নবম ব্যালন ডি’অর জিতবেন মেসি, আলোচনায় যে যুক্তিগুলো
নিজস্ব প্রতিবেদক: ফুটবল ইতিহাসে আরও একটি ব্যক্তিগত মাইলফলক গড়ার সুযোগ রয়েছে লিওনেল মেসির সামনে। আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই আর্জেন্টাইন তারকা ২০২৬ সালের পুরস্কারের জন্যও মনোনয়ন পেয়েছেন। তবে এবার তাঁর সামনে রয়েছে হ্যারি কেইন, কিলিয়ান এমবাপ্পে ও লামিনে ইয়ামালের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী। ফলে মেসি নবমবারের মতো বিশ্বের সেরা ফুটবলারের স্বীকৃতি পাবেন কি না, তা নিয়ে চলছে আলোচনা।
ইন্টার মায়ামির হয়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স এবং ২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে দুর্দান্ত ব্যক্তিগত নৈপুণ্য মেসির পক্ষে যুক্তি তৈরি করেছে। তবে ব্যালন ডি’অর জিততে ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানের পাশাপাশি বড় প্রতিযোগিতায় দলের সাফল্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন মেসি। টুর্নামেন্টে আটটি গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে চারটি গোল করিয়েছেন তিনি। অর্থাৎ গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে ১২টি গোলে সরাসরি অবদান ছিল তাঁর।
তবে ফাইনালে স্পেনের কাছে অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলে হেরে শিরোপা হাতছাড়া করে আর্জেন্টিনা। ফলে বিশ্বকাপ জয়ের ট্রফি মেসির হাতে ওঠেনি। তবু পুরো টুর্নামেন্টে তাঁর ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স ব্যালন ডি’অরের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য হতে পারে।
ইন্টার মায়ামির হয়ে ২০২৫ মৌসুমে মেসি মেজর লিগ সকারে ২৯টি গোল করেন এবং ১৯টি অ্যাসিস্ট দেন। এই পারফরম্যান্সের সুবাদে তিনি লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার জেতেন এবং টানা দ্বিতীয়বারের মতো এমএলএসের সবচেয়ে মূল্যবান খেলোয়াড় নির্বাচিত হন।
তবে ব্যালন ডি’অর নিয়ে আলোচনায় একটি প্রশ্ন প্রায়ই ওঠে, এমএলএসের পারফরম্যান্সকে ইউরোপের শীর্ষ লিগগুলোর পারফরম্যান্সের সঙ্গে কীভাবে তুলনা করা হবে? প্রতিযোগিতার মান, প্রতিপক্ষের শক্তি এবং খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত অবদান বিবেচনা করে ভোটারদের সিদ্ধান্ত নিতে হয়। তাই শুধু গোলের সংখ্যা দিয়ে সম্ভাব্য বিজয়ী নির্ধারণ করা কঠিন।
২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর নিয়ে আলোচনায় হ্যারি কেইনকে অন্যতম শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে। ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে তাঁর গোল করার ধারাবাহিকতা তাঁকে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এগিয়ে রেখেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে লামিনে ইয়ামাল, কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং আরও কয়েকজন তারকার পারফরম্যান্সও ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে। বড় টুর্নামেন্টে সাফল্য, ব্যক্তিগত পরিসংখ্যান ও দলের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে অবদান, সব মিলিয়েই শেষ পর্যন্ত প্রতিযোগিতা নির্ধারিত হবে।
মেসির পক্ষে সবচেয়ে বড় যুক্তি হলো তাঁর দীর্ঘদিনের ধারাবাহিকতা এবং বড় মঞ্চে পারফর্ম করার অভিজ্ঞতা। বিশ্বকাপে আট গোল ও চার অ্যাসিস্ট এবং ক্লাব ফুটবলে তাঁর রেকর্ড ব্যালন ডি’অরের আলোচনায় তাঁকে উপেক্ষা করা কঠিন করে তোলে।
তবে তাঁর বয়স, এমএলএসের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান এবং বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনার পরাজয়ও মূল্যায়নের অংশ হতে পারে। এসব বিষয় কীভাবে ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।
মেসি এরই মধ্যে আটবার ব্যালন ডি’অর জিতে রেকর্ড গড়েছেন। এবার নবমবারের মতো পুরস্কার জিতলে সেই রেকর্ড আরও সমৃদ্ধ হবে। কিন্তু ব্যক্তিগত নৈপুণ্য যতই উজ্জ্বল হোক, অন্য মনোনীতদের পারফরম্যান্সের সঙ্গে তুলনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ইন্টার মায়ামির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অরের বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে ২৬ অক্টোবর, লন্ডনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে। মেসি ৩০ জন মনোনীত খেলোয়াড়ের একজন।
তাই মেসির নবম ব্যালন ডি’অর জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা থাকলেও তাঁকে নিশ্চিত বিজয়ী বলা যাচ্ছে না। পুরস্কার ঘোষণার আগ পর্যন্ত হ্যারি কেইন ও অন্য মনোনীতদের পারফরম্যান্সও আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে।
আয়শা/
