| ঢাকা, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

কম দামের সরকারি এলপিজি গ্যাস কোথায় যাচ্ছে

জাতীয় ডেস্ক . বিনোদন৬৯.কম
২০২৬ অক্টোবর ২৪ ১৪:০৮:২৯
কম দামের সরকারি এলপিজি গ্যাস কোথায় যাচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: রান্নার গ্যাসের দাম বাড়ায় চাপে দেশের সাধারণ মানুষ। এমন পরিস্থিতিতে সরকারি প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত তুলনামূলক কম দামের এলপিজি সিলিন্ডার সহজে না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত দামে এসব সিলিন্ডার বাজারে বিক্রির কথা থাকলেও অনেক ভোক্তার কাছে তা পৌঁছাচ্ছে না। ফলে সরকারি এলপিজি কোথায় যাচ্ছে, কীভাবে বিতরণ হচ্ছে এবং সাধারণ ক্রেতারা কেন তা কিনতে পারছেন না, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৭৭৭ টাকা, যেখানে বেসরকারি বাজারে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এখানে সিলিন্ডারের ওজন ও মূল্য নির্ধারণের তারিখ মিলিয়ে দেখা জরুরি। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের প্রকাশিত তথ্যে ১২.৫ কেজির সরকারি এলপিজি সিলিন্ডারের মূল্য ৭৭৬.৯৩ টাকা উল্লেখ করা হয়েছিল ২০২৬ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি। অন্যদিকে, অক্টোবরে ১২ কেজির বেসরকারি এলপিজির দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণের খবর প্রকাশিত হয়েছে। তাই দুই দামের তুলনা করার সময় সিলিন্ডারের ওজন ও প্রযোজ্য মূল্যতালিকা বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

সরকারি এলপিজি উৎপাদন ও বিতরণের সঙ্গে যুক্ত এলপি গ্যাস পিএলসি এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) অধীন কয়েকটি বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে পদ্মা অয়েল, মেঘনা পেট্রোলিয়াম, যমুনা অয়েল ও স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েলের মাধ্যমে সিলিন্ডার বিতরণ করা হয়।

প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সরকারি এলপিজির একটি অংশ সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করা হয়। পাশাপাশি অনুমোদিত ডিলারদের মাধ্যমে সাধারণ ক্রেতাদের কাছে সিলিন্ডার বিক্রির ব্যবস্থাও রয়েছে। কিন্তু বরাদ্দ, উত্তোলন ও খুচরা বিক্রির মধ্যে কার্যকর নজরদারি না থাকলে নির্ধারিত গ্রাহকের কাছে পণ্য পৌঁছানো বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

সরকারি এলপিজি বিতরণব্যবস্থায় কিছু ডিলারের কার্যক্রম নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু ডিলারের বাস্তব খুচরা বিক্রয়কেন্দ্র বা গ্রাহক নেটওয়ার্ক না থাকলেও তাঁরা বরাদ্দপত্র ব্যবহার করে কারখানা থেকে সিলিন্ডার সংগ্রহ করেন।

অভিযোগ রয়েছে, একাধিক ডিলারের অনুমতিপত্র ব্যবহার করে একজন ব্যক্তি অনেক সিলিন্ডার উত্তোলন করেন। পরে সেগুলো নির্ধারিত গ্রাহকদের কাছে বিক্রি না করে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়। কিছু ক্ষেত্রে সরকারি সিলিন্ডারের গ্যাস বেসরকারি সিলিন্ডারে ভরে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগও রয়েছে।

এ ধরনের অভিযোগ সত্য হলে সরকারি সম্পদের অপব্যবহার এবং ভোক্তাদের সাশ্রয়ী জ্বালানি পাওয়ার সুযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তবে অভিযোগের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের দায় নির্ধারণের জন্য তদন্তের ফল ও প্রমাণ বিবেচনা করা জরুরি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বিপিসি ও এলপি গ্যাস পিএলসির কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে ডিলারদের অনুমতিপত্র এবং সিলিন্ডার উত্তোলনসংক্রান্ত অনিয়মের তথ্য খতিয়ে দেখে। সেখানে একজন ডিলারের মাধ্যমে একাধিক ডিলারের বরাদ্দ ব্যবহারের অভিযোগও উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মেয়াদোত্তীর্ণ বা জাল লাইসেন্স ব্যবহার করে সরকারি এলপিজি উত্তোলন এবং বেসরকারি সিলিন্ডারে গ্যাস ভরার অভিযোগ অনুসন্ধানে এসেছে। এসব অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা ও সংশ্লিষ্টদের দায় সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তদন্ত-ফল প্রকাশ করা প্রয়োজন।

সরকারি এলপিজির সংকটের পেছনে বিতরণব্যবস্থার পাশাপাশি উৎপাদন ও সংরক্ষণ সক্ষমতার সীমাবদ্ধতাও রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এলপি গ্যাস পিএলসির চট্টগ্রাম ও কৈলাশটিলা প্ল্যান্টের উৎপাদন সক্ষমতা থাকলেও বাস্তবে উৎপাদন তুলনামূলক কম বলে দাবি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে সরকারি প্রতিষ্ঠানের বাজারে অংশ প্রায় ১.৩ থেকে ১.৫ শতাংশ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বাজারের তুলনায় সরবরাহ কম হলে সরকারি এলপিজি দিয়ে বেসরকারি বাজারের দামের ওপর বড় প্রভাব ফেলা কঠিন হয়ে পড়ে। সংরক্ষণ ট্যাংক, বোতলজাতকরণ এবং বিতরণ অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতাও সরবরাহ বাড়ানোর পথে বাধা হতে পারে।

সরকারি এলপিজির সরবরাহ বাড়াতে আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হলেও দরপত্রের মাধ্যমে সরবরাহকারী চূড়ান্ত করতে সমস্যা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। বিপিসির কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, জাহাজভাড়া ও অন্যান্য ব্যয় নিয়ে দরদাতাদের সঙ্গে সমন্বয় না হওয়ায় প্রক্রিয়াটি এগোয়নি।

অন্যদিকে, সরকারি প্রতিষ্ঠানের দাবি, প্রয়োজনীয় জনবল ও সংরক্ষণ সক্ষমতার অভাবে দেশজুড়ে সরাসরি সিলিন্ডার বিতরণ বাড়ানো কঠিন। মোংলা ও টাঙ্গাইলসহ কয়েকটি স্থানে সংরক্ষণ ও বোতলজাতকরণ অবকাঠামো তৈরির পরিকল্পনার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সরকারি এলপিজি কিনতে চাইলে ক্রেতাদের উচিত অনুমোদিত বিক্রয়কেন্দ্রের তথ্য যাচাই করা এবং সিলিন্ডারের ওজন, সিল, অবস্থা ও বিক্রয়মূল্য পরীক্ষা করা। কেনার সময় রসিদ সংগ্রহ করাও গুরুত্বপূর্ণ। নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি নেওয়া, পণ্য আটকে রাখা বা অন্য কোনো অনিয়ম চোখে পড়লে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানানো যেতে পারে।

সরকারি এলপিজির প্রকৃত বরাদ্দ, কারা কত সিলিন্ডার উত্তোলন করছেন এবং শেষ পর্যন্ত কতগুলো সাধারণ ভোক্তার কাছে বিক্রি হচ্ছে, তার স্বচ্ছ হিসাব প্রকাশ করা জরুরি। নিয়মিত নিরীক্ষা, ডিলারদের লাইসেন্স যাচাই এবং সরবরাহের প্রতিটি ধাপে নজরদারি জোরদার করা গেলে অনিয়মের সুযোগ কমতে পারে।

কম দামের সরকারি এলপিজি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানো নিশ্চিত করতে শুধু উৎপাদন বাড়ানোই যথেষ্ট নয়। বরাদ্দ থেকে খুচরা বিক্রি পর্যন্ত পুরো ব্যবস্থায় জবাবদিহি ও কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

সোহাগ/

আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ

ক্রিকেট

১৬ ডিসেম্বর হতে পারে আইপিএলের নিলাম, কোথায় হবে আয়োজন

১৬ ডিসেম্বর হতে পারে আইপিএলের নিলাম, কোথায় হবে আয়োজন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) ২০২৭ মৌসুমের মিনি নিলাম আগামী ১৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হতে ...

লিটন-মিরাজের শতরানের জুটিতে লাঞ্চের আগে বাংলাদেশের লিড ৪৪৩

লিটন-মিরাজের শতরানের জুটিতে লাঞ্চের আগে বাংলাদেশের লিড ৪৪৩

নিজস্ব প্রতিবেদক: আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন বাংলাদেশের লিটন দাস। ...

ফুটবল

রোনালদোর গোল ৯৮২

রোনালদোর গোল ৯৮২

নিজস্ব প্রতিবেদক: ক্যারিয়ারে ১ হাজার গোলের ঐতিহাসিক মাইলফলক ছোঁয়ার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলেন ...

হ্যারি কেইনের ৭৩ গোল, প্রথম ব্যালন ডি’অর জয়ের পথে কতটা এগিয়ে

হ্যারি কেইনের ৭৩ গোল, প্রথম ব্যালন ডি’অর জয়ের পথে কতটা এগিয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়ে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক ও বায়ার্ন মিউনিখের ফরোয়ার্ড ...