আশা ইসলাম
রিপোর্টার
নতুন তেলের খনিতে বদলে যাবে বাংলাদেশ
নিজস্ব প্রতিবেদন: সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার বাঘের সড়ক এলাকায় গ্যাস অনুসন্ধান করতে গিয়ে একটি নতুন তেল খনির সন্ধান পাওয়া গেছে। ১৯৮৬ সালে হরিপুরের পর এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় তেল খনি। এই আবিষ্কার দেশের জ্বালানি খাতে নতুন আশার আলো দেখালেও, এটি কি বাংলাদেশের ভাগ্য বদলে দেবে নাকি হরিপুরের মতো আরেকটি ব্যর্থতার গল্প হবে—তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
হরিপুরের ব্যর্থতা ও নতুন আশার আলো
১৯৮৬ সালে সিলেটের হরিপুরে তেলের খনি আবিষ্কার হলে পুরো জাতি আনন্দে উদ্বেলিত হয়েছিল। কিন্তু মাত্র আট বছরের মধ্যে খনিটি ফুরিয়ে যায়, যা দেশের জ্বালানি খাতে বড় ধরনের হতাশা সৃষ্টি করে। দীর্ঘ ৩৭ বছর পর নতুন করে তেলের সন্ধান পাওয়াকে তাই শুধু প্রযুক্তিগত সাফল্য নয়, বরং এক ধরনের মানসিক বিজয় হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
কী আছে নতুন খনিতে?
২০২৩ সালের ডিসেম্বরে সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের (এসজিএফএল) ১০ নম্বর কূপে গ্যাস অনুসন্ধানের সময় ১,৫০০ মিটার গভীরে এই তেল আবিষ্কৃত হয়। ড্রিলিং-এর সময় প্রতি ঘন্টায় ৩৫ ব্যারেল তেল পাওয়া গেছে, যা থেকে প্রতিদিন আনুমানিক ৮০০ ব্যারেল তেল উত্তোলন সম্ভব।
* তেলের পরিমাণ: বিশেষজ্ঞদের মতে, এই খনিতে প্রায় ৬ কোটি ব্যারেল তেল মজুত থাকতে পারে, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা।
* গ্যাসের পরিমাণ: তেলের পাশাপাশি এখানে ৪৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাসও পাওয়া গেছে, যার মূল্য ৮ হাজার কোটি টাকার বেশি।
চ্যালেঞ্জ ও শঙ্কা
যদিও এই আবিষ্কার আশাব্যঞ্জক, তবুও এর পেছনে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ ও শঙ্কা রয়েছে:
* স্বল্প উৎপাদন: বাংলাদেশের বার্ষিক তেলের চাহিদা প্রায় ৭২ লাখ টন, যা প্রায় পুরোটাই আমদানি করতে হয়। প্রতিদিন ৮০০ ব্যারেল তেল এই চাহিদার তুলনায় খুবই কম। তবে বছরে প্রায় ৩ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করা গেলে শত শত কোটি টাকা সাশ্রয় করা সম্ভব।
* বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক বদরুল ইমাম সতর্ক করে বলেন, হরিপুরের মতো ভুল করা যাবে না। হরিপুর খনিতে প্রাকৃতিকভাবে চাপ কমে গেলে তেল উত্তোলন বন্ধ হয়ে যায়। তাই নতুন এই খনি থেকে দীর্ঘমেয়াদী উত্তোলন নিশ্চিত করতে আধুনিক প্রযুক্তি এবং বড় ধরনের বিনিয়োগ প্রয়োজন।
* ভূরাজনৈতিক প্রভাব: বাংলাদেশের জ্বালানি খাত সবসময় ভূরাজনৈতিক খেলার একটি অংশ। এই নতুন আবিষ্কার ভারত, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো পরাশক্তির মনোযোগ আকর্ষণ করবে, যা নতুন রাজনৈতিক জটিলতা তৈরি করতে পারে।
* অর্থনৈতিক চাপ: নতুন এই প্রকল্পটির বাজেট ধরা হয়েছে ১২,৫৩২ কোটি টাকা। এত বিপুল পরিমাণ অর্থের সংস্থান কোথা থেকে হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জনের জন্য স্বচ্ছতা, দক্ষতা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা জরুরি।
সবকিছু মিলিয়ে, এই নতুন তেল খনি দেশের অর্থনৈতিক ও মানসিক দিক থেকে নতুন আশার জন্ম দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, সঠিক পরিকল্পনা ও স্বচ্ছতার মাধ্যমে এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো যায় কিনা।
আশা ইসলাম/
আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ
- ৩ ধাপে আসছে নবম পে-স্কেল: লাখো কর্মচারীর স্বপ্নে নতুন আলো
- ৩ ধাপে কার্যকর হতে যাচ্ছে নবম পে-স্কেল: সরকারি কর্মচারীদের জন্য বড় বার্তা
- মহার্ঘ ভাতা কার্যকর: ৪ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা কে কত টাকা পাবেন
- আজকের সোনার বাজারদর: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
- ঢাকায় শক্তিশালী ভূমিকম্প; মাত্রা ও উৎপত্তিস্থল কত
- দেশের বাজারে আজকের স্বর্ণের দাম
- শনিবার ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- সয়াবিন তেলের দাম তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন
- শনিবার ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না দেশের যেসব এলাকা
- দেশে আবারও ভূমিকম্প; উৎপত্তিস্থল ও মাত্রা কত
- পে স্কেলের পক্ষে প্রধানমন্ত্রী, গেজেট প্রকাশে বাধা কোথায়
- এলপিজি গ্যাসের দাম নিয়ে বড় সুখবর
- দেশে ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা
- Bou Result: বিএ ও বিএসএস পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ, ফল দেখুন একক্লিকে
- রাজধানীসহ সারা দেশে অনুভূত হলো ভূমিকম্প
