কোন রক্তের গ্রুপে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি
হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি: আন্তর্জাতিক গবেষণায় ‘ও’ গ্রুপ ছাড়া অন্যদের জন্য বিশেষ সতর্কতা
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশে হৃদরোগীর সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পেলেও, দেশের ভেতরে নির্দিষ্টভাবে কোন রক্তের গ্রুপ হার্ট অ্যাটাকের জন্য বেশি ঝুঁকিপূর্ণ—তা নিয়ে কোনো বিস্তারিত জাতীয় গবেষণা বা পরিসংখ্যান নেই। তবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পরিচালিত গবেষণায় ‘O’ (ও) গ্রুপ ছাড়া অন্য রক্তের গ্রুপগুলোর (A, B এবং AB) মানুষদের হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি বলে উঠে এসেছে।
‘ও’ গ্রুপ কেন অন্যদের চেয়ে নিরাপদ
আন্তর্জাতিকভাবে পরিচালিত একাধিক সমীক্ষা অনুযায়ী, রক্তের গ্রুপ 'O' বহনকারী মানুষের তুলনায় 'A', 'B' এবং 'AB' রক্তের গ্রুপের ব্যক্তিদের হৃদরোগ এবং রক্তনালীতে রক্ত জমাট বাঁধার (Clotting) ঝুঁকি প্রায় ৫১ শতাংশ পর্যন্ত বেশি হতে পারে। বিশেষত ‘AB’ গ্রুপের মানুষদের হৃদযন্ত্র ও রক্তনালী সংক্রান্ত রোগের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি পরিলক্ষিত হয়েছে।
বৈজ্ঞানিক কারণ:
গবেষকরা মনে করেন, এই পার্থক্যের মূল কারণ হলো রক্ত তঞ্চনকারী (রক্ত জমাট বাঁধানোর সহায়ক) একটি প্রোটিন, যার নাম 'ভন উইলেব্র্যান্ড ফ্যাক্টর' (von Willebrand Factor)। ‘O’ গ্রুপ ছাড়া অন্যান্য রক্তের গ্রুপে এই প্রোটিনের ঘনত্ব বেশি থাকে। এই ফ্যাক্টর রক্তনালীতে ব্লকেজ তৈরি করে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
ঝুঁকি নির্ণায়ক প্রধান কারণ জীবনযাত্রা
যদিও রক্তের গ্রুপ হৃদরোগের একটি সূক্ষ্ম ঝুঁকি নির্দেশ করে, বাংলাদেশের চিকিৎসকরা সতর্ক করে বলছেন যে এটি হৃদরোগের একমাত্র বা প্রধান কারণ নয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সিনিয়র কার্ডিওলজিস্ট বলেন, "বাংলাদেশে হৃদরোগের ক্ষেত্রে রক্তের গ্রুপ একটি গৌণ বিষয়। আমাদের দেশের মানুষের জন্য প্রধান ঝুঁকিগুলো হলো ধূমপান, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস (তেল ও চর্বিযুক্ত খাবার), এবং অতিরিক্ত মানসিক চাপ। রক্তের গ্রুপ যাই হোক না কেন, যদি কেউ ধূমপান করেন বা স্থূলতায় ভোগেন, তবে তিনিই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছেন।"
সুস্থ থাকার বার্তা
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, রক্তের গ্রুপ যাই হোক না কেন, আতঙ্কিত না হয়ে হৃদরোগ প্রতিরোধের দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত। ঝুঁকি কমাতে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অবশ্যই মেনে চলতে হবে:
* নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো।
* ধূমপান ও মদ্যপান সম্পূর্ণ পরিহার করা।
* কম তেল, লবণ ও চিনিযুক্ত খাবার গ্রহণ করা।
* প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হালকা শারীরিক ব্যায়াম করা।
* মানসিক চাপ কমানোর জন্য মেডিটেশন বা পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা।
রক্তের গ্রুপ একটি জেনেটিক ফ্যাক্টর, যা পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। কিন্তু জীবনধারা পরিবর্তন করে হৃদরোগের ঝুঁকিকে বহুলাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
আশা/
আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ
- শনিবার সকাল থেকে ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন যেসব এলাকায়
- শনিবার থেকে দুই বিভাগে অতিভারী বৃষ্টির সতর্কতা: বন্যার আশঙ্কা
- কবে কমবে লোডশেডিং! সুখবর জানাল বিদ্যুৎ বিভাগ
- আজকের সোনার বাজারদর: ২৪ এপ্রিল ২০২৬
- শনিবার সারাদিন বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- টানা দুই দিন ১৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যে এলাকায়
- ২০৩০ সালে এক ভরি স্বর্ণের দাম কত হবে
- হিলিতে লাফিয়ে বাড়ল দেশি পেঁয়াজের দাম
- জ্যোতির্বিজ্ঞানের গণনায় মিলল ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ
- পে-স্কেল পুনর্গঠনে ১০ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন
- আজ ১৮, ২১, ২২ ক্যারেট এক ভরি স্বর্ণের দাম
- আজকের সকল টাকার রেট: ২৪ এপ্রিল ২০২৬
- ধেয়ে আসছে শক্তিশালী বৃষ্টি বলয় ঝুমুল
- তীব্র গরমে স্বস্তির খবর: কবে নাগাদ কমবে তাপমাত্রা, জানাল আবহাওয়া অফিস
- বাংলাদেশিদের জন্য ভারতীয় ভিসা নিয়ে সুখবর
