জমির পর্চা ডাউনলোড করবেন যেভাবে, কত টাকা লাগে
নিজস্ব প্রতিবেদক: জমির পর্চা বা খতিয়ান এখন অনলাইনে অনুসন্ধান ও সংগ্রহের সুযোগ রয়েছে। জমির মালিকের নাম, খতিয়ান নম্বর কিংবা দাগ নম্বরের তথ্য জানা থাকলে সরকারি পোর্টালে খতিয়ান খুঁজে পাওয়া সহজ হতে পারে। তবে অনলাইন কপি ও সার্টিফায়েড কপির মধ্যে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য।
জমির মালিকানা ও ভূমি রেকর্ড যাচাইয়ের জন্য পর্চা একটি গুরুত্বপূর্ণ নথি। জমি কেনাবেচা, উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমির তথ্য যাচাই কিংবা জমির রেকর্ড সম্পর্কে জানার প্রয়োজনে অনেকেই পর্চা সংগ্রহ করতে চান। এ জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়ের অনলাইন সেবা ব্যবহার করে খতিয়ান অনুসন্ধান এবং নির্ধারিত ফি দিয়ে কপি পাওয়ার আবেদন করা যায়।
সরকারি ভূমি তথ্য বাতায়নে খতিয়ানের অনলাইন কপি পাওয়ার জন্য ১০০ টাকা এবং ডাকযোগে সার্টিফায়েড কপি পাওয়ার ক্ষেত্রে ১০০ টাকা আবেদন ফি ও ৪০ টাকা ডাক মাশুলসহ মোট ১৪০ টাকা নির্ধারিত রয়েছে। ফি পরিবর্তিত হতে পারে, তাই আবেদন করার সময় সরকারি পোর্টালে প্রদর্শিত সর্বশেষ ফি দেখে নেওয়া জরুরি।
জমির পর্চা ডাউনলোড করতে কোন ওয়েবসাইটে যাবেন?
জমির খতিয়ান বা পর্চা অনুসন্ধান ও সংগ্রহের জন্য সরকারি ই-পর্চা ওয়েবসাইট https://www.eporcha.gov.bd/ ব্যবহার করুন। ভূমি মন্ত্রণালয়ের ভূমি তথ্য বাতায়ন https://land.gov.bd/ থেকেও ভূমিসেবার তথ্য পাওয়া যায়।
অনলাইনে পর্চা খুঁজে বের করার নিয়ম
পর্চা ডাউনলোড করতে প্রথমে জমির অবস্থান ও রেকর্ডসংক্রান্ত তথ্য প্রস্তুত রাখুন। এরপর নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন।
প্রথম ধাপ: সরকারি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন।মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউজার থেকে ই-পর্চার সরকারি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন।
দ্বিতীয় ধাপ: খতিয়ানের ধরন নির্বাচন করুন।আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী সার্ভে খতিয়ান অথবা নামজারি খতিয়ান নির্বাচন করুন। দুই ধরনের খতিয়ান এক নয়, তাই কোন রেকর্ডের কপি প্রয়োজন তা আগে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।
তৃতীয় ধাপ: জমির অবস্থান নির্বাচন করুন।বিভাগ, জেলা, উপজেলা বা থানা এবং মৌজার তথ্য নির্বাচন করুন। এরপর সংশ্লিষ্ট জরিপের ধরন বেছে নিন।
চতুর্থ ধাপ: খতিয়ান অনুসন্ধান করুন।খতিয়ান নম্বর জানা থাকলে সেটি দিয়ে অনুসন্ধান করুন। খতিয়ান নম্বর জানা না থাকলে পোর্টালে থাকা ‘অধিকতর অনুসন্ধান’ সুবিধা ব্যবহার করে মালিকের নাম বা দাগ নম্বর দিয়ে খোঁজার চেষ্টা করুন।
পঞ্চম ধাপ: সঠিক খতিয়ান যাচাই করুন।অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যের সঙ্গে জমির মৌজা, দাগ নম্বর, মালিকের নাম ও অন্যান্য তথ্য মিলিয়ে নিন। একই ধরনের নাম থাকলে শুধু নাম দেখে কোনো খতিয়ান নির্বাচন করবেন না।
ষষ্ঠ ধাপ: কপি পাওয়ার জন্য আবেদন করুন।সঠিক খতিয়ান নির্বাচন করার পর পোর্টালে প্রদর্শিত নির্দেশনা অনুযায়ী অনলাইন কপি অথবা সার্টিফায়েড কপির জন্য আবেদন করুন। প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করে নির্ধারিত ফি পরিশোধ করুন।
পর্চা ডাউনলোড করতে কত টাকা লাগে?
ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ফি তালিকা অনুযায়ী, খতিয়ানের কপি সংগ্রহের ক্ষেত্রে সাধারণত নিচের ফি প্রযোজ্য।
-
অনলাইন কপি: ১০০ টাকা।
-
সার্টিফায়েড কপি: আবেদন ফি ১০০ টাকা।
-
সার্টিফায়েড কপি ডাকযোগে পেতে: ৪০ টাকা ডাক মাশুলসহ মোট ১৪০ টাকা।
অনলাইন কপির আবেদন অনুমোদন ও কপি পাওয়ার প্রক্রিয়া পোর্টালের নির্দেশনা অনুযায়ী সম্পন্ন করতে হবে। সার্টিফায়েড কপির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও সরবরাহের প্রক্রিয়া রয়েছে। তাই সব আবেদনেই সঙ্গে সঙ্গে কপি পাওয়া যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।
অনলাইন কপি ও সার্টিফায়েড কপির পার্থক্য কী?
অনলাইন কপি দ্রুত তথ্য যাচাই ও ব্যক্তিগত প্রয়োজনে কাজে লাগতে পারে। অন্যদিকে, সার্টিফায়েড কপি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রত্যয়ন করা নথি। আদালত, জমি-সংক্রান্ত বিরোধ বা অন্য কোনো আনুষ্ঠানিক কাজে কোন ধরনের কপি প্রয়োজন, তা সংশ্লিষ্ট দপ্তর বা আইনজীবীর কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়া উচিত।
মনে রাখতে হবে, পর্চা বা খতিয়ান জমির রেকর্ডসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি হলেও শুধু একটি খতিয়ান দিয়ে সব ক্ষেত্রে জমির চূড়ান্ত মালিকানা নিশ্চিত হয় না। প্রয়োজনে দলিল, মালিকানার ধারাবাহিকতা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথিও যাচাই করতে হবে।
খতিয়ান খুঁজে না পেলে কী করবেন?
অনলাইনে খতিয়ান না পাওয়া মানেই জমির কোনো রেকর্ড নেই—এমন নয়। তথ্য নির্বাচনে ভুল, পুরোনো জরিপের তথ্য, খতিয়ান নম্বরের অমিল কিংবা রেকর্ড ডিজিটাল ব্যবস্থায় না থাকার কারণে অনুসন্ধানে ফল নাও আসতে পারে।
এ ক্ষেত্রে প্রথমে বিভাগ, জেলা, উপজেলা, মৌজা ও জরিপের ধরন সঠিকভাবে নির্বাচন করেছেন কি না যাচাই করুন। এরপর দাগ নম্বর বা মালিকের নাম দিয়ে অধিকতর অনুসন্ধান করুন। তাতেও খতিয়ান না পেলে সংশ্লিষ্ট ভূমি রেকর্ড অফিস বা সরকারি ভূমিসেবা কেন্দ্রে যোগাযোগ করতে পারেন।
পর্চা সংগ্রহের আগে যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকবেন
জমির পর্চা সংগ্রহের সময় সরকারি ওয়েবসাইট ব্যবহার করুন এবং আবেদন ও পেমেন্টের রসিদ সংরক্ষণ করুন। অপরিচিত ওয়েবসাইটে জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যক্তিগত তথ্য বা অর্থ দেওয়ার আগে সেটি সরকারি কি না যাচাই করুন। একই সঙ্গে অনলাইনে পাওয়া খতিয়ানের তথ্যের সঙ্গে মূল দলিল ও জমির অন্যান্য রেকর্ড মিলিয়ে নিন।
সোহাগ/
