| ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

নতুন পে-স্কেলের অর্থ জোগাতে ভর্তুকি কমানোসহ যেসব সুপারিশ বেতন কমিশনের

জাতীয় ডেস্ক . বিনোদন৬৯.কম
২০২৬ অক্টোবর ১৫ ১৪:৫১:৫৮
নতুন পে-স্কেলের অর্থ জোগাতে ভর্তুকি কমানোসহ যেসব সুপারিশ বেতন কমিশনের

নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের বাড়তি ব্যয় মেটাতে ভর্তুকি কমানো, রপ্তানি খাতে নগদ প্রণোদনা পর্যায়ক্রমে বন্ধ করা, সরকারি ব্যয় সংকোচন এবং রাজস্ব আদায় বাড়ানোর সুপারিশ করেছে জাতীয় বেতন কমিশন। একই সঙ্গে অকার্যকর উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দ কমানো, মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভাগ একীভূত করা এবং কর ব্যবস্থায় সংস্কারের প্রস্তাবও দিয়েছে কমিশন।

সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন জাতীয় বেতন কমিশন চলতি বছরের জানুয়ারিতে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। সে সময় প্রস্তাবিত বেতন কাঠামোর কিছু তথ্য প্রকাশ করা হলেও পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনটি জনসমক্ষে আসেনি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে বিপুল অঙ্কের অতিরিক্ত অর্থ প্রয়োজন হবে। এ ব্যয় সামাল দিতে সরকারের আয় বাড়ানো এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছে কমিশন।

নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে প্রয়োজন ১ লাখ কোটি টাকার বেশি

অর্থ মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, প্রতিরক্ষা বাহিনীসহ সরকারি চাকরিতে কর্মরত প্রায় ২৩ লাখ কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর নতুন বেতন-ভাতা দিতে অতিরিক্ত ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে।

অন্যদিকে, জাতীয় বেতন কমিশন এ খাতে অতিরিক্ত ১ লাখ ৬ হাজার ৩০৭ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রাক্কলন করেছিল। এর মধ্যে বেতন বাবদ ৩৯ হাজার ৩৪০ কোটি টাকা, বিভিন্ন ভাতা বাবদ ২৯ হাজার ২৬৩ কোটি টাকা, পেনশনভোগীদের জন্য ১৯ হাজার ৭৩৩ কোটি টাকা এবং বাজেট বরাদ্দ থেকে বেতন-ভাতা পাওয়া কর্মচারীদের জন্য ১৭ হাজার ৯৭১ কোটি টাকা ধরা হয়েছিল।

আগের বেতন কাঠামো অনুযায়ী সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের পেছনে সরকারের বার্ষিক ব্যয় ছিল প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কমিশনের রাজস্ব বাড়ানোর সুপারিশ বাস্তবায়নে সরকার ইতোমধ্যে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। এর প্রতিফলন চলতি বাজেটেও দেখা যাচ্ছে। সরকারি ব্যয় কমানোর উদ্যোগও শুরু হয়েছে। তবে কমিশনের সব সুপারিশ বাস্তবায়ন করা সম্ভব নাও হতে পারে।

ভর্তুকি কমানোর ওপর জোর

জাতীয় বেতন কমিশনের প্রতিবেদনে জ্বালানি, রপ্তানি, রেমিট্যান্স ও কৃষি খাতে দেওয়া ভর্তুকির কার্যকারিতা নিয়মিত পর্যালোচনার সুপারিশ করা হয়েছে। কমিশনের মতে, যেসব ভর্তুকি অর্থনীতির স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করে বা প্রত্যাশিত সুফল দিতে পারে না, সেগুলো পর্যায়ক্রমে তুলে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত। এতে সাশ্রয় হওয়া অর্থ অন্য গুরুত্বপূর্ণ খাতে ব্যবহার করা সম্ভব হবে।

এ ক্ষেত্রে তিনটি পদক্ষেপের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে—

- আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করা।

- ধাপে ধাপে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা।

- নিম্ন আয়ের মানুষের সুরক্ষায় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি জোরদার করা।

কমিশনের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হলে ভর্তুকি বাবদ সরকারের ব্যয়ের চাপ কমতে পারে। তবে জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব বিবেচনায় নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

রপ্তানিতে নগদ প্রণোদনা বন্ধের প্রস্তাব

রপ্তানি খাতে নগদ প্রণোদনা পর্যায়ক্রমে বন্ধ করারও সুপারিশ করেছে কমিশন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিনিময় হার তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকায় রপ্তানিতে নগদ প্রণোদনার প্রয়োজন আগের তুলনায় কমে এসেছে। তাই ১২ থেকে ১৪ মাসের মধ্যে ধাপে ধাপে এ প্রণোদনা থেকে বেরিয়ে আসার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

কমিশনের ধারণা, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সরকারের উল্লেখযোগ্য অর্থ সাশ্রয় হতে পারে। তবে এ সুপারিশ কার্যকর হলে রপ্তানিকারকদের ওপর কী প্রভাব পড়বে, তা বিবেচনায় নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাজেট নথি অনুযায়ী, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ভর্তুকি ও প্রণোদনা খাতে সরকারের ব্যয় ছিল ৪১ হাজার ৯২৬ কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১ লাখ ৪১ হাজার ২৩৮ কোটি টাকায়।

পরবর্তী অর্থবছরে এ খাতে সংশোধিত বরাদ্দ ছিল ১ লাখ ১৮ হাজার ৯৫৬ কোটি টাকা। আর চলতি অর্থবছরে ভর্তুকি ও প্রণোদনার জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ লাখ ২৬ হাজার ১২৫ কোটি টাকা।

সরকারি ব্যয় কমাতে যেসব প্রস্তাব

নতুন বেতন কাঠামোর ব্যয় মেটাতে প্রশাসনিক ও পরিচালন ব্যয় কমানোর পরামর্শ দিয়েছে কমিশন। এ জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীন অতিরিক্ত বিভাগ একীভূত বা কমিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।

কমিশনের মতে, বিভাগগুলো একীভূত করা গেলে প্রশাসনিক কার্যক্রমে দক্ষতা বাড়ার পাশাপাশি নিয়মিত পরিচালন ব্যয়ও কমানো সম্ভব হতে পারে।

এ ছাড়া বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) যেসব প্রকল্প ধীরগতিতে চলছে অথবা প্রত্যাশিত সুফল দিচ্ছে না, সেগুলোতে বরাদ্দ পুনর্বিবেচনার সুপারিশ করা হয়েছে। সাশ্রয় হওয়া অর্থ অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্প ও গুরুত্বপূর্ণ খাতে ব্যয় করার প্রস্তাব দিয়েছে কমিশন।

প্রতিবেদনে দেশে ও বিদেশে প্রশিক্ষণ, সরকারি ভ্রমণ, জ্বালানি তেল, লুব্রিকেন্ট, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় কমানোর সুযোগ রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। এসব খাতে সাশ্রয় করা অর্থ নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে কাজে লাগানো যেতে পারে।

রাজস্ব বাড়াতে কর ব্যবস্থায় সংস্কারের প্রস্তাব

জাতীয় বেতন কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়াসহ অনেক উন্নয়নশীল দেশের তুলনায় বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত কম। উন্নয়ন ব্যয় মেটানো, বিদেশি সহায়তা কমে যাওয়ার প্রভাব সামাল দেওয়া এবং ঋণের সুদ পরিশোধের বাড়তি চাপ মোকাবিলায় রাজস্ব আদায় বাড়ানো জরুরি।

এ জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) রাজস্ব নীতিমালা এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনা—এই দুটি পৃথক অংশে পুনর্গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি কর ছাড়ের পরিমাণ ও কার্যকারিতা পর্যালোচনার জন্য একটি কার্যকর কর ব্যয় ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে তোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

কর ব্যবস্থার আওতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে কমিশন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে সম্পদশালী ব্যক্তি, ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তার সংখ্যা বাড়লেও তাঁদের একটি অংশ এখনো করের আওতার বাইরে রয়েছেন। তাঁদের কর ব্যবস্থার আওতায় আনতে রাজস্ব বিভাগের জনবল বৃদ্ধি এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

নতুন রাজস্ব উৎস খোঁজার সুপারিশ

রাজস্ব আদায় বাড়াতে গবেষণা কার্যক্রম জোরদার করারও পরামর্শ দিয়েছে কমিশন। এ জন্য দক্ষ জনবল নিয়োগ, পৃথক গবেষণা সেল গঠন এবং নিয়মিতভাবে সম্ভাব্য নতুন রাজস্ব উৎস নিয়ে প্রতিবেদন তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত পাঁচ বছরে বাংলাদেশের মোট রাজস্ব আয়ের মাত্র ১৩ দশমিক ২ শতাংশ এসেছে কর-বহির্ভূত উৎস থেকে। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশের তুলনায় এ হার কম বলে কমিশন উল্লেখ করেছে।

কমিশনের মতে, সেবার মান বজায় রেখে বিদ্যমান কর-বহির্ভূত ফির হার পুনর্বিবেচনা এবং নতুন আয়ের উৎস চিহ্নিত করার মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব বাড়ানো সম্ভব।

এ ছাড়া বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভূমি উন্নয়ন কর, মদ ও মাদকদ্রব্যের ওপর শুল্ক, সড়ক কর, স্ট্যাম্প ডিউটি এবং গাড়ির করের হার যৌক্তিকভাবে পুনর্নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে।

নতুন পে-স্কেলের ব্যয় মেটাতে সামনে কী চ্যালেঞ্জ?

জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশের মূল লক্ষ্য হলো নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান করা এবং সরকারের আর্থিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা। সে জন্য একদিকে ভর্তুকি ও অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানো, অন্যদিকে করের আওতা বাড়ানো এবং রাজস্ব আদায় জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তবে এসব সুপারিশ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়, কৃষি ও রপ্তানি খাতের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা এবং নিম্ন আয়ের মানুষের সুরক্ষার বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

কমিশনের সুপারিশগুলো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। নতুন বেতন কাঠামোর বাড়তি ব্যয় কীভাবে এবং কোন কোন উৎস থেকে মেটানো হবে, তা নির্ভর করবে সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনার ওপর।

সোহাগ/

আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ

ক্রিকেট

বাংলাদেশ সফরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দল ঘোষণা, নতুন মুখ উইকহ্যাম

বাংলাদেশ সফরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দল ঘোষণা, নতুন মুখ উইকহ্যাম

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজকে সামনে রেখে ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে ...

লিটন-মিরাজের শতরানের জুটিতে লাঞ্চের আগে বাংলাদেশের লিড ৪৪৩

লিটন-মিরাজের শতরানের জুটিতে লাঞ্চের আগে বাংলাদেশের লিড ৪৪৩

নিজস্ব প্রতিবেদক: আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন বাংলাদেশের লিটন দাস। ...

ফুটবল

৯০ মিনিটের খেলা শেষ; ইন্টার মায়ামি বনাম নিউইয়র্ক সিটি, জানুন ফলাফল

৯০ মিনিটের খেলা শেষ; ইন্টার মায়ামি বনাম নিউইয়র্ক সিটি, জানুন ফলাফল

নিজস্ব প্রতিবেদক: ওনেল মেসির দুর্দান্ত অ্যাসিস্ট ও রদ্রিগো ডি পলের গোলে নিউইয়র্ক সিটি এফসিকে ২-০ ...

হামজা চৌধুরী কয় ম্যাচ নিষিদ্ধ, জানা গেল নিয়ম

হামজা চৌধুরী কয় ম্যাচ নিষিদ্ধ, জানা গেল নিয়ম

নিজস্ব প্রতিবেদক: পোর্টসমাউথের কাছে ৩-২ গোলে হেরে চ্যাম্পিয়নশিপে হতাশার রাত কাটিয়েছে শেফিল্ড ইউনাইটেড। দলের হারের ...