বাড়ি ভাড়া যত শতাংশ দিতে চায় সরকার
নিজস্ব প্রতিবেদক: বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়ি ভাড়া নিয়ে সরকার ও আন্দোলনকারী শিক্ষকদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। সরকার শিক্ষকদের মূল বেতনের ৫ শতাংশ (ন্যূনতম ২ হাজার টাকা) বাড়ি ভাড়া দিতে রাজি হলেও, শিক্ষকরা সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। শিক্ষকরা এই বছর ১০ শতাংশ হারে বাড়ি ভাড়া এবং আগামী অর্থবছরে আরও ১০ শতাংশ বাড়ানোর নিশ্চয়তা দাবি করছেন।
আন্দোলনকারী শিক্ষক-কর্মচারীদের একটি প্রতিনিধি দল আজ দুপুরের পর সচিবালয়ে শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সি আর আবরারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকের পর উপদেষ্টা সাংবাদিকদের কাছে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন।
শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার জানান, বাজেট বরাদ্দ প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে থাকায় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানোর পর অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে যে, "১ নভেম্বর থেকে ৫ শতাংশ (বাড়িভাড়া) দেওয়া সম্ভব হবে এবং সেটি ন্যূনতম দুই হাজার টাকা থাকবে। এখন যেখানে আর্থিক সংস্থান নেই, সেখানে এর থেকে বেশি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।"
তিনি আরও জানান, সামনের অর্থবছরের বাজেটে যেন আরও কিছু শতাংশ বৃদ্ধি করা যায়, সে জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করা হবে। তবে শিক্ষকরা এই প্রস্তাবে রাজি হননি। তারা এই বছরই ১০ শতাংশ এবং আগামী বছর আরও ১০ শতাংশ বাড়ানোর নিশ্চয়তা দাবি করেছেন। উপদেষ্টা বলেন, "এটা আমাদের এখতিয়ারের বাইরে। আমরা সেটিতে রাজি হইনি। সংস্থান থাকলে করতাম।" তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান বাজেটের অবস্থায় ৫ শতাংশের বেশি বাড়ানো সম্ভব নয়, তবে আসন্ন পে কমিশনে এটি বাড়ানোর ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
এ সময় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীন বলেন, "তারা হিসেবে করে দেখেছেন, দুই হাজার টাকা করে দিলে প্রায় ৯০ শতাংশ শিক্ষক-কর্মচারী প্রায় ১০ শতাংশ হারে বাড়ি ভাড়া পাবেন।" তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আন্দোলনকারী শিক্ষক-কর্মচারীরা সরকারের এই প্রস্তাবকে অগ্রহণযোগ্য বলে জানিয়েছেন।
দাবি না মানলে 'মার্চ টু যমুনা'
সচিবালয়ে শিক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনা ফলপ্রসূ হয়নি দাবি করে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত সরকারকে সময় বেঁধে দিয়েছেন। তাঁরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, এর মধ্যে দাবি না মানা হলে তারা 'মার্চ টু যমুনা' কর্মসূচি পালনে বাধ্য হবেন।
আজ বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে তিনটায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সচিবালয় থেকে ফিরে এক বক্তব্যে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্যসচিব দেলোয়ার হোসেন আজিজী এসব কথা জানান।
দেলোয়ার হোসেন আজিজী শিক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনার প্রসঙ্গ তুলে বলেন, "উপদেষ্টা মহোদয় আপনি আলোচনা করেননি। আলোচনার নামে আইওয়াশ করেছেন শিক্ষকদের সঙ্গে।" তিনি প্রধান উপদেষ্টাকে শিক্ষকদের দাবি পূরণে পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, "আমাদের একমাত্র ভরসা আপনি, যদি মনে চায়, সমাধান করেন। আর যদি মনে না চায়, দাবানলের মতো আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে।"
এই শিক্ষক নেতা আরও উল্লেখ করেন, প্রধান উপদেষ্টা উদ্যোগ নিয়ে সমস্যার সমাধান না করলে শিক্ষকেরা বিকেল পাঁচটায় 'মার্চ টু যমুনা' কর্মসূচি পালন করতে বাধ্য হবেন। তিনি বলেন, "প্রয়োজনে প্রধান উপদেষ্টা বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে পাঠিয়ে শিক্ষকদের গুলি করে হত্যা করুক, তবুও দাবি আদায় না হলে শিক্ষকেরা ক্লাসে ফিরবেন না।"
বর্তমানে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ৬ লাখের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী সরকার থেকে এমপিও (মাসিক বেতন আদেশ) পেয়ে থাকেন। এর মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে ৩ লাখ ৯৮ হাজার, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে পৌনে ২ লাখ এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে ২৩ হাজারের বেশি শিক্ষক ও কর্মচারী রয়েছেন।
শিক্ষকরা বর্তমানে মূল বেতনের ২০ শতাংশ (ন্যূনতম ৩ হাজার টাকা) বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা দেড় হাজার টাকা করা এবং কর্মচারীদের উৎসব ভাতা ৭৫ শতাংশ বাড়ানোর দাবিতে পাঁচ দিন ধরে ঢাকায় কর্মসূচি পালন করছেন।
সোহাগ/
আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ
- আজকের সোনার বাজারদর: ২ মার্চ ২০২৬
- ইরান সম্পর্কে ১০টি ভবিষ্যদ্বাণী: যা বলে গেছেন নবীজি (সা.)
- এলপি গ্যাসের নতুন দাম নির্ধারণ: সন্ধ্যা থেকে কার্যকর
- ১৯ থেকে ২৮ মার্চ টানা ছুটি; ঈদুল ফিতরে বড় সুখবর
- নবম পে স্কেল দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে কর্মচারীদের ৫ যুক্তি
- নবম পে-স্কেল ৩ ধাপে কার্যকর: অর্থ প্রতিমন্ত্রীর বড় ঘোষণা
- ৩ মার্চ পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ: বাংলাদেশ থেকে দেখার সময়
- ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম: আজ থেকে কার্যকর নতুন মূল্য তালিকা
- ইতিহাসের সর্বোচ্চ বাড়ল স্বর্ণের দাম
- বাংলাদেশকে বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা দিল সৌদি
- আজ পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ: বাংলাদেশ থেকে দেখার সময় জানুন
- আজ এক ভরি ১৮, ২১, ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম
- পে স্কেল: সরকারের ইতিবাচক সংকেত ও কর্মচারীদের আল্টিমেটাম
- পে স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে সর্বশেষ যা জানা গেল
- প্রতিশোধ নিতে ইরানের পাশে দাঁড়াল যেসব পরাশক্তি
