স্মার্টফোন ক্যামেরায় নতুন চমক দেখাল শাওমি
নিজস্ব প্রতিবেদক: স্মার্টফোনের ক্যামেরায় বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে এসেছে শাওমি ১৮ প্রো ম্যাক্স। ফোনটিতে রয়েছে দুটি ২০০ মেগাপিক্সেলের রিয়ার ক্যামেরা এবং ‘লিজেন্ডারি মোমেন্ট’ (Legendary Moment) নামে নতুন একটি ইমেজিং ফিচার। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ছবিতে লেইকা ক্যামেরা ও ক্লাসিক ফিল্মের মতো রং, ডেপথ এবং ব্যাকগ্রাউন্ড ব্লারের আবহ তৈরি করতে পারে এই ফিচার।
শাওমির নতুন এই ফিচারটি মূলত সফটওয়্যার ও এআইনির্ভর। এর মাধ্যমে ছবিতে বিভিন্ন ধরনের কালার টোন, ব্যাকগ্রাউন্ড ব্লার এবং ক্যামেরার লুক যোগ করা যাবে। ফিচারটিতে রয়েছে তিন ধরনের ভিজ্যুয়াল স্টাইল—ক্লাসিক সিসিডি ক্যামেরার মতো রং, সাদাকালো ফিল্মের আবহ এবং আধুনিক লেইকা ক্যামেরার অনুপ্রাণিত লুক।
এ ছাড়া ৩৫ মিমি ও ৭৫ মিমি ফোকাল লেন্থের অনুভূতি তৈরির সুবিধাও থাকছে। ফলে একই দৃশ্যকে ভিন্ন ভিন্ন ফটোগ্রাফিক স্টাইলে উপস্থাপন করা সম্ভব হবে।
তবে এই প্রক্রিয়ায় শুধু ফোনের ভেতরের প্রসেসিং ব্যবহার করা হয় না। শাওমির তথ্য অনুযায়ী, লিজেন্ডারি মোমেন্ট ফিচারে ডিভাইসের পাশাপাশি ক্লাউড প্রসেসিংও ব্যবহৃত হতে পারে। অর্থাৎ, সব ধরনের প্রসেসিং ফোনেই সম্পন্ন হয়—এমন দাবি সঠিক নয়। ফিচারটি মূলত সফটওয়্যারের মাধ্যমে ছবির চেহারা ও উপস্থাপনা পরিবর্তন করে।
ফোনটির ক্যামেরা ব্যবস্থায় হার্ডওয়্যারগত উন্নয়নও রয়েছে। এর প্রধান ক্যামেরায় ব্যবহার করা হয়েছে ২০০ মেগাপিক্সেলের সেন্সর, যার আকার ১/১.২৮ ইঞ্চি। এতে রয়েছে এফ/১.৬৭ অ্যাপারচার ও অপটিক্যাল ইমেজ স্ট্যাবিলাইজেশন (OIS)। ফলে ছবি তোলার সময় হাত কেঁপে যাওয়ার প্রভাব কমানো এবং বিভিন্ন আলোক পরিস্থিতিতে ভালো ছবি পাওয়ার সুবিধা মিলতে পারে।
দ্বিতীয় ২০০ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরাটিতে রয়েছে পেরিস্কোপ টেলিফটো লেন্স। এটি ৩.২ গুণ অপটিক্যাল জুম এবং ৭৫ মিমি ফোকাল লেন্থ সমর্থন করে। শাওমির দাবি, ক্যামেরাটি ১২.৮ গুণ পর্যন্ত লসলেস জুম দিতে সক্ষম। পাশাপাশি ফোনটির পেছনে থাকছে ৫০ মেগাপিক্সেলের আলট্রাওয়াইড ক্যামেরা।
প্রধান ক্যামেরায় রয়েছে LOFIC প্রযুক্তি, যা ছবির উজ্জ্বল অংশে অতিরিক্ত আলো থাকলেও বিস্তারিত ধরে রাখতে সহায়তা করে। বিশেষ করে একই ছবিতে তীব্র আলো ও গভীর ছায়া থাকলে এই প্রযুক্তি কার্যকর হতে পারে। এর ফলে ছবির ডাইনামিক রেঞ্জ উন্নত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
চীনের বাজারে শাওমি ১৮ প্রো ম্যাক্সের প্রারম্ভিক দাম ৬ হাজার ৯৯৯ ইউয়ান, যা সরাসরি মুদ্রা রূপান্তরে প্রায় ৯৮৫ মার্কিন ডলারের সমান। তবে কর, আমদানি খরচ ও অন্যান্য ব্যয়ের কারণে বাংলাদেশে ফোনটির সম্ভাব্য দাম এর চেয়ে বেশি হতে পারে।
শাওমি জানিয়েছে, ফোনটি আন্তর্জাতিক বাজারেও আসবে। তবে বাংলাদেশসহ বৈশ্বিক বাজারে কবে এটি পাওয়া যাবে এবং আন্তর্জাতিক সংস্করণের দাম কত হবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট তথ্য জানানো হয়নি।
সব মিলিয়ে, শাওমি ১৮ প্রো ম্যাক্সে শুধু মেগাপিক্সেল বাড়ানো হয়নি; ক্যামেরার হার্ডওয়্যার, জুম সক্ষমতা, ডাইনামিক রেঞ্জ এবং এআইভিত্তিক ইমেজ প্রসেসিংয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এসব সুবিধা ফোনটিকে শাওমির ক্যামেরাকেন্দ্রিক ফ্ল্যাগশিপ মডেলগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য করে তুলতে পারে।
আশা/
