| ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২ আশ্বিন ১৪২৯

ইতিহাসে এই প্রথম জাতীয় দলে পিতা-পুত্র

২০২২ জুলাই ২৬ ১৮:১৪:২৪
ইতিহাসে এই প্রথম জাতীয় দলে পিতা-পুত্র

বিশ্ব দাবা অলিম্পিয়াড ২৯ জুলাই ভারতের চেন্নাইয়ে শুরু হচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দলের জন্য সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই দাবা টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের ১০ জন দাবাড়ু অংশ নিচ্ছেন। কোথায় গ্র্যান্ডমাস্টার জিয়াউর রহমান ও তার ছেলে তাহসিন তাজওয়ার জিয়া।

একই সঙ্গে শুধু বাংলাদেশে নয়, দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথমবারের মতো দাবা অলিম্পিয়াডে খেলছেন বাবা-ছেলে। এমনকি যারা দীর্ঘদিন ধরে দাবা খেলায় জড়িত, তারাও বলতে পারেননি পৃথিবীর আর কোনো দেশে এমন অবস্থা আছে কি না।

দাবা অলিম্পিয়াডে অংশ নিতে বুধবার সন্ধ্যায় ভারতের উদ্দেশে রওনা হবে বাংলাদেশি দল। মঙ্গলবার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সভাকক্ষে অলিম্পিকে দাবা দলের অংশগ্রহণ উপলক্ষ্যে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গ্র্যান্ডমাস্টার জিয়াউর রহমান ও তার ছেলে তাহসিন তাজওয়ার জিয়া উভয়েই একসঙ্গে খেলতে পেরে দারুণ খুশি বলে জানান।

ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় এর আগে দুই জন একাধিকবার মুখোমুখি হয়েছেন। তবে জাতীয় দলে একসঙ্গে খেলার সুযোগ এটিই প্রথম। জিয়া-পুত্র তাহসিন বলেন, ‘আমার খুব ভালো লাগছে। স্বপ্নের মতো লাগছে। আমি বাবার সঙ্গে দাবা অলিম্পিয়াড দেখতে অনেকবার বিদেশে গিয়েছি। কিন্তু এত তাড়াতাড়ি খেলতে যাবো সেটা কল্পনাও করিনি। আমি চেষ্টা করবো ভালো খেলার।’

নিজের ছেলে তাহসিন প্রসঙ্গে জিয়া বলেছেন, ‘তাহসিন এখন ফর্মে আছে। সে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে ভালো করেছে, প্রিমিয়ার লিগেও ভালো খেলেছে। প্রিমিয়ার লিগে তাহসিন ছিল বাংলাদেশ বিমানে, আমি ছিলাম পুলিশে। আমরা প্রিমিয়ার লিগে দুইবার পরস্পরের মুখোমুখি হয়েছিলাম। আমার বিশ্বাস তাহসিন অলিম্পিয়াডে ভালো করবে।’

পিতা জিয়ার সম্পর্কে তাহসিনের মন্তব্য, ‘বাবা আমার চেয়ে সবদিক দিয়ে ভালো খেলোয়াড়। তিনি গ্র্যান্ডমাস্টার। তিনি আমার আইডল।’ কখনও মনে হয়েছে বাবার সঙ্গে জাতীয় দলে পাশাপাশি বোর্ডে খেলবেন? তাজওয়ার জিয়ার উত্তর, ‘এটি আমার কাছে স্বপ্নের মতো। আমি স্বপ্ন দেখেছি জাতীয় দলে খেলার, অলিম্পিয়াডে খেলার। কিন্তু বাবার সঙ্গে একসঙ্গে খেলতে পারবো এটা ভাবিনি।’

বাবা তো গ্র্যান্ডমাস্টার। আপনি কী হতে চান? উত্তরে জিয়া-পুত্র বলেছেন, ‘আমি সুপার গ্র্যান্ডমাস্টার হতে চাই। আমি বাবাকে ছাড়িয়ে যেতে চাই। বাকিটা আল্লাহর ইচ্ছা। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।’

১৯৮৪ সাল থেকে বাংলাদেশ দাবা অলিম্পিয়াডে অংশ নিয়ে আসছে। এর মধ্যে সবচেয়ে ভালো ফলাফল ছিল ২০১২ সালে। ওই আসরে বাংলাদেশ ওপেন বিভাগে এশিয়া মহাদেশের মধ্যে সপ্তম এবং দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে প্রথম হয়েছিল। একই বছর বিশ্ব সিটিজ দলগত দাবায় বাংলাদেশ শীর্ষ ১৬ দেশের মধ্যে ছিল।

বিশ্ব দাবা অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশ দল

ফেডারেশন অফিসিয়াল: কে এম শহিদউল্যা, কংগ্রেস ডেলিগেট : সৈয়দ শাহাবুদ্দিন শামীম, হেড অব ডেলিগেশন: ড. শোয়েব আলম রিয়াজ, ফেডারেশন কর্মকর্তা জাকির আহমেদ, বিচারক : মো. হারুন অর রশিদ।

ওপেন বিভাগ বা পুরুষ দল: গ্র্যান্ডমাস্টার এনামুল হোসেন রাজীব, গ্র্যান্ডমাস্টার জিয়াউর রহমান, গ্র্যান্ডমাস্টার নিয়াজ মোরশেদ, ফিদেমাস্টার মেহেদী হাসান পরাগ ও ক্যান্ডিডেটমাস্টার তাহসিন তাজওয়ার জিয়া। ক্যাপ্টেন: মাসুদুর রহমান মল্লিক দিপু।

নারী দল: নারী ক্যান্ডিডেটমাস্টার জান্নাতুল ফেরদৌস, নারী ফিদেমাস্টার নোশিন আঞ্জুম, নারী ফিদেমাস্টার শারমিন সুলতানা শিরিন, নারী ফিদেমাস্টার নাজরানা খান ইভা ও উম্মে তাসলিমা প্রতিভা তালুকদার। ক্যাপ্টেন: নারী ক্যান্ডিডেটমাস্টার মাহমুদা হক চৌধুরী মলি।

পাঠকের মতামত:

খেলাধুলা এর সর্বশেষ খবর

খেলাধুলা - এর সব খবর



রে