পে-ফিকেশন সম্পন্ন হয়েছে কি না, এসএমএসেই বুঝবেন যেভাবে
নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন নির্ধারণী বিবরণী বা পে-ফিকেশন কোন পর্যায়ে রয়েছে, তা নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে iBAS++ পদ্ধতিতে তথ্য জমা দেওয়ার পর বিবরণী ডিডিওর কাছে আছে, হিসাবরক্ষণ অফিসে পাঠানো হয়েছে, নাকি অনুমোদন পেয়েছে—এসব তথ্য জানা জরুরি।
পে-ফিকেশন-সংক্রান্ত এসএমএসের ভাষা থেকে প্রক্রিয়ার অগ্রগতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে। তবে শুধু এসএমএসের ওপর নির্ভর না করে সংশ্লিষ্ট সিস্টেমে স্ট্যাটাস যাচাই করাও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিবরণী জমা, হিসাবরক্ষণ অফিসের অনুমোদন এবং বেতন বা বকেয়া অর্থ হাতে পাওয়া—এগুলো আলাদা ধাপ।
পে-ফিকেশন নিয়ে যে ৩টি এসএমএস গুরুত্বপূর্ণ
১. ডিডিওর কাছে বিবরণী জমা
এসএমএসে যদি লেখা থাকে, ‘বেতন নির্ধারণী বিবরণী সফলভাবে ডিডিও-এর নিকট জমা হয়েছে’, তাহলে বুঝতে হবে বিবরণী জমা দেওয়ার ধাপটি সম্পন্ন হয়েছে।
এটি চূড়ান্ত অনুমোদনের বার্তা নয়। এরপর ডিডিওর যাচাই ও পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
২. হিসাবরক্ষণ অফিসে পাঠানো হয়েছে
বার্তায় যদি উল্লেখ থাকে, ‘ডিডিও কর্তৃক হিসাবরক্ষণ অফিসে প্রেরিত হয়েছে’, তাহলে বুঝতে হবে বিবরণী ডিডিওর পর্যায় পেরিয়ে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ অফিসে পাঠানো হয়েছে।
এ পর্যায়ে বিবরণীর যাচাই ও অনুমোদনের অগ্রগতি গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট ডিডিও বা হিসাবরক্ষণ অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করে বর্তমান অবস্থা জানা যেতে পারে।
৩. হিসাবরক্ষণ অফিসের অনুমোদন
এসএমএসে যদি বলা হয়, ‘হিসাবরক্ষণ অফিস কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে’, তাহলে সেটি বিবরণী অনুমোদনের ইঙ্গিত দেয়।
তবে অনুমোদনের বার্তা পেলেই নতুন বেতন কার্যকর হয়েছে কিংবা বকেয়া অর্থ ব্যাংক হিসাবে জমা হয়েছে—এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক নয়। অনুমোদনের পর ভেরিফিকেশন নম্বর, নির্ধারিত মূল বেতন এবং বেতন বিলের অবস্থা যাচাই করা প্রয়োজন।
মনে রাখবেন: এখানে দেওয়া এসএমএসগুলো নমুনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সিস্টেমের প্রকৃত বার্তার ভাষা ভিন্ন হতে পারে।
কোন এসএমএস পেলে কী করবেন?
-
ডিডিওর কাছে জমা: বিবরণী জমা হয়েছে কি না নিশ্চিত করুন এবং পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য অপেক্ষা করুন।
-
হিসাবরক্ষণ অফিসে পাঠানো: অনুমোদনের অগ্রগতি সংশ্লিষ্ট অফিসে যাচাই করুন।
-
অনুমোদিত হয়েছে: ভেরিফিকেশন নম্বর ও নির্ধারিত বেতনের তথ্য মিলিয়ে দেখুন।
-
কোনো এসএমএস পাননি: শুধু বার্তা না পাওয়ার কারণে আবেদন বাতিল হয়েছে বলে ধরে নেবেন না; iBAS++ বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে স্ট্যাটাস যাচাই করুন।
অনুমোদনের পর যে ৪টি বিষয় যাচাই করবেন
ভেরিফিকেশন নম্বর তৈরি হয়েছে কি না
অনুমোদনের পর প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সিস্টেমে তৈরি হওয়া ভেরিফিকেশন নম্বর সংগ্রহ করুন এবং ভবিষ্যতের জন্য সংরক্ষণ করুন।
নির্ধারিত মূল বেতন সঠিক কি না
আপনার গ্রেড, প্রযোজ্য মূল বেতন, ইনক্রিমেন্ট, পদোন্নতি এবং উচ্চতর গ্রেডের তথ্যের সঙ্গে নির্ধারিত বেতন মিলিয়ে দেখুন। কোনো অসংগতি চোখে পড়লে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে বিষয়টি যাচাই করুন।
সার্ভিস রেকর্ডে তথ্য হালনাগাদ হয়েছে কি না
প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সার্ভিস বুক বা চাকরির রেকর্ডে বেতন নির্ধারণ-সংক্রান্ত তথ্য লিপিবদ্ধ হয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট অফিসের মাধ্যমে নিশ্চিত করুন।
বেতন বিল ও বকেয়ার অবস্থা
পে-ফিকেশন অনুমোদন এবং বেতন বা বকেয়া অর্থ পরিশোধ এক বিষয় নয়। বেতন বিল প্রস্তুত হয়েছে কি না, বকেয়ার হিসাব চূড়ান্ত হয়েছে কি না এবং অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়া কোন পর্যায়ে রয়েছে—এসব আলাদাভাবে যাচাই করুন।
এসএমএস না এলে কী করবেন?
আবেদন জমা দেওয়ার পর নির্ধারিত সময়ে কোনো বার্তা না পেলে কয়েকটি পদক্ষেপ নিতে পারেন।
১. iBAS++-এ প্রবেশ করে পে-ফিকেশন-সংক্রান্ত স্ট্যাটাস যাচাই করুন।
২. বিবরণী ডিডিওর কাছে জমা দেওয়ার পর অগ্রগতি না থাকলে সংশ্লিষ্ট ডিডিওর সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
৩. বিবরণী হিসাবরক্ষণ অফিসে পাঠানো হয়ে থাকলে সেখানে অনুমোদনের বর্তমান অবস্থা জানতে চান।
৪. চাকরির নথি, বেতন বা অন্যান্য তথ্যে ভুল থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সংশোধনের ব্যবস্থা নিন।
শেষ কথা
পে-ফিকেশনের অগ্রগতি বুঝতে এসএমএসের ভাষা গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হতে পারে। প্রথম বার্তা জমাদানের, দ্বিতীয়টি হিসাবরক্ষণ অফিসে পাঠানোর এবং তৃতীয়টি অনুমোদনের অবস্থা নির্দেশ করতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট সিস্টেমে স্ট্যাটাস যাচাই করা জরুরি।
অনুমোদনের বার্তা পাওয়ার পর ভেরিফিকেশন নম্বর, নির্ধারিত মূল বেতন, বেতন বিল এবং বকেয়া পরিশোধের অবস্থা আলাদাভাবে নিশ্চিত করুন। এতে নিজের বেতন নির্ধারণের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।
সোহাগ/
