আকাশে আসছে বিরল ‘ব্লাড মুন’, দেখা যাবে ২৮ আগস্ট
নিজস্ব প্রতিবেদক: পূর্ণ সূর্যগ্রহণের মহাজাগতিক দৃশ্যের পর এবার চলতি মাসের শেষ দিকে আকাশে দেখা যেতে যাচ্ছে আরেকটি বিরল মহাজাগতিক ঘটনা। আগামী ২৭ ও ২৮ আগস্ট রাতে ঘটবে গভীর আংশিক চন্দ্রগ্রহণ। এ সময় চাঁদের প্রায় ৯৬ শতাংশ অংশ পৃথিবীর গাঢ় ছায়ায় ঢেকে যাবে। ফলে পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ না হলেও চাঁদের বড় একটি অংশ রক্তিম ও কমলা আভায় আলোকিত হয়ে উঠবে, যা অনেকটা ‘ব্লাড মুন’-এর মতো দেখাবে।
জ্যোতির্বিজ্ঞানবিষয়ক ম্যাগাজিন ‘স্কাই অ্যান্ড টেলিস্কোপ’-এর তথ্য অনুযায়ী, ২৭ আগস্ট বৃহস্পতিবার রাতে শুরু হওয়া এই চন্দ্রগ্রহণ ২৮ আগস্ট পর্যন্ত চলবে।
উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার প্রায় পুরো অঞ্চল থেকেই এ দৃশ্য দেখা যাবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই ও আলাস্কার কিছু অংশ এর বাইরে থাকবে। এছাড়া আফ্রিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চল থেকেও ২৮ আগস্ট ভোরের দিকে চন্দ্রগ্রহণটি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, গ্রহণের সর্বোচ্চ পর্যায়ে চাঁদের প্রায় ৯৬ শতাংশ অংশ পৃথিবীর গাঢ় কেন্দ্রীয় ছায়া বা ‘আমব্রা’র মধ্যে প্রবেশ করবে। চাঁদ পুরোপুরি পৃথিবীর ছায়ায় ঢেকে না গেলেও এর অধিকাংশ অংশ অন্ধকার হয়ে যাবে। একই সময়ে বাকি অংশে দেখা দেবে লালচে ও কমলা আভা।
এই বিশেষ রঙের কারণ পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল। সূর্যের আলো পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় প্রতিসরিত হয়ে চাঁদের পৃষ্ঠে পৌঁছায়। সেই আলোতে লাল ও কমলা তরঙ্গদৈর্ঘ্যের অংশ বেশি কার্যকরভাবে চাঁদে পৌঁছানোর কারণে গ্রহণের সময় চাঁদে তৈরি হয় রক্তিম আভা। এ কারণেই এমন দৃশ্যকে সাধারণভাবে ‘ব্লাড মুন’ বলা হয়।
চাঁদের যে অংশ পৃথিবীর বাইরের হালকা ছায়া বা ‘পেনামব্রা’র মধ্যে থাকবে, সেখানে তুলনামূলকভাবে মৃদু আলো দেখা যেতে পারে। আন্তর্জাতিক সময় অনুযায়ী ২৮ আগস্ট রাত ১২টা ১৩ মিনিটে চন্দ্রগ্রহণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে।
চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদের বড় অংশ অন্ধকারে ঢেকে যাওয়ায় রাতের আকাশও হয়ে উঠবে আরও আকর্ষণীয়। চাঁদের উজ্জ্বলতা কমে যাওয়ার ফলে আশপাশের অনেক নক্ষত্র এবং মিল্কিওয়ের আভা তুলনামূলকভাবে স্পষ্টভাবে দেখা যেতে পারে।
একসময় গ্রহণের সময় চাঁদের লালচে রূপ মানুষকে আতঙ্কিত করলেও আধুনিক বিজ্ঞান এর পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করেছে। এখন এই বিরল মহাজাগতিক দৃশ্য জ্যোতির্বিজ্ঞানপ্রেমীদের কাছে উপভোগের অন্যতম আকর্ষণ।
আমেরিকা মহাদেশের বাসিন্দাদের জন্য ২০২৯ সালের ২৬ জুনের পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের আগে এটি হতে যাচ্ছে উল্লেখযোগ্য গভীর চন্দ্রগ্রহণ দেখার একটি সুযোগ।
সিদ্দিকা/
