iBAS++ পে ফিক্সেশন ২০২৬: সেন্ড ব্যাক ও পিআরএলের নিয়ম
নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬ অনুযায়ী সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন নির্ধারণ বা পে ফিক্সেশন নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে iBAS++ পোর্টালে আবেদন ‘সেন্ড ব্যাক’ হলে করণীয়, অবসর-পূর্ব ছুটিতে (পিআরএল) থাকা কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণ, নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের তথ্য এন্ট্রি এবং প্রেষণে কর্মরতদের পে ফিক্সেশন নিয়ে জানতে চাচ্ছেন অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী।
এসব ক্ষেত্রে সঠিক নিয়ম অনুসরণ না করলে আবেদন সংশোধন, অনুমোদনে বিলম্ব কিংবা পরবর্তী সময়ে বেতন ও পেনশনের হিসাব সমন্বয়ের প্রয়োজন হতে পারে। তাই পে ফিক্সেশন করার আগে চাকরির রেকর্ড, যোগদানের তারিখ, মূল বেতন এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি নির্দেশনা যাচাই করা জরুরি।
তবে জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬ এবং এ-সংক্রান্ত পে ফিক্সেশন নির্দেশনার চূড়ান্ত বিধান সংশ্লিষ্ট সরকারি পরিপত্র, গেজেট ও iBAS++-এর আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা থেকে নিশ্চিত করতে হবে।
১. iBAS++ পে ফিক্সেশন সেন্ড ব্যাক হলে কী করবেন?
পে ফিক্সেশনের আবেদন জমা দেওয়ার পর কোনো তথ্যের অসংগতি বা সংশোধনের প্রয়োজন দেখা দিলে আবেদন ফেরত আসতে পারে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ড্রয়িং অ্যান্ড ডিসবার্সিং অফিসার (DDO) এবং হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
তবে সব শ্রেণির কর্মচারীর আবেদন ফেরত পাঠানোর ক্ষমতা ও প্রক্রিয়া এক নয়। জিওবি (GOB) এবং এসডিও (SDO) শ্রেণির কর্মচারীদের ক্ষেত্রে পোর্টালে নির্ধারিত ওয়ার্কফ্লো অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।
আবেদন সেন্ড ব্যাক হলে করণীয়:
-
iBAS++ পোর্টালে দেওয়া আপত্তি বা মন্তব্য মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।
-
নাম, পদবি, গ্রেড, যোগদানের তারিখ ও মূল বেতনের তথ্য যাচাই করুন।
-
সংশ্লিষ্ট চাকরির নথির সঙ্গে পোর্টালে দেওয়া তথ্য মিলিয়ে নিন।
-
কোন পর্যায় থেকে আবেদন ফেরত এসেছে, তা শনাক্ত করুন।
-
প্রয়োজন হলে DDO বা সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের সহায়তা নিন।
একই ভুল সংশোধন না করে বারবার আবেদন জমা দিলে সমস্যার সমাধান নাও হতে পারে। তাই পুনরায় সাবমিট করার আগে আপত্তির কারণ নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
২. পিআরএল শেষ হলে কি নতুন বেতনস্কেলে পে ফিক্সেশন করা যাবে?
সরকারি চাকরিজীবীদের পিআরএল বা অবসর-সংশ্লিষ্ট ছুটির ক্ষেত্রে পে ফিক্সেশন নিয়ে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর পিআরএল শুরুর ও শেষ হওয়ার তারিখ, অবসরের কার্যকর তারিখ এবং ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে তাঁর চাকরিগত অবস্থা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, যাঁদের পিআরএল ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে শেষ হয়েছে এবং যাঁদের পিআরএল ১ জুলাই ২০২৬ তারিখেও চলমান ছিল, তাঁদের ক্ষেত্রে নতুন বেতনস্কেল প্রয়োগের বিষয়টি আলাদাভাবে বিবেচনা করার কথা বলা হয়েছে।
তবে এই দুই শ্রেণির কর্মচারীর জন্য ঠিক কী নিয়ম প্রযোজ্য হবে, তা সংশ্লিষ্ট সরকারি গেজেট ও অর্থ বিভাগের নির্দেশনা ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। বিশেষ করে পেনশন নির্ধারণের জন্য বেতন পুনর্নির্ধারণের প্রয়োজন আছে কি না, সেটিও প্রযোজ্য বিধি অনুযায়ী যাচাই করতে হবে।
পিআরএলভোগীদের যে তথ্যগুলো যাচাই করা জরুরি:
১. পিআরএল শুরুর ও শেষ হওয়ার তারিখ।২. অবসরের কার্যকর তারিখ এবং অবসর-সংক্রান্ত আদেশ।৩. ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে চাকরিগত অবস্থা।৪. নতুন বেতনস্কেল পেনশন নির্ধারণে প্রযোজ্য কি না।৫. সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও কাগজপত্র।
শুধু অনলাইন পোস্ট বা অন্য কর্মচারীর অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পে ফিক্সেশনের সিদ্ধান্ত না নিয়ে নিজের চাকরির রেকর্ড ও প্রযোজ্য বিধান যাচাই করুন।
৩. ১ জুলাই ২০২৬ বা এরপর নিয়োগপ্রাপ্তদের পে ফিক্সেশন
নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে নিয়োগের তারিখ, পদ, গ্রেড এবং প্রারম্ভিক মূল বেতন গুরুত্বপূর্ণ। পুরোনো কর্মচারীদের মতো তাঁদের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী বেতন বা ইনক্রিমেন্টের তথ্য সব সময় প্রযোজ্য হয় না।
প্রদত্ত নির্দেশনামূলক তথ্যে ১ জুলাই ২০২৬ বা তার পরে যোগদানকারী কর্মচারীদের জন্য iBAS++ পোর্টালে ‘First Recruitment’ অপশন ব্যবহারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর ক্ষেত্রে এই অপশন প্রযোজ্য কি না, তা পোর্টালের বর্তমান নির্দেশনা ও সরকারি বিধি অনুযায়ী নিশ্চিত করতে হবে।
নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ যাচাই:
-
নিয়োগপত্র অনুযায়ী পদবি ও গ্রেড সঠিকভাবে নির্বাচন করা হয়েছে কি না।
-
যোগদানের তারিখ নিয়োগ ও যোগদানসংক্রান্ত নথির সঙ্গে মিলছে কি না।
-
প্রারম্ভিক মূল বেতন সঠিকভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে কি না।
-
পূর্ববর্তী চাকরির বেতন ভুল করে নতুন নিয়োগের তথ্যের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কি না।
-
iBAS++-এ সঠিক এন্ট্রি অপশন ব্যবহার করা হয়েছে কি না।
তথ্য এন্ট্রির আগে অফিসের প্রশাসনিক শাখা ও DDO-এর সঙ্গে প্রয়োজনীয় তথ্য মিলিয়ে নিলে ভুলের ঝুঁকি কমতে পারে।
৪. প্রেষণে কর্মরতদের বেতন কোন অফিসের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে?
প্রেষণ বা ডেপুটেশনে কর্মরত সরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে মূল দপ্তর, বর্তমান কর্মস্থল এবং প্রেষণ-সংক্রান্ত আদেশের তথ্য গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের বেতন নির্ধারণে কোন দপ্তরের রেকর্ড অনুসরণ করতে হবে, তা প্রযোজ্য চাকরিবিধি ও প্রেষণের শর্তের ওপর নির্ভর করতে পারে।
প্রদত্ত তথ্যে ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে প্রেষণে কর্মরতদের বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে মূল দপ্তরের প্রাপ্য মূল বেতন বিবেচনার কথা বলা হয়েছে। তবে সব ধরনের প্রেষণের ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রযোজ্য কি না, তা সরকারি নির্দেশনা ছাড়া নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
প্রেষণে কর্মরতদের যে বিষয়গুলো যাচাই করা উচিত:
১. মূল দপ্তরে সর্বশেষ অনুমোদিত মূল বেতন।২. মূল পদ ও গ্রেডের সঠিক তথ্য।৩. প্রেষণ আদেশের কার্যকারিতা ও বেতন-সংক্রান্ত শর্ত।৪. ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে প্রযোজ্য বেতন নির্ধারণের বিধান।৫. মূল দপ্তর ও বর্তমান কর্মস্থলের মধ্যে বেতন-সংক্রান্ত দায়িত্ব বণ্টন।
পে ফিক্সেশন সাবমিট করার আগে মূল দপ্তরের বেতন বিবরণী এবং প্রেষণ আদেশের সঙ্গে তথ্য মিলিয়ে নিন। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক শাখা বা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের লিখিত নির্দেশনা নিন।
পে ফিক্সেশনে ভুল এড়াতে ৬টি করণীয়
iBAS++-এ বেতন নির্ধারণের সময় জটিলতা এড়াতে সরকারি চাকরিজীবীদের কয়েকটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
-
নাম, পদবি, গ্রেড, যোগদানের তারিখ ও মূল বেতন যাচাই করুন।
-
আবেদন ফেরত এলে পোর্টালে দেওয়া আপত্তির কারণ বুঝে সংশোধন করুন।
-
পিআরএল বা অবসর-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অবসর আদেশ ও চাকরির রেকর্ড মিলিয়ে নিন।
-
নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত হলে সঠিক এন্ট্রি অপশন ব্যবহার করুন।
-
প্রেষণে কর্মরত হলে মূল দপ্তরের বেতন রেকর্ড ও প্রেষণ আদেশ যাচাই করুন।
-
জটিলতা সমাধান না হলে DDO বা সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের সহায়তা নিন।
জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬ অনুযায়ী iBAS++ পে ফিক্সেশনে আবেদন সেন্ড ব্যাক, পিআরএল, নতুন নিয়োগ এবং প্রেষণে কর্মরতদের বেতন নির্ধারণের বিষয়গুলো সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রতিটি ক্ষেত্রে চাকরির ধরন ও ব্যক্তিগত রেকর্ড অনুযায়ী নিয়মের প্রয়োগ ভিন্ন হতে পারে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পে ফিক্সেশন-সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি গেজেট, অর্থ বিভাগের পরিপত্র এবং iBAS++-এর সর্বশেষ নির্দেশনা যাচাই করা। এতে ভুল বেতন নির্ধারণ, আবেদন ফেরত আসা এবং ভবিষ্যতে বেতন বা পেনশনের হিসাব সমন্বয়ের ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে।
বিশেষ সতর্কতা: এখানে আলোচিত কয়েকটি নির্দিষ্ট নিয়মের মূল সরকারি নির্দেশনা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। তাই সেগুলোকে চূড়ান্ত সরকারি সিদ্ধান্ত হিসেবে প্রচার করার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
সোহাগ/
