বিনা মূল্যে প্রশিক্ষণ নিয়ে ইউরোপে চাকরির সুযোগ, কারা আবেদন করতে পারবেন
নিজস্ব প্রতিবেদক: ইতালিসহ ইউরোপের শ্রমবাজারে দক্ষ বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে তিন হাজার কর্মীকে বিনা মূল্যে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) বাস্তবায়নাধীন ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ পাইলট প্রকল্পের আওতায় এ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে পরিচালিত এ উদ্যোগে কারিগরি দক্ষতার পাশাপাশি ইতালীয় ভাষা, যোগাযোগ, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও শ্রমিকের অধিকার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
প্রশিক্ষণ শেষে যোগ্য প্রার্থীদের ইউরোপে চাকরির জন্য নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে শুধু প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করলেই চাকরি বা ভিসা নিশ্চিত হবে না। নিয়োগকর্তার নির্বাচন, কাজের অনুমতি ও ভিসার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
কারা আবেদন করতে পারবেন?
আইএলওর তথ্য অনুযায়ী, এ প্রকল্পে প্রশিক্ষণের জন্য ১৮ থেকে ৪৫ বছর বয়সী নারী-পুরুষ আবেদন করতে পারবেন। আবেদনকারীর শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে এসএসসি বা এইচএসসি, সমমানের কারিগরি শিক্ষা, চার বছর মেয়াদি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপ্লোমা অথবা স্নাতক ডিগ্রির মতো যোগ্যতা থাকতে হবে।
এর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পেশায় প্রাথমিক কারিগরি দক্ষতা প্রয়োজন। পেশাভেদে জাতীয় কারিগরি ও বৃত্তিমূলক যোগ্যতা কাঠামোর প্রথম বা দ্বিতীয় স্তরের সনদও লাগতে পারে।
যেভাবে আবেদন করবেন
আগ্রহী প্রার্থীদের সরকারি ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট প্ল্যাটফর্মের (ওইপি) মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আবেদন করার আগে নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশাগত দক্ষতা এবং সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণের শর্ত মিলিয়ে নেওয়া জরুরি।
প্রকল্পের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ১০টি সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রামের বাংলাদেশ-কোরিয়া টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার, খুলনা ও সিলেটের টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার এবং ইউসেপ-বাংলাদেশসহ বিভিন্ন কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে।
আবেদনের আগে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়: কোন প্রতিষ্ঠানে কোন পেশার প্রশিক্ষণ চলছে, বর্তমানে আবেদন নেওয়া হচ্ছে কি না এবং আসন খালি আছে কি না, তা সরকারি প্ল্যাটফর্ম বা সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে যাচাই করে নিন।
কোন কোন পেশায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে?
প্রকল্পের আওতায় ইউরোপের শ্রমবাজারে চাহিদা রয়েছে এমন বিভিন্ন খাতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে:
নির্মাণ খাত
স্বাস্থ্যসেবা ও পরিচর্যা
পর্যটন ও আতিথেয়তা
পরিবহন ও সরবরাহব্যবস্থা
তৈরি পোশাক
জাহাজ নির্মাণ
হালকা প্রকৌশল
কারিগরি প্রশিক্ষণের পাশাপাশি ইতালীয় ভাষা, যোগাযোগ দক্ষতা, যন্ত্রপাতির নিরাপদ ব্যবহার, শ্রমিকের অধিকার এবং ইউরোপের কর্মপরিবেশ সম্পর্কেও ধারণা দেওয়া হচ্ছে। প্রশিক্ষণের মেয়াদ চার মাস থেকে বাড়িয়ে ছয় মাস করার উদ্যোগের কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রশিক্ষণে কি কোনো খরচ আছে?
প্রকল্পের আওতায় কারিগরি প্রশিক্ষণ, ইতালীয় ভাষা শিক্ষা ও বিদেশ যাওয়ার আগের প্রস্তুতির জন্য প্রশিক্ষণার্থীদের কোনো ফি দিতে হয় না। প্রশিক্ষণ চলাকালে দুপুরের খাবার অথবা এর পরিবর্তে মাসে তিন হাজার টাকা দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে।
তবে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে যাতায়াত ও ব্যক্তিগত খরচ প্রশিক্ষণার্থীকে বহন করতে হতে পারে। বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে ভিসা, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, বিমানের টিকিট, বীমা এবং অন্যান্য ব্যয় কে বহন করবেন, তা নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী আগে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
প্রশিক্ষণ শেষ করলেই কি ইউরোপে যাওয়া যাবে?
না। প্রশিক্ষণ শেষ করার পর যোগ্য প্রার্থীদের তথ্য ওইপি প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করা হতে পারে। অনুমোদিত বিদেশি নিয়োগকর্তারা সেখান থেকে প্রার্থী বাছাই করে সাক্ষাৎকার ও দক্ষতা যাচাইয়ের মাধ্যমে কর্মী নিয়োগ দিতে পারবেন।
এরপর সংশ্লিষ্ট দেশের নিয়ম অনুযায়ী কাজের অনুমতি ও ভিসার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। তাই প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়াকে ইউরোপে চাকরি বা অভিবাসনের নিশ্চয়তা হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।
আইএলওর কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আগে থেকেই দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা রয়েছে, এমন কর্মীদের দক্ষতা বাড়ানো এ প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য। আনুষ্ঠানিক সনদ না থাকলেও অভিজ্ঞ কর্মীদের দক্ষতা যাচাই করে সনদ দেওয়ার ব্যবস্থার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
ঢাকায় নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত অ্যান্টোনিও আলেসান্দ্রোর বক্তব্য অনুযায়ী, ইতালির নতুন অভিবাসন আইনের ২৩ নম্বর ধারার আওতায় বাংলাদেশে কর্মীদের প্রাক্-যাত্রা প্রশিক্ষণ প্রকল্প চালু হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, রেস্তোরাঁ ও আতিথেয়তা, নির্মাণ, বস্ত্র, যন্ত্রকৌশল, বিদ্যুৎ ও ওয়েল্ডিং খাতে ইতালিতে কর্মীর চাহিদা রয়েছে।
ইউরোপে কাজ করতে আগ্রহীদের তাই আবেদন করার আগে যোগ্যতা, প্রশিক্ষণের শর্ত, নিয়োগপ্রক্রিয়া ও সম্ভাব্য বিদেশযাত্রার খরচ সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে তথ্য যাচাই করা উচিত।
সিদ্দিকা/
