| ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১ ডিসেম্বর ২০২২, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

ভারতে বিশাল রান তাড়া করে লড়াই করে হারলো দক্ষিন আফ্রিকা

২০২২ অক্টোবর ০৩ ১০:১১:৪৮
ভারতে বিশাল রান তাড়া করে লড়াই করে হারলো দক্ষিন আফ্রিকা

গুয়াহাটিতে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ভারতের জয় ১৬ রানে। টানা দুই জয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ঘরের মাঠে প্রথমবার টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতল স্বাগতিকরা।

ব্যাটিং স্বর্গে ৩ উইকেটে ২৩৭ রান করে ভারত। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে যা তাদের সর্বোচ্চ। আগের সেরা ছিল গত জুনে করা ২১১ রান।

সাম্প্রতিক সময়ে স্ট্রাইক রেটের কারণে সমালোচনার মুখে পড়া লোকেশ রাহুল খেলেন ৪ ছক্কা ও ৫ চারে ২৮ বলে ৫৭ রানের বিধ্বংসী ইনিংস। তাণ্ডব চালিয়ে পাঁচটি করে ছক্কা-চারে ২২ বলে ৬১ রান করেন সূর্যকুমার যাদব। কার্যকর দুটি ইনিংস খেলেন রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলি।

পাহাড়সম রান তাড়ায় বাজে শুরুর পর ডি কক ও মিলারের ব্যাটে ৩ উইকেটে ২২১ রান করে দক্ষিণ আফ্রিকা। ৭ ছক্কা ও ৮ চারে ৪৭ বলে ১০৬ রানের চোখধাঁধানো ইনিংস খেলেন মিলার। ডি ককের ব্যাট থেকে আসে ৪ ছক্কা ও ৩ চারে ৪৮ বলে ৬৯।

চতুর্থ উইকেটে দুইজনে গড়েন ৮৪ বল স্থায়ী ১৭৪ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে যা এই উইকেটে জুটির রেকর্ড। আগের সেরা ছিল জিব্রাল্টার বিপক্ষে গত বছর করা মাল্টার বিক্রম অরোরা ও বরুন থামোথারামের অবিচ্ছিন্ন ১৬৬ রানের জুটি।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা ভারত উড়ন্ত সূচনা পায় রাহুল ও রোহিতের ব্যাটে। চতুর্থ ওভারে ওয়েইন পার্নেলকে টানা ছক্কা-চার মারেন রাহুল, এক বল পর চার মারেন রোহিত। নবম ওভারে তিন চার ও এক ছক্কায় দুই ওপেনার মিলে তোলেন ২১ রান।

পরের ওভারে রোহিতের বিদায়ে ভাঙে ৯৬ রানের উদ্বোধনী জুটি। প্রথম ম্যাচে শূন্যতে ফেরা ভারত অধিনায়ক এবার করেন ১ ছক্কা ও ৭ চারে ৩৭ বলে ৪৩।

এইডেন মারক্রামকে লং অন দিয়ে উড়িয়ে ২৪ বলে ফিফটি স্পর্শ করেন রাহুল। পরের ওভারেই ফিরে যান তিনি, এলবিডব্লিউর রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেনি। ভারতের দুই ওপেনারই কেশভ মহারাজের শিকার।

মুখোমুখি হওয়া তৃতীয় বলে চার মেরে সূর্যকুমারের ছুটে চলার শুরু। কাগিসো রাবাদাকে এক ওভারে মারেন দুটি করে ছক্কা-চার। পার্নেলকে ছক্কায় উড়িয়ে ১৮ বলে পঞ্চাশে পা রাখেন তিনি। টি-টোয়েন্টিতে যৌথভাবে ভারতের হয়ে যা দ্বিতীয় দ্রুততম।

শেষের আগের ওভারে রান আউটে থামে সূর্যকুমারের তাণ্ডব। ভাঙে কোহলির সঙ্গে ৪২ বল স্থায়ী ১০২ রানের জুটি। ১ ছক্কা ও ৭ চারে ২৮ বলে ৪৯ রানে অপরাজিত থাকেন কোহলি। শেষ ওভারে রাবাদাকে দুই

শেষ দিকে ঝড় তুলে সেঞ্চুরি করেন ডেভিড মিলার।জবাবে দক্ষিণ আফ্রিকার শুরুটা হয় বেশ বাজে। আর্শদিপ সিংয়ের করা দ্বিতীয় ওভারে তিন বলের মধ্যে হারায় দুই উইকেট। টেম্বা বাভুমা ধরা পড়েন মিড-অফে, তিনবারের চেষ্টায় কাভারে রাইলি রুশোর ক্যাচ ধরেন কার্তিক। আগের ম্যাচের মতো এবারও রানের খাতা খুলতে পারেননি রুশো।

এরপর কিছুক্ষণ খেলা বন্ধ ছিল ফ্লাডলাইট জটিলতায়। খাদের কিনারে থাকা দলকে কিছুক্ষণ টানেন মারক্রাম। ১ ছক্কা ও চারটি চারে ১৯ বলে করেন ৩৩ রান করেন। ১০ ওভারে শেষে দক্ষিণ আফ্রিকার স্কোর ৭০/৩।

শুরুতে সাবধানী ব্যাটিংয়ে এগোতে থাকেন ডি কক ও মিলার। পরে রানের গতি বাড়ান তারা। রবিচন্দ্রন অশ্বিনকে ওভারে দুটি ছক্কা ও এক চার মারেন মিলার। ফিফটিতে পা রাখেন তিনি ২৫ বলে।

বলের চেয়ে রানে পিছিয়ে থাকা ডি কক আকসার প্যাটেলকে টানা মারেন দুই ছক্কা ও এক চার। তার পঞ্চাশ আসে ৩৯ বলে।

শেষ দুই ওভারে যখন চাই ৬৩ রান, ঝড় বইয়ে দেন মিলার। ১৯তম ওভারে আর্শদিপকে দুটি করে ছক্কা-চার মারেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। পরে আকসার প্যাটেলকে মারেন তিনি দুই ছক্কা, ডি কক হাঁকান একটি। ওই দুই ওভার থেকে ৪৬ রান তোলেন দুইজন।

ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরিতে পা রাখেন মিলার ৪৬ বলে। ২০১৭ সালের ঘরের মাঠে বাংলাদেশের বিপক্ষে ৩৬ বলে ১০১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। ৩৫ বলে তিন অংক ছুঁয়ে গড়েছিলেন আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে দ্রুততম শতকের রেকর্ড।

আগামী মঙ্গলবার সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হবে দুই দল।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ভারত: ২০ ওভারে ২৩৭/৩ (রাহুল ৫৭, রোহিত ৪৩, কোহলি ৪৯*, সূর্যকুমার ৬১, কার্তিক ১৭*; রাবাদা ৪-০-৫৭-০, পার্নেল ৪-০-৫৪-০, এনগিডি ৪-০-৪৯-০, মহারাজ ৪-০-২৩-২, নরকিয়া ৩-০-৪১-০, মারক্রাম ১-০-৯-০)

দক্ষিণ আফ্রিকা: ২০ ওভারে ২২১/৩ (বাভুমা ০, ডি কক ৬৯*, রুশো ০, মারক্রাম ৩৩, মিলার ১০৬*; চাহার ৪-১-২৪-০, আর্শদিপ ৪-০-৬২-২, অশ্বিন ৪-০-৩৭-০, আকসার ৪-০-৫৩-১, হার্শাল ৪-০-৪৫-০)

ফল: ভারত ১৬ রানে জয়ী

ম্যান অব দা ম্যাচ: লোকেশ রাহুল

পাঠকের মতামত:

ক্রিকেট এর সর্বশেষ খবর

ক্রিকেট - এর সব খবর



রে