অর্থবছর পরিবর্তনের প্রস্তুতি, ২০২৭-২৮ সালে ৯ মাসের হিসাব
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশে অর্থবছরের সময়সীমা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্রশাসনিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এ লক্ষ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার আইন, বিধিমালা, পরিপত্র, চুক্তি এবং অন্যান্য নথিপত্র পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় তথ্য চাওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে আগামী ২৫ অক্টোবর ২০২৬ সকাল ১০টার মধ্যে এসব তথ্য পাঠাতে বলা হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন-২ শাখা থেকে গত ১৫ অক্টোবর জারি করা চিঠিতে এ অনুরোধ জানানো হয়। চিঠিতে উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী, অর্থবছরের সময়সীমা পরিবর্তনসংক্রান্ত মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের আলোকে পরবর্তী প্রশাসনিক কার্যক্রম এগিয়ে নিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭-২৮ অর্থবছরকে অন্তর্বর্তীকালীন অর্থবছর হিসেবে ৯ মাসে সীমিত রাখার কথা বলা হয়েছে। সে ক্ষেত্রে অর্থবছরটি হবে জুলাই ২০২৭ থেকে মার্চ ২০২৮ পর্যন্ত।
পরবর্তী ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে নতুন সময়সূচি কার্যকরের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থা অনুযায়ী, প্রতিবছর ১ এপ্রিল থেকে পরবর্তী বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত সময়কে অর্থবছর হিসেবে গণ্য করা হবে।
বর্তমানে বাংলাদেশে অর্থবছর শুরু হয় ১ জুলাই এবং শেষ হয় পরবর্তী বছরের ৩০ জুন। নতুন সময়সূচি কার্যকর হলে সরকারের বাজেট প্রণয়ন, আয়-ব্যয়ের হিসাব, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন ও বার্ষিক কর্মপরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে হবে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়েছে, গত ১৭ আগস্ট ২০২৬ অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তন নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই সিদ্ধান্তের আলোকে সংশ্লিষ্ট আইন, বিধি-বিধান, পরিপত্র, এসআরও, চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ চলছে।
অর্থবছরের সময়সীমা বদলালে বিদ্যমান প্রশাসনিক নির্দেশনা ও আইনি বিধানে সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে। কোথায় কী ধরনের পরিবর্তন দরকার, তা শনাক্ত করতেই সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কাছে তথ্য চাওয়া হয়েছে।
চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোসাদ্দেক মেহেদী ইমাম।
মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থাগুলোকে ২৫ অক্টোবর ২০২৬ সকাল ১০টার মধ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য পাঠাতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য সংগ্রহ ও পর্যালোচনার মাধ্যমে পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপের প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
চিঠির সংযুক্ত তালিকায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দপ্তর ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- বাংলাদেশ লোক-প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (বিপিএটিসি)
- জাতীয় উন্নয়ন প্রশাসন একাডেমি (নাডা)
- বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস প্রশাসন একাডেমি
- বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড
- বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট (বিয়াম) ফাউন্ডেশন
- সরকারি যানবাহন অধিদপ্তর ও পরিবহন কমিশনারের কার্যালয়
- সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল, ফুলবাড়ীয়া, ঢাকা
- মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদপ্তর
এ ছাড়া তালিকায় মন্ত্রণালয়ের অধীন ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দপ্তর এবং প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের কথাও রয়েছে।
অর্থবছরের সময়সীমা পরিবর্তন কার্যকর হলে সরকারি দপ্তরগুলোর বাজেট, ব্যয় পরিকল্পনা, প্রকল্প বাস্তবায়ন, আর্থিক প্রতিবেদন ও বার্ষিক কর্মসূচির সময়সূচি নতুনভাবে সমন্বয় করতে হতে পারে।
বিশেষ করে ২০২৭-২৮ অর্থবছর ৯ মাসের হলে ওই সময়ের বাজেট প্রণয়ন, বরাদ্দ ব্যবহার ও আয়-ব্যয়ের হিসাবের জন্য পৃথক পরিকল্পনা প্রয়োজন হতে পারে। একই সঙ্গে বিভিন্ন দপ্তরের প্রশাসনিক কার্যক্রমেও সমন্বয় আনতে হবে।
তবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, ইনক্রিমেন্ট, পেনশন, ছুটি কিংবা অন্যান্য আর্থিক সুবিধা কীভাবে সমন্বয় করা হবে, সে বিষয়ে উল্লিখিত চিঠিতে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা নেই। এ বিষয়ে পরবর্তী সময়ে পৃথক সরকারি আদেশ বা প্রজ্ঞাপন জারি হলে তা থেকে বিস্তারিত জানা যাবে।
অর্থবছরের সময়সীমা সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। বাজেট তৈরি, রাজস্ব আদায়, উন্নয়ন ব্যয়, সরকারি ক্রয় এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা এই সময়সীমা অনুসরণ করেই সাজানো হয়।
তাই নতুন সময়সূচি চালু করার আগে সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিমালা পর্যালোচনা এবং প্রশাসনিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা জরুরি। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তথ্য চাওয়ার উদ্যোগ সেই প্রস্তুতির অংশ।
সব মিলিয়ে, ২০২৭-২৮ অর্থবছর ৯ মাসে সীমিত রাখা এবং ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে এপ্রিল-মার্চ সময়সূচি চালুর পরিকল্পনা সামনে রেখে প্রশাসনিক কার্যক্রম এগোচ্ছে। তবে পরিবর্তনটির চূড়ান্ত বাস্তবায়ন, সংশ্লিষ্ট বিধির সংশোধন এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর এর সুনির্দিষ্ট প্রভাব জানতে পরবর্তী সরকারি নির্দেশনার দিকে নজর রাখতে হবে।
সোহাগ/
