এমপিওভুক্তদের নতুন পে-স্কেলে লাগবে ১৩ হাজার কোটি টাকা
নিজস্ব প্রতিবেদক: নতুন বেতন কাঠামোর আওতায় আসছেন এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীরাও। তাঁদের নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করতে সরকারের অতিরিক্ত ১৩ হাজার ৩৯২ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। এর মধ্যে বেতন ও ভাতা বাবদ ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ হাজার ৫১৮ কোটি টাকা। বাকি অর্থ লাগবে পেনশন খাতে।
জাতীয় বেতন কমিশনের প্রতিবেদনে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামোর সম্ভাব্য ব্যয়ের এই হিসাব তুলে ধরা হয়েছে। তবে তাঁদের জন্য নতুন পে-স্কেল কবে থেকে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সময়সীমা নিশ্চিত হয়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের ৩০ হাজার ৯৩২টি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত ৬ লাখ ২ হাজার ৩৫৯ জন শিক্ষক-কর্মচারীকে নতুন বেতন কাঠামোর আওতায় আনতে অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হবে।
ব্যয়ের হিসাবটি হলো:
- মোট অতিরিক্ত অর্থ: ১৩ হাজার ৩৯২ কোটি টাকা
- বেতন ও ভাতা: ১২ হাজার ৫১৮ কোটি টাকা
- পেনশন খাত: বাকি ৮৭৪ কোটি টাকা
এই হিসাব বাস্তবায়িত হলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ সরকারের বার্ষিক ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে সময়সূচি এখনো অনিশ্চিত। অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তার বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালেও এমপিওভুক্ত কর্মীদের নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়নে প্রায় ছয় মাস সময় লেগেছিল।
তবে এবার দ্রুত সুবিধা চালুর জন্য অর্থ ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় কাজ করছে বলে ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ডিসেম্বরের মধ্যে সুবিধাটি চালু করার চেষ্টা চলছে। এটি এখনো চূড়ান্ত বাস্তবায়নের তারিখ হিসেবে নিশ্চিত নয়।
বর্তমানে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য সরকার বছরে প্রায় ১৯ হাজার ২২৭ কোটি টাকা ব্যয় করে। এর মধ্যে—
- মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজের জন্য ১২ হাজার ৯৩০ কোটি টাকা
- মাদ্রাসার জন্য ৫ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা
- কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ৭৬৭ কোটি টাকা
এমপিও বা মাসিক পে-অর্ডার ব্যবস্থার আওতায় বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা সরকারি অনুদান থেকে মূল বেতনের শতভাগ এবং নির্ধারিত চিকিৎসা ও অন্যান্য ভাতা পেয়ে থাকেন।
গত বছর তাঁদের বাড়িভাড়া ভাতা মাসিক নির্দিষ্ট ১ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে মূল বেতনের ১৫ শতাংশ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে অনেক বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিজস্ব তহবিল সীমিত হওয়ায় শিক্ষক-কর্মচারীদের অতিরিক্ত পারিশ্রমিক দেওয়ার সুযোগও কম।
প্রস্তাবিত বেতন কাঠামোতে বিদ্যমান গ্রেড, স্তর ও বিষয়ভিত্তিক শ্রেণি অনুযায়ী মূল বেতন এবং বাড়িভাড়া ভাতা বাড়ানোর বিষয় রয়েছে। এর ফলে নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মাসিক আয় বাড়তে পারে।
তবে বেতন কত বাড়বে, কোন গ্রেডে কত টাকা নির্ধারণ করা হবে এবং কোন তারিখ থেকে নতুন হার কার্যকর হবে, তা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও সরকারি নির্দেশনার ওপর নির্ভর করবে।
জাতীয় বেতন কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা প্রজাতন্ত্রের সরাসরি কর্মচারী নন। সে কারণে তাঁরা কমিশনের আওতাভুক্ত নন। তবে বেসরকারি শিক্ষা খাতের ব্যাপকতা এবং এসব কর্মীর জীবনযাত্রার মান বিবেচনায় তাঁদের বেতন কাঠামো নিয়েও পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এমপিওভুক্ত কর্মীদের জন্য নিয়মিত সরকারি বাজেট থেকে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। তাই তাঁদের বেতন ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের বিষয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় আলোচনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
দেশে বর্তমানে ৩০ হাজার ৯৩২টি এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে ৪ লাখ ৪৪ হাজার ৬২৮ জন শিক্ষক এবং ১ লাখ ৫৭ হাজার ৭৩১ জন কর্মচারী কর্মরত আছেন। নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়িত হলে এই বিপুলসংখ্যক শিক্ষক-কর্মচারী এর আওতায় আসতে পারেন।
সব মিলিয়ে, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে বড় অঙ্কের অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হবে। এখন তাঁদের মূল আগ্রহের বিষয় হলো, সরকার কবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে এবং কবে থেকে বাড়তি বেতন-ভাতা কার্যকর হবে।
সোহাগ/
