বাংলাদেশের আকাশে অক্টোবরেই দেখা যাবে ৫ মহাজাগতিক দৃশ্য
নিজস্ব প্রতিবেদক: অক্টোবরের বাকি দিনগুলোতে রাতের আকাশে দেখা মিলতে পারে উল্কাবৃষ্টি, উজ্জ্বল গ্রহ, পূর্ণিমার চাঁদ ও দূরবর্তী নক্ষত্রমণ্ডলের। এর মধ্যে বিশেষ আকর্ষণ ওরিওনিড উল্কাবৃষ্টি, যা তৈরি হয় হ্যালির ধূমকেতুর রেখে যাওয়া ধূলিকণা থেকে। আকাশ পরিষ্কার থাকলে বাংলাদেশ থেকেও এসব মহাজাগতিক দৃশ্য পর্যবেক্ষণের সুযোগ রয়েছে।
জ্যোতির্বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী Astronomy এবং আকাশ পর্যবেক্ষণবিষয়ক ওয়েবসাইট Time and Date-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের অক্টোবরের শেষভাগে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য মহাজাগতিক ঘটনা ঘটবে। তবে আবহাওয়া, আলোকদূষণ ও চাঁদের আলোর কারণে দৃশ্য দেখার সুযোগে পার্থক্য হতে পারে।
১. ওরিওনিড উল্কাবৃষ্টি: ২১ ও ২২ অক্টোবর
অক্টোবরের অন্যতম আকর্ষণ ওরিওনিড উল্কাবৃষ্টি। প্রতি বছর পৃথিবী হ্যালির ধূমকেতুর রেখে যাওয়া ধূলিকণার পথ অতিক্রম করার সময় এই উল্কাবৃষ্টি দেখা যায়।
২০২৬ সালে ২১ ও ২২ অক্টোবরের রাতে এটি সর্বোচ্চ সক্রিয়তায় পৌঁছাবে। অনুকূল পরিবেশে ঘণ্টায় প্রায় ১৫ থেকে ২০টি উল্কা দেখা যেতে পারে। তবে সব উল্কা খালি চোখে দেখা যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
উল্কা দেখার জন্য রাতের শেষভাগ, বিশেষ করে ভোরের আগে আকাশ পর্যবেক্ষণ করা ভালো। এ বছর চাঁদের আলো কিছুটা বাধা সৃষ্টি করতে পারে। চাঁদ অস্ত যাওয়ার পর আকাশ অন্ধকার হলে উল্কা দেখার সম্ভাবনা বাড়বে।
২. শনির বলয় দেখার সুযোগ
অক্টোবরের শুরুতে শনি গ্রহ পৃথিবীর আকাশে পর্যবেক্ষণের জন্য বিশেষ অবস্থানে ছিল। মাসের শেষভাগেও সন্ধ্যা ও রাতের আকাশে গ্রহটি দেখার সুযোগ থাকতে পারে।
শনিকে সাধারণত স্থির, হলদে আভাযুক্ত উজ্জ্বল বিন্দুর মতো দেখা যায়। দূরবিন দিয়ে শনিকে শনাক্ত করা সম্ভব হলেও এর বলয় ভালোভাবে দেখতে টেলিস্কোপ বেশি কার্যকর। বলয়ের সূক্ষ্ম বিবরণ দেখতে টেলিস্কোপের মান ও পর্যবেক্ষণের পরিবেশ গুরুত্বপূর্ণ।
৩. শুক্র ও বৃহস্পতি খুঁজে দেখুন আকাশে
শুক্র ও বৃহস্পতি সৌরজগতের সবচেয়ে উজ্জ্বল গ্রহগুলোর মধ্যে অন্যতম। তবে অক্টোবরের শেষভাগে কোন গ্রহ কখন এবং দিগন্তের কোন দিকে দেখা যাবে, তা নির্দিষ্ট তারিখ ও পর্যবেক্ষণস্থানের ওপর নির্ভর করে।
শুক্র সূর্যের খুব কাছাকাছি অবস্থানে থাকলে সন্ধ্যা বা ভোরের আকাশে অল্প সময়ের জন্য দেখা যেতে পারে। অন্যদিকে বৃহস্পতিকে শনাক্ত করার জন্য তারিখ অনুযায়ী রাতের আকাশের অবস্থান দেখে নেওয়া ভালো।
খালি চোখে উজ্জ্বল গ্রহ দেখা সম্ভব হলেও গ্রহের সঠিক অবস্থান জানতে জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক আকাশ মানচিত্র বা পর্যবেক্ষণ অ্যাপ ব্যবহার করা যেতে পারে।
৪. হান্টার্স মুন: ২৬ অক্টোবর পূর্ণিমা
অক্টোবরের পূর্ণিমার চাঁদকে প্রচলিতভাবে ‘হান্টার্স মুন’ বা শিকারি চাঁদ বলা হয়। ২০২৬ সালে পূর্ণিমা হবে ২৬ অক্টোবর। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী পূর্ণিমার সঠিক সময় জানতে স্থানীয় সময়ভিত্তিক জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ক্যালেন্ডার দেখা উচিত।
পূর্ণিমার সময় চাঁদ উজ্জ্বলভাবে দেখা গেলেও এর আলো ক্ষীণ উল্কা ও দূরবর্তী কিছু মহাজাগতিক বস্তু পর্যবেক্ষণে বাধা দিতে পারে। তাই চাঁদ দেখার জন্য পূর্ণিমার রাত আকর্ষণীয় হলেও উল্কাবৃষ্টি পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রে অন্ধকার আকাশ বেশি উপযোগী।
৫. পেগাসাস, ক্যাসিওপিয়া ও অ্যান্ড্রোমিডা গ্যালাক্সি
অক্টোবরের শেষভাগে রাতের আকাশে কয়েকটি পরিচিত নক্ষত্রমণ্ডল খুঁজে দেখার সুযোগ থাকে। এর মধ্যে রয়েছে পেগাসাস ও ক্যাসিওপিয়া।
পেগাসাস নক্ষত্রমণ্ডলের চারটি উজ্জ্বল তারা মিলে একটি বড় চতুর্ভুজের মতো আকৃতি তৈরি করে। অন্যদিকে ক্যাসিওপিয়াকে ইংরেজি ‘W’ অক্ষরের মতো দেখায়। এসব নক্ষত্রমণ্ডল শনাক্ত করতে পারলে আকাশ পর্যবেক্ষণে নতুনদের সুবিধা হয়।
অ্যান্ড্রোমিডা গ্যালাক্সিও আকাশ পর্যবেক্ষকদের কাছে আকর্ষণীয় একটি লক্ষ্য। তবে খালি চোখে এটি দেখা কঠিন হতে পারে। শহরের আলো থেকে দূরে অন্ধকার আকাশে দূরবিন ব্যবহার করলে গ্যালাক্সিটি শনাক্ত করার সম্ভাবনা বাড়ে।
আকাশে মহাজাগতিক দৃশ্য দেখতে যা করবেন
মহাজাগতিক ঘটনা পর্যবেক্ষণের জন্য শহরের উজ্জ্বল আলো থেকে দূরে খোলা জায়গা বেছে নিন। আকাশ মেঘমুক্ত কি না, তা আগে দেখে নিন। উল্কাবৃষ্টি দেখার সময় শুধু একটি নির্দিষ্ট জায়গায় না তাকিয়ে আকাশের বিস্তৃত অংশে চোখ রাখুন। মোবাইলের পর্দার উজ্জ্বলতা কমিয়ে রাখলে অন্ধকারে চোখ মানিয়ে নিতে সুবিধা হবে।
মনে রাখবেন, একই মহাজাগতিক ঘটনা বাংলাদেশের সব জায়গা থেকে সমানভাবে দেখা নাও যেতে পারে। তাই নির্দিষ্ট তারিখে আকাশ পর্যবেক্ষণের আগে স্থানীয় আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও নির্ভরযোগ্য জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ক্যালেন্ডার দেখে নেওয়া ভালো।
সোহাগ/
