ভারত-পাকিস্তান দ্বন্দ্বের কারণে বিপদে এশিয়ান ক্রিকেটের আনন্দ
এক তথ্যে জানা যায় যে, আগামী ২৭ মে চূড়ান্ত হতে পারে ওয়ানডে বিশ্বকাপের সূচি। এদিন প্রকাশ করা হতে পারে টুর্নামেন্টের ভেন্যুগুলোর পূর্ণাঙ্গ তালিকাও। বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এক জরুরি সভায় বসতে যাচ্ছে ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই), যেখানে আলোচনার অন্যতম এজেন্ডা আসন্ন এশিয়া কাপও। হতে পারে এশিয়া কাপ নিয়ে সমস্যার অবসান। আপাতত সে পর্যন্ত মুখিয়ে আছেন ক্রিকেট ভক্তরা।
এশিয়া কাপ নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের অবস্থানঃ
মূলত ভারত ও পাকিস্তানের রাজনৈতিক বৈরিতার কারণে ক্রিকেটেও চলে অলিখিত এক দ্বন্দ্ব। এ দুই দেশের মধ্যে কোনো ম্যাচ হলে খেলার প্রতিযোগিতা যেন ভিন্নমাত্রা পায়! তবুও সেখানে বয়ে চলে অমীমাংসিত এ দ্বন্দ্ব। আর সেটি যেন তীব্রতা পেয়েছে পাকিস্তানে আয়োজিত এশিয়া কাপ ও ভারতে হতে যাওয়া ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে।
ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় এনে পাকিস্তান থেকে এশিয়া কাপ সরিয়ে নেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। বিষয়টি মেনে নিতে পারেনি পাকিস্তান। তারাও এ প্রস্তাবের কারণে শুরু থেকেই ওয়ানডে বিশ্বকাপ নিয়ে হুমকি দিয়ে আসছে; এশিয়া কাপ খেলতে ভারত না এলে, ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলতে তারাও যাবে না ভারতে।
তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পাকিস্তান ক্রিকেটের পক্ষ থেকে সুর নরম করা হলেও ভারত অনড় অবস্থানে। পরিস্থিতি সামলাতে হাইব্রিড মডেলের প্রস্তাব দেয় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। এর মানে, আয়োজক থাকবে পাকিস্তানই, তবে শুধু ভারতের ম্যাচগুলো নিরপেক্ষ ভেন্যুতে আয়োজনের ব্যবস্থা করবে পিসিবি। এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) বৈঠকে প্রথমে এ প্রস্তাবে রাজি হলেও দেশে ফিরে এর বিরোধিতা করেন বিসিসিআইর সদস্য সচিব জয় শাহ। এরপর বাংলাদেশ এবং শ্রীলঙ্কাও যোগ দেয় ভারতের সঙ্গে। বাংলাদেশের কারণ অবশ্য ভিন্ন। বারবার ভ্রমণের জটিলতা এবং দুবাইয়ের গরমের কথা চিন্তা করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড হাইব্রিড মডেলকে না করে দেয়। ফলে কোণঠাসা হয়ে পড়ে পাকিস্তান।
এরপর পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আরও একটি প্রস্তাব করা হয়। পিসিবি প্রধান নাজাম শেঠি স্পোর্টস আওয়ারকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘ইংল্যান্ড এশিয়া কাপের ভেন্যু হতে পারে।’ তবে এটিও মেনে নেয়নি অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন দেশ। ফলে এশিয়া কাপ নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতার সমাধান মেলেনি।
ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের অবস্থানখেলাধুলাবিষয়ক ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইনসাইডস্পোর্ট নাম প্রকাশ না করে বিসিসিআইয়ের একজন সিনিয়র কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বেশ কয়েকটি প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। কিন্তু ভারতের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি। বিসিসিআই চায় টুর্নামেন্টটি নিরপেক্ষ ভেন্যুতে হোক। তবে সেটি সংযুক্ত আরব আমিরাতে নয়। সেখানে গরমের কারণে কোনো ইনজুরির ঝুঁকি নিতে চাচ্ছে না ভারতীয় বোর্ড।
খবরে আরও বলা হয়েছে, ভারত চাচ্ছে এবারের এশিয়া কাপ শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হোক। এ মুহূর্তে টুর্নামেন্টটির জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত জায়গা শ্রীলঙ্কা। বিসিসিআই এখন পর্যন্ত এশিয়া কাপ বয়কট করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে তাদের সিদ্ধান্ত মেনে নেয়া না হলে শেষ মুহূর্তে এশিয়া কাপ থেকে সরে আসতে পারে দলটি।
আফগানিস্তান ও নেপালের সম্মতিঃ
পাকিস্তানে এশিয়া কাপ খেলার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে আফগানিস্তান ও প্রথমবারের মতো খেলতে যাওয়া নেপাল। গণমাধ্যমের বিভিন্ন খবরে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বরে পাকিস্তানে বসতে যাওয়া এশিয়া কাপে অংশ নিতে প্রস্তুত রয়েছে আফগানিস্তান ও নেপাল। এ দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে আশ্বাস পেয়েছে পিসিবি, এমনটিও বলা হচ্ছে। তাতে পিসিবি বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার সমর্থন নিয়ে কেবল ভারতের ম্যাচগুলো ভিন্ন কোনো দেশে আয়োজন করতে চায়। তবে এটিও শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখবে কি না, তা সময় বলে দেবে।
এশিয়া কাপের দ্বন্দ্বের রেশ ওয়ানডে বিশ্বকাপেঃ
এশিয়া কাপের এ জটিলতার প্রভাব পড়েছে ওয়ানডে বিশ্বকাপের ওপরও। তাতে এখনও চূড়ান্ত করা যায়নি সূচি। আর সে কারণে অস্বস্তিতে রয়েছে পুরো ক্রিকেট বিশ্ব। এদিকে এশিয়া কাপ খেলতে ভারতের টালবাহানার কারণে বিশ্বকাপ নিয়েও ভিন্ন সুরে কথা বলছে পাকিস্তান।
গত ১১ মে ভারতের এক টিভি চ্যানেলকে পিসিবি সভাপতি নাজাম শেঠি জানিয়েছেন, পাকিস্তান তাদের বিশ্বকাপের ম্যাচ বাংলাদেশ বা অন্য কোথাও খেলতে চায়। নাজাম শেঠি বলেন, ‘এশিয়া কাপ হাইব্রিড মডেলে হলে বিশ্বকাপেও কার্যকর হতে হবে। আমরাও বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো তখন বাংলাদেশ বা অন্য কোথাও খেলব। একই মডেল চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতেও চলবে। ব্যাপারটা খুবই সরল। ভারত আমাদের দেশে খেলতে রাজি হলে, আমরাও বিশ্বকাপ খেলতে ওদের দেশে যাব।’
এশিয়া কাপ বাতিল হলে ভিন্ন প্রস্তাবঃ
এশিয়া কাপ বাতিল হলে নতুন এক টুর্নামেন্টের মডেল নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত ঘটিয়েছে বিসিসিআই। পাকিস্তানকে বাদ দিয়ে এশিয়া কাপের স্লটে ৫ দেশ নিয়ে একটা প্রতিযোগিতা করতে চায় তারা। এরই মধ্যে সেখানে সম্মতিও দিয়ে দিয়েছে শ্রীলঙ্কা; এ টুর্নামেন্টে খেলতে আপত্তি নেই তাদের। কোনো কারণে যদি এখন এশিয়া কাপ বাতিল হয়ে যায় এবং নতুন টুর্নামেন্টের মডেল বাস্তবায়নে সফল হয় বিসিসিআই, সেক্ষেত্রে বিপদ আরও বাড়তে পারে পাকিস্তানের। দেশটির গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, এর প্রভাব পড়বে আসন্ন বিশ্বকাপ এবং এফটিপির ওপরও। এছাড়া ক্রীড়াসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট দ্বন্দ্ব বন্ধ না হলে জনপ্রিয় এ খেলার ওপরও পড়তে পারে বিরূপ প্রভাব। তাতে সকলের ভালোর জন্য সমাধানের পথে হাঁটতে অনুরোধ করেছেন অনেকে।
আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ
- পে-স্কেল: জানুয়ারিতেই সর্বনিম্ন বেতন নির্ধারণ
- নবম পে-স্কেল: ২০ গ্রেডই বহাল, বেতন কত বাড়ল
- নতুন পে-স্কেল চূড়ান্ত: বেতন সর্বোচ্চ ১ লাখ ২০ হাজার সর্বনিম্ন কত
- আবারও পে স্কেল নিয়ে কমিশনের নতুন সিদ্ধান্ত
- নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে বাজেটে বরাদ্দ বাড়ল যত কোটি টাকা
- আজকের সোনার বাজারদর: ১৬ জানুয়ারি ২০২৬
- আজকের সোনার বাজারদর: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬
- চলছে জামাতের আসন ঘোষণা, (Live) দেখুন এখানে
- চাকরিজীবীদের জন্য ৬ দিনের ছুটির সুযোগ
- কেজিতে ২৫ টাকা বাড়ল পেঁয়াজের দাম
- সরকারি চাকুরের জন্য সুখবর: দুই দফায় ৬ দিনের টানা ছুটি
- এসএসসি পরীক্ষা ২০২৬; রুটিন দেখুন এক ক্লিকে
- ২৫৩ আসনে সমঝোতা ঘোষণা, জামায়াত-চরমোনাই কত
- লাফিয়ে বাড়ল সয়াবিন তেল ও চিনির দাম
- বেতন কমিশনের প্রতিবেদন জমা হবে ২১ জানুয়ারি: যা জানা গেলো
