| ঢাকা, মঙ্গলবার, ৫ জুলাই ২০২২, ২১ আষাঢ় ১৪২৯

নতুন এক অধ্যায়ের সুচনার লক্ষে বিজয়

২০২২ জুন ২৩ ১৫:৫৩:০৯
নতুন এক অধ্যায়ের সুচনার লক্ষে বিজয়

বাংলাদেশের দুর্দান্ত আনামুল হক বিজয়ের ২০১৩ সালে গলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে টেস্ট অভিষেক ঘটে। অভিষেকের দেড় বছরের মধ্যে চার টেস্ট খেলে ফেলেন ডানহাতি এই ওপেনার। সর্বশেষ ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে ইউন্ডিজের বিপক্ষে সেইন্ট লুসিয়ায় খেলেছিলেন সর্বশেষ টেস্ট। বাজে পারফরম্যান্সের কারণে চার টেস্ট খেলেই দল থেকে বাদ পড়েন বিজয়।

দলের হয়ে মাঠে নামেনি এই ব্যাটার দীর্ঘ বছর। এরপর আট বছরের অপেক্ষা। অবশেষে সেই সেইন্ট লুসিয়া দিয়ে আবার টেস্টে ফিরতে চলেছেন এই ডানহাতি ওপেনার। আগের চার টেস্টে মোটে ৭৩ রান করা বিজয় অবশ্য সর্বশেষ জাতীয় লিগে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের কারণে দলে সুযোগ পেতে যাচ্ছেন, বিষয়টি এমন নয়।

সর্বশেষ মৌসুমে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে মাত্র ২৮ গড়ে করেছিলেন ৩৯৬ রান। অবশ্য এই ফরম্যাটে ঘরোয়া লিগে বিজয়ের পারফরম্যান্স আশা জাগানিয়া। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১০৫ ম্যাচে ২২ শতকে ৪৫ গড়ে প্রায় সাড়ে চার হাজার রান আছে বিজয়ের। অবশ্য সর্বশেষ ডিপিএলে ব্যাট হাতে আগুণে পারফরম্যান্সের কারণে সাদা বলের দলে সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। সেখান থেকে সতীর্থদের বাজে পারফরম্যান্সের কারণে টেস্ট দলে ফিরেছেন বিজয়। অবশ্য এতকিছু নিয়ে ভাবছেন না এই ডানহাতি ক্রিকেটার।

বরং বিসিবির পক্ষ থেকে এক ভিডিওবার্তায় জানিয়েছেন, টেস্ট ক্রিকেটকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসেন বলে এই ফরম্যাটে সুযোগ পেলে সেই সুযোগের সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে চান তিনি। এই ক্রিকেটার ৮ বছর পর দলে অন্তর্ভূক্তিকে নিজের জন্য বড় সুযোগ বলেও দেখছেন।

ভিডিওবার্তায় বিজয় বলেন, ‘এটা সত্যি যে আমি সাদা বলের ক্রিকেটে ডাক পেয়েছিলাম এবং সাদা বলে অনুশীলন করছিলাম। তবে মাথার ভেতর সবসময়… আগেও অনেকবার বলেছি এবং নিজে বিশ্বাস করি, টেস্ট ক্রিকেট অনেক বেশি ভালোবাসি। এটা আমার মধ্যে অনেক বেশি তীব্রভাবে কাজ করে। যখন সুযোগ পাব, অবশ্যই লুফে নেওয়ার চেষ্টা করব।

৮ বছর পর টেস্টে ডাক পেয়েছি, আমার জন্য এটা বড় সুযোগ। আমি যে আসলেই টেস্ট পছন্দ করি, তা দেখানোর বড় সুযোগ এটি। আমি অবশ্যই রোমাঞ্চিত। প্রক্রিয়াটা অনুসরণ করব, যেভাবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট এতদিন ধরে অনুসরণ করে আসছি। নতুন করে কিছু বদলাতে চাই না। যেভাবে এতদিন খেলেছি মন দিয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে, সেটাই চেষ্টা করব দেশের জন্য করার।

এটাই আমার সাহস, এটাই শক্তি। আমি মনে করি যে এটা আমাকে বাড়তি সাহস জোগায়, মনের কোণে থাকে, নিজেকে একটা জায়গায় নিয়ে গেছি যে এই জিনিসগুলো দেখলে আমার বাড়তি প্রেরণা বলুন বা আত্মবিশ্বাস, আসে এটা। অবশ্যই এটা আমাকে সাহায্য করবে।

আমার জন্য এটা বড় অভিজ্ঞতা যে এতদিন ধরে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলেছি। প্রতিটি ক্রিকেটারের স্বপ্ন থাকে যে সে অভিজ্ঞ হবে এবং অভিজ্ঞতা কাজে লাগাবে। আমিও আশাবাদী যে অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে এবং দেশের হয়ে অবদান রাখতে পারব।’

সুযোগ পেলে নিজের সেরাটা দিয়ে দলের দ্রুত উইকেট হারানোর সমস্যা দূর করার পাশাপাশি টাইগারদের ভালো সংগ্রহ এনে দেওয়ার ব্যাপারেও আশাবাদী বিজয়। তিনি আরও বলেন, ‘আমি যদি সুযোগ পাই, নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব, যেন বাংলাদেশ দলকে ভালো একটা সংগ্রহ দিতে পারি স্কোরবোর্ডে। দ্রুত উইকেট পড়ে যাওয়াটা থামানো থেকে শুরু করে রানটাকে এগিয়ে নেওয়া, ওই জায়গাটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য।’

উইন্ডিজে দলের সঙ্গে যোগ দিতে পেরে আনন্দিত বিজয় আশা করছেন এই বাংলাদেশ দলকে নিয়ে অনেকদূর যাওয়া সম্ভব।

নিজয়ের ভাষ্যে, ‘খুবই ভালো লাগছে। এবার এসে আনন্দ পেয়েছি। আমার বয়সী যারা বা আমার জুনিয়র ও সিনিয়র, সবাই খুব ভালোভাবে স্বাগত জানিয়েছে। দল হিসেবেও মনে হচ্ছে আমরা ভালো অবস্থানে আছি।

অবশ্যই হয়তো ফলাফল আমাদের পক্ষে আসেনি, আসছে না কিছুদিন হলো। তবে আমি মনে করি, এই দল বাংলাদেশকে অনেক দূর নিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে এবং আশাও করি তা। আমি চাইব, সবসময় এই দলের অংশ হয়ে থাকতে।’

পাঠকের মতামত:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

ক্রিকেট এর সর্বশেষ খবর

ক্রিকেট - এর সব খবর



রে