৯ম পে-স্কেলে বেতন-ভাতার দাবিতে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের আল্টিমেটাম
নিজস্ব প্রতিবেদক: ৯ম জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা প্রদান এবং বদলির আদেশ জারির দাবিতে সরকারকে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা। আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে ৪ নভেম্বর ঢাকায় অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে ‘এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোট’।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ‘জরুরি সাংগঠনিক আহ্বান’ শীর্ষক এক বিবৃতিতে এ কর্মসূচির কথা জানান জোটের সদস্য সচিব ও বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষক-কর্মচারী ফোরামের সভাপতি অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, ৩১ অক্টোবরের মধ্যে বদলির আদেশ জারি এবং ৯ম পে-স্কেল অনুযায়ী এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে আগামী ৪ নভেম্বর মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে।
কর্মসূচি সফল করতে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষক-কর্মচারী ফোরামের মহানগর, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।
নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে অনিশ্চয়তা
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এগোলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা কবে থেকে এ সুবিধা পাবেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়। অর্থ বিভাগের কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী তাঁদের বেতন পেতে নভেম্বর বা ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। তবে এ সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন সম্ভব হবে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
সম্প্রতি শিক্ষা সচিব আবদুল খালেক এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য আলাদা আদেশের প্রয়োজন নেই। তবে তাঁদের ক্ষেত্রে নতুন পে-স্কেলের সুবিধা কীভাবে কার্যকর হবে, তা নিয়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে।
সারা দেশে ৬ লাখের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ৬ লাখের বেশি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে প্রায় ৪ লাখ, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে পৌনে ২ লাখ এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে ২৩ হাজারের বেশি কর্মরত।
নতুন বেতন কাঠামোর সুবিধা কার্যকরের সময় ও প্রক্রিয়া দ্রুত স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। তাঁদের দাবি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বেতন-ভাতা ও বদলি সংক্রান্ত বিষয়ে সিদ্ধান্ত না এলে ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সিদ্দিকা/
