| ঢাকা, মঙ্গলবার, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৫ মাঘ ১৪২৯

প্রত্যাবর্তন করতে যে যে ধাপ পার করতে হবে বিপিএল পারফর্মার নাসির হোসেনকে

২০২৩ জানুয়ারি ২৫ ২১:৫৭:০১
প্রত্যাবর্তন করতে যে যে ধাপ পার করতে হবে বিপিএল পারফর্মার নাসির হোসেনকে

আলমের খান: দেশের ক্রিকেটের আক্ষেপেরই এক নাম নাসির হোসেন। টেস্ট স্বীকৃতি পাওয়ার দুই যুগ পরও দেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা কয়েকজন ফিনিশারের নাম বলতে বলা হলে হাতেগোনা কয়েকজনের নাম হয়তো বলা যাবে। তবে সে হাতে গোনা কয়েকজনের মধ্যেও একজন ছিল অন্যতম।

একজন ছিল যে বাদবাকি সতীর্থদের মতো রক্ষণাতক ক্রিকেট খেলতো না। একজন ছিল যে পুঁচকে দেশের ক্রিকেটার হয়েও বাঘা বাঘা ক্রিকেটারদের মাথা উঁচু করে চ্যালেঞ্জ জানাতো। আর কেউ নয় কথা বলা হচ্ছে তর্কসাপেক্ষে দেশের ইতিহাসের সেরা ফিনিশার নাসির হোসেনের।

ধ্রুবতারার মতো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আগমন ঘটে নাসিরের। নিজের সেরা সময়ে দলগত ব্যর্থতার ভিড়েও ধ্রুবতারার মতো জ্বলজ্বল করতে থাকতো নাসিরের পারফরমেন্স। শুধু ব্যাট হাতে দলকে দারুন ফিনিশ করে দিয়েই সন্তুষ্ট থাকতেন না নাসির, বল হাতেও ভেলকি দেখাতেন হার হামেশাই। গুরুত্বপূর্ণ সময় ব্রেক থ্রু আনার ক্ষেত্রে সে সময়কার অধিনায়কদের প্রথম পছন্দ ছিলেন নাসির। তবে খুব দ্রুতই সম্ভাবনাময়ী এই তরুণের পতন দেখতে হয় দেশবাসীর। খামখেয়ালিপনা,ডিসিপ্লিনের অভাব এরকম নানা অভিযোগ ছিল নাসিরের বিরুদ্ধে।

অভিযোগগুলোর মধ্যে যথেষ্ট সত্যতাও ছিল। সবমিলিয়ে দারুন এই প্রতিভাধর ছেলেটি খুব দ্রুতই কোচদের ব্যাড বুকে নাম লেখানো শুরু করেন। তৎকালীন জাতীয় দলের কোচ চন্ডিকা হাতুড়িসিং ২০১৬ বিশ্বকাপ চলাকালীন সময় নাসিরের উপর বেশ রেগেও যান। এসব ঘটনা নাসিরের পারফরমেন্সেও প্রভাব ফেলে। ফলে সময়ের সাথে সাথে দলে নাসিরের জায়গা অনিশ্চিত হতে থাকে। ২০১৮ সালে শেষবারের মতো লাল সবুজ জার্সিতে দেখা যায় নাসিরকে। বিগত পাঁচ বছর ধরে জাতীয় দলে উপেক্ষিত এই ক্রিকেটার।

ঘরোয়া লীগের পারফরম্যান্সও কিছুদিন বেশ সাদামাটা হয়েছিল। এমনকি বিগত বিপিএলে দলও পাননি এই ক্রিকেটার। তবে ২০২৩ সালটি যেন নাসিরের প্রত্যাবর্তনের জন্যই এসেছে। বিগত আসরে দল না পাওয়া নাসিরকেই এবার নিজেদের অধিনায়ক বানিয়ে দেন ঢাকা ডমিনেটরস এর টিম ম্যানেজমেন্ট। ব্যাপারটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যথেষ্ট হাস্যরসের ব্যাপারও হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তবে স্বভাবতই সমালোচনার তোয়াক্কা না করে নিজের কাজটি করার ব্যাপারে বদ্ধপরিকর ছিলেন মিস্টার ফিনিশার। ব্যাট হাতে বর্তমানে টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক নাসির। ছয় ম্যাচে দুই ফিফটিতে করেছেন ২৬৯ রান।

ব্যাক টু ব্যাক ২ ম্যাচে ফিফটি করেছিলেন নাসির। নাসিরের গড় এবং স্ট্রাইক রেটও এক কথায় দুর্দান্ত। ৮৯.৮১ গড় এবং ১৩১.২২ স্ট্রাইক রেটে এবারের বিপিএলে ব্যাট করেছেন এই ক্রিকেটার। বল হাতেও ভেলকি দেখাতে ভুলেননি নাসির। ছয় ম্যাচে শিকার করেছেন সাতটি উইকেট, অধিকাংশ ম্যাচেই নিজের পুরো চার ওভারের কোটা সমাপ্ত করেছেন নাসির। অর্থাৎ পুরোদস্তর জেনুইন অলরাউন্ডার হিসেবেই নাসিরকে দলে পাচ্ছে ঢাকা।

সব মিলিয়ে এবারের বিপিএলে নাসিরের পারফরমেন্স বেশ সন্তোষজনক। এখন মূল প্রশ্ন সদ্য ত্রিশে পা দেওয়া নাসিরকে কি বাতিলের খাতায় ফেলে দিয়েছেন নির্বাচকেরা? শুধু বাংলাদেশ নয় বিশ্বজুড়েই ৩০ পেরানো ক্রিকেটারদের প্রতি এক ধরনের অবহেলা করতে দেখা যায়। যদিও অস্ট্রেলিয়া- নিউজিল্যান্ডে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু ত্রিশ উর্ধ্ব ক্রিকেটার দলে সুযোগ পেয়েছেন। তবে উপমহাদেশে এর নজির খুবই কম।

শুধু বয়স নয় বিভিন্ন কারণেই নাসিরকে একপ্রকার সাইড লাইনে রেখেছে বিসিবি। এমনকি বিসিবি কর্তাদের কাছে নাসিরের এ ধরনের পারফরমেন্সের প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলেও তেমন কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। ২০১৮ সালের পর বিসিবির বিভিন্ন ক্যাম্পেও নাসির উপেক্ষিত ছিল। প্রশ্ন জাগতেই পারে এক সময়কার পারফর্মার ক্রিকেটারকে ফিরে আসার সুযোগ করে দিচ্ছে না কেন বিসিবি। নাসিরকে নিয়ে বিসিবির কি চিন্তাভাবনা কিংবা আদৌ কোনো চিন্তাভাবনা আছে কিনা তা স্বয়ং বিসিবি ছাড়া কারো পক্ষে বলা সম্ভব নয়।

তবে বিপিএলে নাসিরের এমন পারফরমেন্সের কৃতিত্ব শুধুই নাসিরের। এ পারফরমেন্সের পেছনে উপর মহলের কারো সাহায্য কিংবা অনুপ্রেরণা খুব সম্ভবত পায়নি নাসির। নিজের পারফরমেন্সের এই ধারা অব্যাহত রাখলে নিশ্চিতভাবেই জাতীয় দলের জন্য বিবেচনায় রাখা উচিত নাসিরকে। কিংবা কমপক্ষে বিসিবির বিভিন্ন প্রোগ্রামে সুযোগ দেওয়া উচিত এই ক্রিকেটারকে। পরবর্তীতে সেখানেও ধারাবাহিক নাসিরের দেখা মিললে তখন তাকে জাতীয় দলের বিবেচনায় নিয়ে আসা হোক। বর্তমান জাতীয় দলে মিডল অর্ডারে এক ধরনের শূন্যস্থান তৈরি হয়েছে।

দেশের ক্রিকেটে বেশ কিছুদিন ধরেই পাঁচ নম্বর পজিশনে আদর্শ কাউকে পাওয়া যাচ্ছে না। মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, মোঃ মিঠুন, ইয়াসির আলী একাধিক ক্রিকেটারকে বিভিন্ন সময়ে পরখ করে দেখা হলেও আশানুরূপ পারফর্ম কেউ করতে পারেনি। এছাড়াও মাহমুদুল্লাহর ফর্ম ও বর্তমানে বেশ খারাপ। সেক্ষেত্রে এই পান্ডবের বিকল্পও হাতে রাখতে হবে নির্বাচকদের। অভিজ্ঞতা এবং সাম্প্রতিক ফর্ম সবকিছু মিলিয়ে জাতীয় দলের জন্য দারুন প্যাকেজ হতে পারেন নাসির। এছাড়াও নাসিরের অন্তর্ভুক্তিতে দলে বোলিং বিকল্পও বৃদ্ধি পাবে। নাসির নিজের কাজটুকু চালিয়ে যাক তাহলে সুযোগ নিজ থেকেই তার হাতে ধরা দিবে এই প্রত্যাশাই রইল।

পাঠকের মতামত:

ক্রিকেট এর সর্বশেষ খবর

ক্রিকেট - এর সব খবর



রে