৪ বছর পর বাংলাদেশিদের জন্য খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার
নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবারও সক্রিয় হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় ধাপে ধাপে কর্মী পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। তবে নিয়োগপ্রক্রিয়া, কর্মী বাছাই, অভিবাসন ব্যয় এবং কোন চ্যানেলে কর্মীরা আবেদন করবেন, এসব বিষয়ে এখনো বেশ কিছু বিষয় পরিষ্কার হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে শ্রমবাজার নিয়ে একাধিক আলোচনা ও উদ্যোগের পর এই প্রক্রিয়া এগিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরেও দেশটিতে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। এরপর মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে বাংলাদেশ থেকে আবার কর্মী নেওয়ার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হয়।
এর আগে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, মালয়েশিয়া বাংলাদেশ থেকে ১০ হাজার কর্মীকে শূন্য-খরচের ব্যবস্থায় নেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। প্রথম ধাপে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড বা বোয়েসেলের মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়।
এ ছাড়া মালয়েশিয়া প্রায় ২ লাখ বাংলাদেশি কর্মী নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। আগস্টে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, সেপ্টেম্বরের শেষ দিক থেকে ধাপে ধাপে কর্মী পাঠানো শুরু হতে পারে এবং পুরো প্রক্রিয়া কয়েক মাস ধরে চলবে।
নিয়োগপ্রক্রিয়ায় থাকছে নির্ধারিত এজেন্সি
নতুন ব্যবস্থায় মালয়েশিয়া ২৫টি বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সি নির্বাচন করেছে। পাশাপাশি আরও ৩১২টি এজেন্সিকে সহযোগী হিসেবে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।
তবে নিয়োগের বাস্তব প্রক্রিয়া নিয়ে এখনো কিছু অনিশ্চয়তা রয়েছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর পক্ষ থেকে কর্মী বাছাই, চাহিদাপত্র, নিয়োগের সংখ্যা এবং অভিবাসন ব্যয় নিয়ে স্পষ্ট নির্দেশনার প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে এসেছে।
চাকরিপ্রত্যাশীদের জন্য সতর্কবার্তা
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নতুন করে সক্রিয় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চাকরির নামে প্রতারণার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের চাকরির বিজ্ঞাপন ও দ্রুত মালয়েশিয়া পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে অর্থ চাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এ কারণে সরকারি নির্দেশনা প্রকাশের আগে কোনো দালাল, মধ্যস্বত্বভোগী বা অননুমোদিত ব্যক্তির কাছে টাকা দেওয়া থেকে চাকরিপ্রত্যাশীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ও এর আগে জানিয়েছে, সরকারি বিজ্ঞপ্তি না আসা পর্যন্ত টাকা দেওয়া, মেডিকেল পরীক্ষা করা বা পাসপোর্ট জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে।
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় ও প্রতারণার অভিযোগ অতীতেও আলোচনায় এসেছে। নতুন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং কর্মীদের ওপর অযৌক্তিক আর্থিক চাপ ঠেকানো তাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশিদের জন্য এখন কী জানা জরুরি?
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার সক্রিয় হলেও সব চাকরিপ্রত্যাশী সরাসরি যেকোনো এজেন্সির মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন, এমন নয়। নির্ধারিত নিয়োগকর্তার চাহিদা, অনুমোদিত রিক্রুটিং চ্যানেল এবং সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করেই নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা।
বিশেষ করে চাকরির নামে কেউ অগ্রিম টাকা চাইলে বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিজ্ঞাপন দেখে সরাসরি অর্থ লেনদেন করলে সতর্ক থাকা জরুরি। নিয়োগের প্রকৃত খরচ, চাকরির ধরন, বেতন, নিয়োগকর্তা এবং ভিসাসংক্রান্ত তথ্য যাচাই না করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।
দীর্ঘ বিরতির পর মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করছে। তবে এই সুযোগ কতটা সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ হবে, তা নির্ভর করবে নির্ধারিত নিয়োগব্যবস্থা, স্বচ্ছতা এবং সরকারি তদারকির ওপর। এখন চাকরিপ্রত্যাশীদের নজর থাকবে পরবর্তী সরকারি নির্দেশনা এবং অনুমোদিত নিয়োগপ্রক্রিয়ার দিকে।
সোহাগ/
