| ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

নভেম্বরই পৃথিবী ধ্বংস হবে: ৬৬ বছর আগের গবেষণা ঘিরে আলোচনা

বিশ্ব ডেস্ক . বিনোদন৬৯.কম
২০২৬ অক্টোবর ১৩ ১৫:২২:৩৮
নভেম্বরই পৃথিবী ধ্বংস হবে: ৬৬ বছর আগের গবেষণা ঘিরে আলোচনা

নিজস্ব প্রতিবেদক: পৃথিবী ধ্বংস হতে আর মাত্র এক মাস বাকি—এমন দাবি শুনলে আতঙ্কিত হওয়াই স্বাভাবিক। তবে ৬৬ বছর আগে প্রকাশিত একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্রে ২০২৬ সালের ১৩ নভেম্বরকে কেন্দ্র করে যে আশঙ্কার কথা বলা হয়েছিল, সেটি পৃথিবী ধ্বংসের নিশ্চিত ভবিষ্যদ্বাণী নয়। বরং অতিরিক্ত জনসংখ্যা বৃদ্ধির সম্ভাব্য পরিণতি বোঝাতে করা হয়েছিল গাণিতিক হিসাব।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৬০ সালে বিজ্ঞানবিষয়ক জার্নাল সায়েন্স-এ প্রকাশিত ওই গবেষণায় মানবজাতির দীর্ঘমেয়াদি জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রবণতা বিশ্লেষণ করা হয়। অস্ট্রীয়-আমেরিকান পদার্থবিজ্ঞানী হাইঞ্জ ফন ফোয়েস্টার এবং ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয়ের কয়েকজন গবেষক এতে অংশ নেন।

কেন ১৩ নভেম্বর ২০২৬ তারিখটি আলোচনায়?

গবেষকদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, অতীতের প্রায় দুই হাজার বছরের জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রবণতা একইভাবে চলতে থাকলে পৃথিবীর জনসংখ্যা অস্বাভাবিক দ্রুতগতিতে বাড়তে পারে। তাঁদের গাণিতিক মডেল অনুসারে, ২০২৬ সালের ১৩ নভেম্বর জনসংখ্যা অসীমের কাছাকাছি পৌঁছানোর মতো একটি পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার কথা ছিল।

গবেষণাপত্রে সতর্ক করা হয়েছিল, জনসংখ্যা বৃদ্ধির এই ধারা অব্যাহত থাকলে খাদ্যসংকটের আগেই মানুষের বসবাসের জায়গা ও সম্পদের ওপর অসহনীয় চাপ তৈরি হতে পারে। অর্থাৎ, এটি কোনো নির্দিষ্ট দিনে পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাওয়ার ঘোষণা ছিল না; বরং জনসংখ্যা বৃদ্ধির একটি গাণিতিক মডেল থেকে পাওয়া সতর্কবার্তা।

বাস্তবে কেন মেলেনি সেই আশঙ্কা?

পরবর্তী সময়ে বিশ্বের জনসংখ্যা বৃদ্ধির চিত্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। বহু দেশে জন্মহার কমেছে এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতি আগের তুলনায় ধীর হয়েছে। ফলে ১৯৬০ সালের গবেষণায় ব্যবহৃত প্রবণতা যে অনির্দিষ্টকাল ধরে একইভাবে চলবে, বাস্তবে তা ঘটেনি।

জাতিসংঘের জনসংখ্যাবিষয়ক পূর্বাভাসে বিশ্বের জনসংখ্যা ভবিষ্যতে একটি সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর পর কমতে শুরু করতে পারে বলে ধারণা দেওয়া হয়েছে। তাই ২০২৬ সালের ১৩ নভেম্বর পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে—এমন দাবির কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

অতিরিক্ত জনসংখ্যা নয়, কম জন্মহারও এখন উদ্বেগ

জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতি কমে যাওয়ায় অনেক দেশে এখন উল্টো সমস্যা দেখা দিচ্ছে। জন্মহার কমে যাওয়া এবং বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকায় কর্মক্ষম মানুষের অনুপাত কমে যেতে পারে। এর ফলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শ্রমবাজার, পেনশন ব্যবস্থা ও স্বাস্থ্যসেবার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অর্থাৎ, বিশ্বের সব দেশের জন্য জনসংখ্যা বৃদ্ধিই একমাত্র সমস্যা নয়। কোনো দেশে অতিরিক্ত জনসংখ্যা সম্পদ ও পরিবেশের ওপর চাপ তৈরি করতে পারে, আবার অন্য দেশে জনসংখ্যা কমে যাওয়া অর্থনীতি ও সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থার জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

পারমাণবিক যুদ্ধ থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা—নতুন উদ্বেগ

১৯৬০ সালে যখন গবেষণাটি প্রকাশিত হয়, তখন বিশ্বজুড়ে চলছিল স্নায়ুযুদ্ধ। পারমাণবিক অস্ত্রের প্রতিযোগিতা এবং সম্ভাব্য বৈশ্বিক সংঘাত নিয়ে উদ্বেগ ছিল তীব্র। সময়ের সঙ্গে সেই উদ্বেগের তালিকায় যুক্ত হয়েছে জলবায়ু পরিবর্তন, পারমাণবিক যুদ্ধের ঝুঁকি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের আশঙ্কা।

এসব বৈশ্বিক ঝুঁকি তুলে ধরতে ১৯৪৭ সালে ‘বুলেটিন অব দ্য অ্যাটমিক সায়েন্টিস্টস’ প্রলয়ঘড়ি বা ‘ডুমসডে ক্লক’ চালু করে। ঘড়িটির মধ্যরাত মানবসভ্যতার বিপর্যয়ের প্রতীক। এর কাঁটা যত মধ্যরাতের কাছাকাছি আসে, বৈশ্বিক বিপদের মাত্রা নিয়ে তত বেশি সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ঘড়িটির কাঁটা মধ্যরাত থেকে ৮৫ সেকেন্ড দূরে নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর মাধ্যমে পারমাণবিক সংঘাত, জলবায়ু পরিবর্তন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ বিভিন্ন ঝুঁকি নিয়ে বিজ্ঞানীদের উদ্বেগ তুলে ধরা হয়।

তাহলে কি সত্যিই পৃথিবী ধ্বংসের পথে?

১৯৬০ সালের গবেষণাটি মনে করিয়ে দেয়, অতীতের প্রবণতা ভবিষ্যতেও একইভাবে চলবে—এমন ধরে নিয়ে করা হিসাব বাস্তবতার সঙ্গে সব সময় মেলে না। জনসংখ্যা, প্রযুক্তি, অর্থনীতি ও মানুষের আচরণ সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়।

তাই ১৩ নভেম্বর ২০২৬-কে পৃথিবী ধ্বংসের নির্ধারিত দিন হিসেবে দেখার কারণ নেই। বরং গবেষণাটির মূল শিক্ষা হলো, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, সম্পদের ব্যবহার এবং বৈশ্বিক ঝুঁকি সম্পর্কে বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা ও দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। মানবসভ্যতার ভবিষ্যৎ কোনো একটি তারিখের ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং বর্তমান ও ভবিষ্যতের সিদ্ধান্তের ওপর অনেকটাই নির্ভর করে।

সোহাগ/

আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ

ক্রিকেট

ভেজা মাঠে টস বিলম্ব, বাংলাদেশ-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে নতুন আপডেট

ভেজা মাঠে টস বিলম্ব, বাংলাদেশ-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে নতুন আপডেট

নিজস্ব প্রতিবেদক: এশিয়ান গেমসের পুরুষ ক্রিকেটের প্রথম সেমিফাইনালে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের ম্যাচ শুরু হতে বিলম্ব ...

লিটন-মিরাজের শতরানের জুটিতে লাঞ্চের আগে বাংলাদেশের লিড ৪৪৩

লিটন-মিরাজের শতরানের জুটিতে লাঞ্চের আগে বাংলাদেশের লিড ৪৪৩

নিজস্ব প্রতিবেদক: আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন বাংলাদেশের লিটন দাস। ...

ফুটবল

ব্রাজিল বনাম জাপান: কবে, কখন জেনে নিন সূচি

ব্রাজিল বনাম জাপান: কবে, কখন জেনে নিন সূচি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০২৬ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে জাপান ও সিঙ্গাপুরের মুখোমুখি হওয়ার কথা ব্রাজিল ...

হামজাকে ছাড়াই মাঠে নামবে বাংলাদেশ

হামজাকে ছাড়াই মাঠে নামবে বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর সাফ চ্যাম্পিয়নশিপকে সামনে রেখে প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ ...