবোট্যাক্সি ভবিষ্যতে যাতায়াত ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে। তবে এর ব্যাপক ব্যবহার নির্ভর করবে সড়ক নিরাপত্তা, প্রযুক্তির নির্ভরযোগ্যতা, আইনগত অনুমোদন এবং মানুষের আস্থার ওপর।
সোহাগ/
