শাবান মাসে ৩ টি নফল রোজা রাখবেন যেভাবে এবং দোয়া
রমজানের প্রস্তুতি হিসেবে শাবান মাসে বেশি বেশি নফল রোজা রাখার কথা হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে। রাসূল সা. শাবান মাসের অধিকাংশ সময় রোজা রাখতেন। এই মাসে তিনি অন্যান্য মাসের মতো আইয়ামে বীজের রোজা, সপ্তাহে দুইদিন রোজা রাখতেন এবং মাসের অন্যান্য দিনগুলোতেও রোজা রাখতেন।
রাসূল সা.-এর অনুসরণে একজন মুসলমানের জন্য এই রোজাগুলো রাখা আবশ্যক। তবে শাবান মাসের পুরোটা সময় রোজা রাখা উচিত নয়, কারণ এ সময় চাঁদ ওঠা বা না ওঠার ব্যাপারে সন্দেহ থাকতে পারে। হাদিসের আলোকে রমজানের প্রস্তুতির জন্য তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আমল তুলে ধরা হলো:
রমজানের বরকত লাভের দোয়া
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রজব এবং শাবান মাসে রমজানের প্রস্তুতির জন্য কিছু বিশেষ আমল করতেন। এ মাস শুরু হলে তিনি এই দোয়া পড়তেন:
আরবি: اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِي رَجَبٍ وَشَعْبَانَ وَبلغنا رَمَضَانَ
বাংলা উচ্চারণ:‘আল্লাহুম্মা বারিকলানা ফি রাজাবা ওয়া শাবানা, ওয়া বাল্লিগনা রমাদান।’
অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমাদের জন্য রজব ও শাবান মাসকে বরকতময় করে দিন এবং আমাদের রমজান মাস পর্যন্ত পৌঁছে দিন।’ (সুনানে নাসায়ি, মুসনাদে আহমাদ)
রাসূল সা. যে নফল ইবাদতগুলো করতেন, তার মধ্যে একটি ছিল সপ্তাহে দুই দিন—সোম ও বৃহস্পতিবার—রোজা রাখা।
সোম ও বৃহস্পতিবারের রোজা
হজরত আবু কাতাদা আনসারি রা. থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে বলা হয়েছে, রাসূল সা.কে যখন সোম ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখার কারণ জানতে চাওয়া হয়, তিনি বলেন, "এই দিন আমি জন্মগ্রহণ করেছি এবং এই দিনেই আমার ওপর কোরআন নাজিল হয়েছে।" (মুসলিম, হাদিস ২৮০৭; ইবনে খুজাইমা, হাদিস ২১১৭; মুসনাদে আহমাদ, হাদিস ২২৫৫০; সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ২৪২৮)
হজরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত হাদিসে বলা হয়েছে, "সোম ও বৃহস্পতিবার আল্লাহর কাছে আমল উপস্থাপন করা হয়। তাই আমি চাই, আমার আমল যেন রোজা থাকার সময় আল্লাহর কাছে উপস্থাপন করা হয়।" (তিরমিজি, হাদিস ৭৪৭; সুনানে নাসায়ি, হাদিস ২৬৬৭)
আইয়ামে বীজের রোজা
আইয়াম শব্দের অর্থ হলো 'দিনগুলো' এবং বীজ শব্দের অর্থ হলো 'শুভ্র' বা 'সাদা'। আইয়ামে বীজের মাধ্যমে বোঝানো হয়, চন্দ্র মাসের ১৩, ১৪, এবং ১৫ তারিখগুলো। এই দিনগুলোতে রাতগুলো আলোকিত থাকে, বিশেষ করে মরুভূমিতে যা স্পষ্টভাবে দেখা যায়। এজন্য এই তারিখগুলোকে 'আইয়ামে বীজ' বলা হয়।
রাসূল সা. আইয়ামে বীজে (১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে) রোজা রাখতেন এবং সাহাবিদেরও রোজা রাখার জন্য উৎসাহিত করতেন। হজরত আবু যর রা. থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসূল সা. বলেন, "হে আবু যর! যখন তুমি মাসের মধ্যে তিন দিন রোজা রাখবে, তখন ১৩, ১৪, ১৫ তারিখে রোজা রাখবে।" (তিরমিজি, নাসায়ি, মিশকাত)
যদি এই তারিখগুলোতে রোজা রাখা সম্ভব না হয়, তবে মাসের অন্য কোন দিনেও রোজা রাখা যেতে পারে। হজরত আয়শা রা. বলেন, "রাসূল সা. মাসের যেকোন দিন তিনটি রোজা রাখতেন।" (মুসলিম হা/২৮০১; মিশকাত হা/২০৪৬)
প্রত্যেক মাসে ৩টি করে রোজা পালন করলে, তা সারা বছরের নফল রোজার সমান সওয়াব লাভের সমতুল্য হবে। আব্দুল্লাহ ইবনে আ’মর ইবনে আ’স (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে বলা হয়েছে, "প্রতি মাসে তিনটি রোজা পালন, সারা বছর রোজা রাখার সমান সওয়াব এনে দেয়।" (বুখারি শরীফ)
আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ
- নতুন পে স্কেল নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের বড় সিদ্ধান্ত: চূড়ান্ত হচ্ছে কাঠামো
- নতুন মহার্ঘ ভাতা: কার বেতন কত বাড়ছে জানালো অর্থ মন্ত্রণালয়
- নতুন পে স্কেল নিয়ে যা বললেন উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ
- পে স্কেলে স্বতন্ত্র বেতন কাঠামো নিয়ে যা জানা গেল
- বিচ্ছেদের গুঞ্জন সত্যি হলো: কেন আলাদা হলেন তাহসান ও রোজা
- নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন বিএনপির যেসব বিদ্রোহী নেতা
- এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচী ঘোষণা
- আজকের সোনার বাজারদর: ১২ জানুয়ারি ২০২৬
- ২০২৬ সালে বাড়ল সরকারি ছুটি; তালিকা দেখুন
- যার নির্দেশে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় মির্জা ফখরুলের উপর হামলা হয়
- বিসিবির অনুরোধ কি শেষ পর্যন্ত রাখলো আইসিসি? যা জানা গেল
- দেশের সরকারি অফিসের জন্য জরুরি নির্দেশনা
- জানুয়ারিতেই পে স্কেলের দাবি: ১৬ জানুয়ারি অনশনের ডাক সরকারি কর্মচারীদের
- নবম পে-স্কেলের নতুন প্রস্তাব: সর্বনিম্ন বেতন ৩২ হাজার করার দাবি কর্মচারীদের
- প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা যে দিন; যেভাবে দেখবেন
