১৩ বছরের সর্বনিম্ন কমলো সোনার দাম
নিজস্ব প্রতিবেদক: আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কমার ধারাবাহিকতা থামছেই না। গত প্রান্তিকে ১৩ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় ত্রৈমাসিক দরপতনের পর নতুন বছরের দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম দিনেও বড় ধরনের মূল্যহ্রাস হয়েছে। এতে বিনিয়োগকারী ও স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বুধবার (১ জুলাই) আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার ফিউচার বা আগাম সরবরাহমূল্য ১ দশমিক ২৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৩ হাজার ৯৮৯ মার্কিন ডলারে নেমে এসেছে।
একই সময়ে স্পট গোল্ড বা তাৎক্ষণিক সরবরাহমূল্যও ০ দশমিক ৮২ শতাংশ কমেছে। ফলে বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স স্পট গোল্ডের দাম দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৯৭৪ ডলার ৫১ সেন্ট।
শুধু সোনাই নয়, অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও দেখা দিয়েছে নিম্নমুখী প্রবণতা। রুপার ফিউচার মূল্য ৩ দশমিক ৩৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫৭ ডলার ৪৯ সেন্টে নেমেছে। অন্যদিকে স্পট সিলভারের দামও ১ দশমিক ৩১ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৫৭ ডলার ৮০ সেন্টে।
বিশ্লেষকদের মতে, চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি প্রতি আউন্স ৫ হাজার ৫৮৬ ডলার ২০ সেন্টে পৌঁছে ইতিহাসের সর্বোচ্চ অবস্থানে ওঠার পর থেকেই সোনার বাজারে মন্দাভাব শুরু হয়। এরপর থেকে ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকে মূল্যবান এই ধাতুর দাম।
এর অন্যতম কারণ হিসেবে বৈশ্বিক সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনাকে দেখছেন বাজার বিশ্লেষকরা। সোনা থেকে সুদ বা লভ্যাংশ পাওয়া যায় না। ফলে উচ্চ সুদের পরিবেশে অনেক বিনিয়োগকারী সোনা থেকে অর্থ সরিয়ে অন্য খাতে বিনিয়োগ করছেন, যা সোনার দামে চাপ সৃষ্টি করছে।
পরিসংখ্যান বলছে, গত ৩০ জুন শেষ হওয়া প্রান্তিকে সোনার দাম প্রায় ১৬ শতাংশ কমেছে। ২০১৩ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকের পর এটিই সোনার সবচেয়ে বড় ত্রৈমাসিক দরপতন। আর চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত সোনার দাম কমেছে প্রায় ৭ দশমিক ৭৬ শতাংশ।
তবে দাম কমলেও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সোনাকে এখনো নিরাপদ সম্পদ হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানগুলোর মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সময়ে সোনা বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, বছরের দ্বিতীয়ার্ধে বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভে সোনার পরিমাণ বাড়ানোর উদ্যোগ নিলে আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও সোনার চাহিদা ও দাম বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
রাকিব/
