রাতে নুডলস খেয়ে ঘুম, সকালে বাবা-মা ও ৩ শিশুর মরদেহ উদ্ধার
নিজস্ব প্রতিবেদক: ভারতের উত্তরপ্রদেশের গ্রেটার নয়ডায় একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন এক দম্পতি ও তাঁদের তিন শিশুসন্তান। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাতে পরিবারের সদস্যরা নুডলস খেয়ে ঘুমাতে যান বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। পরদিন শনিবার সকালে তাঁদের আর জীবিত পাওয়া যায়নি।
প্রাথমিক তদন্তে খাদ্যে বিষক্রিয়ার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তবে নুডলস খাওয়ার কারণেই তাঁদের মৃত্যু হয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তদন্তকারীরা।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের গ্রেটার নয়ডার রাবুপুরা এলাকার নগলা শ্রী পদম গ্রামে।
নিহতরা হলেন মহেশ (৩৭), তাঁর স্ত্রী ললিতা (৩৫) এবং তাঁদের তিন সন্তান লাদ্দু (১১), মিষ্টি (৭) ও সক্ষত (৩)।
প্রতিবেশীরা সকালে পরিবারের সদস্যদের ঘুম থেকে উঠতে না দেখে সন্দেহ করেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। সেখান থেকে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাত ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে পরিবারের সদস্যরা খাবার খান। এরপর তাঁরা ঘুমাতে যান।
মহেশের মায়ের বরাতে জানা গেছে, ওই রাতে পরিবারের সবাই নুডলস খেয়েছিলেন। তবে খাবারের সঙ্গে তাঁদের মৃত্যুর সরাসরি কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নয়ডার ডেপুটি পুলিশ কমিশনার সারণ কুমার সিং জানান, সকালে শিশুদের একজনের পরীক্ষা দিতে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সে ঘুম থেকে না ওঠায় পরিবারের সদস্যদের মৃত্যুর বিষয়টি সামনে আসে।
ঘটনার পর পুলিশ, খাদ্য সুরক্ষা বিভাগের কর্মী ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা তদন্ত শুরু করেছেন। পরিবারের সদস্যরা যে খাবার খেয়েছিলেন, তাতে কোনো বিষাক্ত পদার্থ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
একই সঙ্গে অন্য কোনো কারণে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার ফলাফল পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
নিহত মহেশের শ্যালিকা পরিবারের মধ্যে বিরোধ এবং জমিসংক্রান্ত বিরোধের অভিযোগ তুলেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এই অভিযোগের সঙ্গে পাঁচজনের মৃত্যুর কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনো প্রমাণিত হয়নি। ঘটনার সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।
সব মিলিয়ে, একই পরিবারের পাঁচজনের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। তবে নুডলস খাওয়া, সম্ভাব্য খাদ্যে বিষক্রিয়া কিংবা জমিসংক্রান্ত বিরোধ—কোনো বিষয়কেই এখন পর্যন্ত মৃত্যুর নিশ্চিত কারণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা যায়নি। তদন্ত ও ময়নাতদন্তের ফলাফলের পরই বিষয়টি স্পষ্ট হবে।
সিদ্দিকা/
