| ঢাকা, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩

জমি হেবা বা দান করলে কত কর দিতে হবে, জেনে নিন নিয়ম

জাতীয় ডেস্ক . বিনোদন৬৯.কম
২০২৬ অক্টোবর ১৯ ১১:১১:১৪
জমি হেবা বা দান করলে কত কর দিতে হবে, জেনে নিন নিয়ম

নিজস্ব প্রতিবেদক: পরিবারের সদস্যকে জমি, বাড়ি বা ফ্ল্যাট দান করতে চাইলে করের বিষয়টি আগে থেকেই জানা জরুরি। বাংলাদেশে হেবা বা দানের মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে দানকর, গ্রহীতার আয়কর এবং সম্পত্তি নিবন্ধনের সময় প্রযোজ্য করের বিধান এক নয়। ২০২৬ সালের অর্থ আইনে সম্পত্তি হেবা বা দানের ক্ষেত্রে কর সংগ্রহের বিধানেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। তাই দলিল করার আগে দাতা-গ্রহীতার সম্পর্ক, সম্পত্তির মূল্য ও কর অব্যাহতির শর্ত যাচাই করা প্রয়োজন।

জমি দান বা হেবা করলে কি কর দিতে হয়?

দানকর আইন, ১৯৯০ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি স্বেচ্ছায় এবং বিনিময়ে কোনো প্রতিদান না নিয়ে অন্য ব্যক্তিকে অর্থ বা সম্পত্তি দিলে তা দান হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাটসহ স্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রেও এই বিধান প্রাসঙ্গিক।

দলিলে ‘দান’, ‘উপহার’ কিংবা ‘হেবা’ যে নামই ব্যবহার করা হোক, কর নির্ধারণের ক্ষেত্রে লেনদেনের প্রকৃতি ও প্রযোজ্য আইন বিবেচনা করতে হয়। তাই শুধু দলিলে হেবা লেখা থাকলেই কর থেকে স্বয়ংক্রিয় অব্যাহতি পাওয়া যায় না।

পরিবারের কাদের দান করলে দানকর অব্যাহতি পাওয়া যায়?

দানকর আইন, ১৯৯০-এর ধারা ৪ অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কয়েক ধরনের দানে কর অব্যাহতির বিধান রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:

  • পুত্র ও কন্যাকে দান

  • পিতা ও মাতাকে দান

  • স্বামী বা স্ত্রীকে দান

  • আপন ভাই বা বোনকে দান

  • সরকার বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে দান

  • আইন নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে নির্দিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানে দান

এ ছাড়া আইনের নির্ধারিত শর্তে কিছু বিশেষ দানও অব্যাহতিপ্রাপ্ত হতে পারে। এসব ক্ষেত্রে দলিলের ধরন, দানের উদ্দেশ্য এবং অন্যান্য শর্ত যাচাই করা প্রয়োজন।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়: দাদা-নাতি, নানা-নাতনি, চাচা-ভাতিজা, মামা-ভাগনে কিংবা বন্ধুদের মধ্যে দান শুধু পারিবারিক বা ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দানকরমুক্ত হয় না। সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে অন্য কোনো অব্যাহতি প্রযোজ্য কি না, তা যাচাই করতে হবে।

২০ হাজার টাকা পর্যন্ত দানে করের নিয়ম কী?

দানকর আইন, ১৯৯০-এর ধারা ৪(২) অনুযায়ী, আইনের নির্দিষ্ট অব্যাহতির বাইরে কোনো ব্যক্তির একটি অর্থবছরে করা দানের সম্মিলিত মূল্য ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত হলে সেই দানের ওপর দানকর আরোপ করা হয় না।

এই সীমা প্রতিটি দলিল বা পৃথক দানের জন্য আলাদা করে গণনা করার বিষয় নয়। অর্থবছরে করা প্রযোজ্য দানগুলোর মোট মূল্য বিবেচনায় নিতে হয়। তবে জমি বা ফ্ল্যাটের মতো উচ্চমূল্যের সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে এই সীমার ওপর নির্ভর করার আগে কর আইনের প্রযোজ্যতা যাচাই করা জরুরি।

জমি বা ফ্ল্যাটের মূল্য কীভাবে হিসাব হবে?

দান হিসেবে জমি, বাড়ি বা ফ্ল্যাট হস্তান্তর করলে কর নির্ধারণের জন্য শুধু দলিলে লেখা মূল্যই চূড়ান্ত নয়। দানকর আইন, ১৯৯০-এর ধারা ৫ অনুযায়ী, নগদ অর্থ ছাড়া অন্য সম্পত্তির মূল্য দানের তারিখে খোলাবাজারে যে দামে বিক্রি করা সম্ভব হতো, সেই আনুমানিক মূল্যের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়।

অর্থাৎ, দলিলে সম্পত্তির মূল্য কম লেখা থাকলেও করের হিসাবের জন্য আলাদা মূল্য বিবেচিত হতে পারে। খোলাবাজারের মূল্য নির্ধারণ সম্ভব না হলে আইনে নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়।

দানকরের হার কত?

দানকর আইন, ১৯৯০-এর তফসিলে করযোগ্য দানের ওপর ধাপভিত্তিক করহার নির্ধারিত রয়েছে। প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, হিসাবের ধাপগুলো হলো:

করযোগ্য দানের মূল্যপ্রযোজ্য হার
প্রথম ৫ লাখ টাকা ৫%
পরবর্তী ১০ লাখ টাকা ১০%
পরবর্তী ২০ লাখ টাকা ১৫%
অবশিষ্ট অংশ ২০%

এই হারগুলো ধাপভিত্তিক। অর্থাৎ, করযোগ্য দানের পুরো মূল্যের ওপর সরাসরি সর্বোচ্চ হার প্রয়োগ করা হয় না; বরং সংশ্লিষ্ট ধাপের অংশের ওপর নির্ধারিত হার হিসাব করা হয়।

তবে করের হিসাব করার আগে দানের ধরন, প্রযোজ্য অব্যাহতি এবং হালনাগাদ তফসিল যাচাই করা উচিত। সম্পত্তির প্রকৃত মূল্য ও করযোগ্য অংশ নির্ধারণের পরই সঠিক করদায় বের করা সম্ভব।

দানকর ও গ্রহীতার আয়কর কি একই?

না, দানকর ও আয়কর পৃথক বিষয়। কোনো দানের ওপর দানকর প্রযোজ্য না হলেও গ্রহীতার আয়কর-সংক্রান্ত বিধান আলাদাভাবে যাচাই করতে হতে পারে।

আয়কর আইন, ২০২৩-এর ষষ্ঠ তফসিলের অংশ-১-এর দফা ৩৫ অনুযায়ী, স্বামী বা স্ত্রী, মা-বাবা কিংবা সন্তানের কাছ থেকে পাওয়া সম্পদ নির্দিষ্ট শর্তে আয়করমুক্ত হতে পারে। এ ক্ষেত্রে দাতা ও গ্রহীতার আয়কর রিটার্নে দানের তথ্য প্রদর্শনের শর্ত রয়েছে। বিদেশ থেকে ব্যাংকিং চ্যানেলে দান পাঠানোর ক্ষেত্রে দাতার রিটার্নে প্রদর্শনের বিষয়ে আইনে পৃথক বিধান রয়েছে।

তাই দানকর অব্যাহতি এবং গ্রহীতার আয়কর অব্যাহতি একই বিষয় ধরে নেওয়া ঠিক নয়। দাতা-গ্রহীতার সম্পর্ক, অর্থ বা সম্পত্তি হস্তান্তরের পদ্ধতি এবং রিটার্নে তথ্য দেখানোর শর্ত বিবেচনা করতে হবে।

২০২৬ সালের অর্থ আইনে হেবা বা দানের ক্ষেত্রে কী পরিবর্তন এসেছে?

আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ১২৫-এ ২০২৬ সালের অর্থ আইনের মাধ্যমে নতুন উপধারা (২ক) যুক্ত করা হয়েছে বলে প্রদত্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। এ বিধান অনুযায়ী, হেবা বা দানের মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে দানকর আইন, ১৯৯০ প্রযোজ্য হলে নিবন্ধনকারী কর্মকর্তা এ-চালানের মাধ্যমে প্রযোজ্য দানকর সংগ্রহ করবেন। একই ক্ষেত্রে আলাদাভাবে উৎসে কর সংগ্রহের প্রয়োজন নেই বলে বিধানটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই নিয়মকে সাধারণ ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ধরে নেওয়া যাবে না। ক্রয়-বিক্রয় ও হেবা বা দানের আইনগত প্রকৃতি আলাদা হওয়ায় সংশ্লিষ্ট দলিলের ধরন অনুযায়ী কর নির্ধারণ করতে হবে।

এ বিষয়ে এনবিআরের প্রকাশিত স্পষ্টীকরণ এবং অর্থ আইন, ২০২৬-এর সংশ্লিষ্ট ধারা দেখে দলিল নিবন্ধনের আগে প্রযোজ্য বিধান নিশ্চিত করা উচিত।

দানকর রিটার্ন কখন জমা দিতে হয়?

দানকর আইন, ১৯৯০-এর ধারা ৭ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি একটি অর্থবছরে করযোগ্য দান করলে পরবর্তী করবছরের ১৫ সেপ্টেম্বরের আগে নির্ধারিত ফরম ও পদ্ধতিতে সংশ্লিষ্ট উপ-কর কমিশনারের কাছে দানের রিটার্ন জমা দেওয়ার বিধান রয়েছে।

কর কর্তৃপক্ষ কোনো দান করযোগ্য বলে মনে করলে নোটিশের মাধ্যমে রিটার্ন জমা দেওয়ার নির্দেশও দিতে পারে। আইন অনুযায়ী, এ ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়সীমা সাধারণত কমপক্ষে ৩০ দিন হতে হবে। যথাযথ বিবেচনায় সময় বাড়ানোর সুযোগও রয়েছে।

জমি হেবা বা দানের আগে যে বিষয়গুলো যাচাই করবেন

জমি, বাড়ি বা ফ্ল্যাট হেবা কিংবা দানের মাধ্যমে হস্তান্তরের আগে কয়েকটি বিষয় নিশ্চিত করা জরুরি:

১. দাতা ও গ্রহীতার সম্পর্ক অনুযায়ী দানকর অব্যাহতি প্রযোজ্য কি না।

২. সম্পত্তির কর নির্ধারণযোগ্য মূল্য কত।

৩. দানকর ও গ্রহীতার আয়করের বিধান আলাদাভাবে কীভাবে প্রযোজ্য হবে।

৪. দলিল নিবন্ধনের সময় দানকর বা অন্য কোনো কর সংগ্রহ করতে হবে কি না।

৫. করযোগ্য দান হলে রিটার্ন জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে কি না।

৬. সংশ্লিষ্ট অর্থবছরের সর্বশেষ আইন, বিধি ও এনবিআরের নির্দেশনা কী বলছে।

জমি দান বা হেবা করলেই যে সব ক্ষেত্রে কর দিতে হবে, তা নয়। আবার হেবা দলিল করলেই সব ধরনের কর থেকে অব্যাহতি পাওয়া যায়, এমনটিও নয়। দাতা-গ্রহীতার সম্পর্ক, সম্পত্তির মূল্য, প্রযোজ্য কর অব্যাহতি এবং হালনাগাদ আইন যাচাই করে করের হিসাব করা উচিত। বড় অঙ্কের সম্পত্তি হস্তান্তরের আগে সংশ্লিষ্ট কর কার্যালয় বা যোগ্য কর পরামর্শকের কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়া ভালো।

সোহাগ/

আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ

ক্রিকেট

১৬ ডিসেম্বর হতে পারে আইপিএলের নিলাম, কোথায় হবে আয়োজন

১৬ ডিসেম্বর হতে পারে আইপিএলের নিলাম, কোথায় হবে আয়োজন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) ২০২৭ মৌসুমের মিনি নিলাম আগামী ১৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হতে ...

লিটন-মিরাজের শতরানের জুটিতে লাঞ্চের আগে বাংলাদেশের লিড ৪৪৩

লিটন-মিরাজের শতরানের জুটিতে লাঞ্চের আগে বাংলাদেশের লিড ৪৪৩

নিজস্ব প্রতিবেদক: আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন বাংলাদেশের লিটন দাস। ...

ফুটবল

ব্রাজিল দলে আসছে নতুন মুখ? স্কোয়াড নিয়ে বড় ইঙ্গিত আনচেলত্তির

ব্রাজিল দলে আসছে নতুন মুখ? স্কোয়াড নিয়ে বড় ইঙ্গিত আনচেলত্তির

নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্রাজিলের জাতীয় ফুটবল দলে আবারও দেখা যেতে পারে নতুন মুখ। আগামী বিশ্বকাপকে সামনে ...

ব্রাজিল বনাম জাপান ম্যাচ কবে, কখন; যেভাবে দেখবেন

ব্রাজিল বনাম জাপান ম্যাচ কবে, কখন; যেভাবে দেখবেন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ফুটবলপ্রেমীদের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগামী নভেম্বরে জাপানের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। ...