| ঢাকা, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

বিশ্বের সবচেয়ে ঋণগ্রস্ত দেশ যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশ কত নম্বরে?

জাতীয় ডেস্ক . বিনোদন৬৯.কম
২০২৬ অক্টোবর ২৪ ১০:৪৯:৩৭
বিশ্বের সবচেয়ে ঋণগ্রস্ত দেশ যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশ কত নম্বরে?

নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারি ঋণের পরিমাণের দিক থেকে বিশ্বের শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে, বৈশ্বিক সরকারি ঋণের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ৪৫তম। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) তথ্য উদ্ধৃত করে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণের পরিমাণ ৪১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার, যা দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১২৭ শতাংশ। বিপরীতে বাংলাদেশের সরকারি ঋণের পরিমাণ ২০৪ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার, যা দেশের জিডিপির প্রায় ৪০ শতাংশ।

এদিকে, সরকারি ঋণের পরিমাণ বাড়ার পাশাপাশি ঋণের সুদ পরিশোধের ব্যয়ও বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করছে। এতে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, অবকাঠামো ও সামাজিক নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে সরকারি ব্যয় পরিচালনা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

সরকারি ঋণে বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ দেশ

প্রতিবেদনে উদ্ধৃত আইএমএফের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি ঋণের পরিমাণের দিক থেকে শীর্ষ পাঁচটি দেশ হলো যুক্তরাষ্ট্র, চীন, জাপান, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স।

দেশগুলোর সরকারি ঋণের পরিমাণ ও জিডিপির তুলনায় ঋণের অনুপাত নিচে দেওয়া হলো।

দেশ| সরকারি ঋণের পরিমাণ| ঋণ-জিডিপি অনুপাত

যুক্তরাষ্ট্র| ৪১.৪ ট্রিলিয়ন ডলার| ১২৭%

চীন| ২২.৫ ট্রিলিয়ন ডলার| ১০৪%

জাপান| ৮.৭ ট্রিলিয়ন ডলার| ১৯৯%

যুক্তরাজ্য| ৪.৪ ট্রিলিয়ন ডলার| ১০২%

ফ্রান্স| ৪.২ ট্রিলিয়ন ডলার| ১১৮%

তালিকার বাইরে ইতালির সরকারি ঋণের পরিমাণ ৩ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলার, যা দেশটির জিডিপির ১৩৮ শতাংশ। জার্মানির সরকারি ঋণ ৩ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার এবং ঋণ-জিডিপি অনুপাত ৬৫ শতাংশ।

অন্যদিকে, ভারতের সরকারি ঋণের পরিমাণ ৩ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার এবং ঋণ-জিডিপি অনুপাত ৮৩ শতাংশ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে ঋণের মোট পরিমাণ ও জিডিপির তুলনায় ঋণের অনুপাত এক বিষয় নয়। কোনো দেশের অর্থনীতির আকার বড় হলে তার মোট ঋণের পরিমাণও বেশি হতে পারে। তাই সরকারি ঋণের বোঝা তুলনা করতে উভয় সূচক বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ।

দেড় দশকে বাংলাদেশের সরকারি ঋণ বেড়েছে প্রায় পাঁচ গুণ

প্রতিবেদনে উদ্ধৃত হিসাব অনুযায়ী, বৈশ্বিক সরকারি ঋণের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ৪৫তম। বর্তমানে দেশের সরকারি ঋণের পরিমাণ ২০৪ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার। ২০১০ সালে এই পরিমাণ ছিল ৪০ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার।

অর্থাৎ, প্রায় ১৫ বছরে বাংলাদেশের সরকারি ঋণের পরিমাণ প্রায় পাঁচ গুণ হয়েছে।

তবে শুধু ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি দিয়ে কোনো দেশের অর্থনীতির ঝুঁকি নির্ধারণ করা যায় না। ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা, সরকারের রাজস্ব আয়, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, ঋণের সুদের হার এবং ঋণের অর্থ কী কাজে ব্যবহার হচ্ছে, সেগুলোও গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতিবেদনের হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশের ঋণ-জিডিপি অনুপাত প্রায় ৪০ শতাংশ। তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে এই অনুপাত ১২৭ শতাংশ, ফ্রান্সে ১১৮ শতাংশ এবং ইতালিতে ১৩৮ শতাংশ।

অর্থাৎ, জিডিপির তুলনায় সরকারি ঋণের অনুপাতের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান এসব দেশের চেয়ে কম। তবে দেশের সরকারি ঋণের প্রকৃত চাপ মূল্যায়নে ঋণের ধরন, বৈদেশিক মুদ্রায় পরিশোধের দায় এবং রাজস্ব আয়ের সক্ষমতাও বিবেচনায় নিতে হবে।

সরকার কীভাবে ঋণ নেয়?

সরকার সাধারণত বিভিন্ন উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ করে। এর মধ্যে সরকারি বন্ড ও ট্রেজারি বিল বিক্রি, দেশীয় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ এবং বিদেশি ঋণদাতা বা আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছ থেকে ঋণ নেওয়া উল্লেখযোগ্য।

সরকারি বন্ড কিনে বিনিয়োগকারীরা সরকারকে অর্থ দেন। এর বিনিময়ে বন্ডের শর্ত অনুযায়ী তাঁরা সুদ বা নির্ধারিত আয় পান। মেয়াদ শেষে বন্ডের মূল অর্থ ফেরত দেওয়ার নিয়ম থাকে।

সরকারের ঋণ নেওয়ার খরচ নির্ধারণে বন্ডের সুদের হার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সাধারণভাবে বাজারে বন্ডের দাম কমলে তার ইল্ড বা মেয়াদভিত্তিক ফলন বাড়ে। ফলে নতুন করে ঋণ নেওয়ার সময় সরকারকে বেশি সুদ দিতে হতে পারে।

ঋণের সুদ পরিশোধে বেশি অর্থ ব্যয় হলে বাজেটের অন্যান্য খাতে অর্থ বরাদ্দের সুযোগ সীমিত হতে পারে। তবে এর প্রভাব নির্ভর করে সরকারের রাজস্ব আয়, ঋণের মেয়াদ এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনার ওপর।

ফ্রান্সে ঋণের সুদ নিয়ে কেন উদ্বেগ?

ইউরোপের বড় অর্থনীতিগুলোর মধ্যে ফ্রান্সের সরকারি ঋণ ও ঋণ পরিশোধের ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দেশটির সরকারি ঋণ জিডিপির তুলনায় বেশি হওয়ায় সুদের হার বৃদ্ধি সরকারি অর্থব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

প্রতিবেদনে ফ্রান্সের ১০ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ডের ইল্ড প্রায় ৫ শতাংশ এবং জার্মানির ক্ষেত্রে ৩ দশমিক ৪১ শতাংশ উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই হার নির্দিষ্ট সময়ের বাজারদরের ওপর নির্ভরশীল। তাই প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট তারিখের নির্ভরযোগ্য আর্থিক তথ্য দিয়ে তা যাচাই করা প্রয়োজন।

সরকারি বন্ডের ইল্ড বেড়ে গেলে নতুন ঋণ নেওয়ার ব্যয় বাড়তে পারে। একই সঙ্গে পুরোনো ঋণের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন ঋণ দিয়ে তা প্রতিস্থাপন করতে হলে সরকারকে আগের তুলনায় বেশি সুদ দিতে হতে পারে।

ফলে বাজেটের ওপর চাপ বাড়ে। এ পরিস্থিতিতে সরকারকে রাজস্ব আয় বাড়ানো, ব্যয় কমানো অথবা ঋণ ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনার মতো সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।

বিশ্বে মোট ঋণ ৩৬৫ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে

সরকারি ঋণের পাশাপাশি পরিবার ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ঋণও বৈশ্বিক অর্থনীতির বড় অংশ। ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্সের (আইআইএফ) তথ্য উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে বিশ্বে মোট ঋণ প্রায় ১০ ট্রিলিয়ন ডলার বেড়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত জুনের শেষে বৈশ্বিক ঋণের পরিমাণ ৩৬৫ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। এই হিসাব সরকার, পরিবার ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন খাতের ঋণকে অন্তর্ভুক্ত করে। তাই এটিকে শুধু সরকারি ঋণ হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।

বিশ্বের মোট জনসংখ্যার বিপরীতে হিসাব করলে মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ প্রায় ৪৪ হাজার ডলার বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এটি প্রত্যেক ব্যক্তির ব্যক্তিগত ঋণ নয়, বরং বৈশ্বিক মোট ঋণকে জনসংখ্যা দিয়ে ভাগ করে পাওয়া গড় হিসাব।

ঋণের সুদ বাড়লে সাধারণ মানুষের ওপর কী প্রভাব পড়ে?

সরকারের ঋণের সুদ পরিশোধের ব্যয় বেড়ে গেলে তার প্রভাব সরাসরি ও পরোক্ষভাবে সাধারণ মানুষের ওপর পড়তে পারে।

প্রথমত, বাজেটের বড় অংশ সুদ পরিশোধে ব্যয় হলে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, যোগাযোগ ও সামাজিক সুরক্ষার মতো খাতে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের সুযোগ কমে যেতে পারে।

দ্বিতীয়ত, সরকারের ঋণ নেওয়ার খরচ বাড়লে দেশের আর্থিক বাজারেও সুদের হারে চাপ তৈরি হতে পারে। তবে ব্যাংকঋণ, আবাসনঋণ বা গাড়ি কেনার ঋণের সুদ সরাসরি সরকারি বন্ডের ইল্ডের সমান হারে বাড়ে না। এসব হার নির্ভর করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি, মূল্যস্ফীতি, ব্যাংকের তহবিলের খরচ ও ঋণগ্রহীতার ঝুঁকিসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর।

তৃতীয়ত, ঋণের সুদ মেটাতে সরকার কর বাড়ানো বা কিছু খাতে ব্যয় কমানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে। আবার ঋণ যদি উৎপাদনশীল অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা হয়, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে প্রবৃদ্ধি ও রাজস্ব আয় বাড়াতেও সহায়তা করতে পারে।

বিশ্বের বড় অর্থনীতিগুলোর সরকারি ঋণের পরিমাণ বেশি হলেও শুধু মোট ঋণের অঙ্ক দিয়ে অর্থনৈতিক ঝুঁকি নির্ধারণ করা যায় না। ঋণ-জিডিপি অনুপাত, সুদ পরিশোধের ব্যয়, সরকারের রাজস্ব আয় এবং ঋণ ব্যবহারের কার্যকারিতা একসঙ্গে বিবেচনা করতে হয়।

প্রতিবেদনে উদ্ধৃত তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক সরকারি ঋণের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ৪৫তম এবং দেশের সরকারি ঋণের পরিমাণ ২০৪ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ঋণ কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে তা পরিশোধের সক্ষমতা কতটা শক্তিশালী রাখা যাচ্ছে।

প্রকাশের আগে তথ্য যাচাই: আইএমএফের সর্বশেষ সরকারি ঋণসংক্রান্ত ডেটাবেস, ঋণের হিসাবের বছর ও সংজ্ঞা, বাংলাদেশের ৪৫তম অবস্থান এবং আইআইএফের বৈশ্বিক ঋণের পরিসংখ্যান মূল সূত্রের সঙ্গে মিলিয়ে নিন।

সিদ্দিকা/

আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ

ক্রিকেট

১৬ ডিসেম্বর হতে পারে আইপিএলের নিলাম, কোথায় হবে আয়োজন

১৬ ডিসেম্বর হতে পারে আইপিএলের নিলাম, কোথায় হবে আয়োজন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) ২০২৭ মৌসুমের মিনি নিলাম আগামী ১৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হতে ...

লিটন-মিরাজের শতরানের জুটিতে লাঞ্চের আগে বাংলাদেশের লিড ৪৪৩

লিটন-মিরাজের শতরানের জুটিতে লাঞ্চের আগে বাংলাদেশের লিড ৪৪৩

নিজস্ব প্রতিবেদক: আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন বাংলাদেশের লিটন দাস। ...

ফুটবল

ব্যালন ডি’অর ২০২৬: সম্ভাব্য সেরা ১০-এর তালিকায় শীর্ষে হ্যারি কেইন, দুইয়ে ইয়ামাল

ব্যালন ডি’অর ২০২৬: সম্ভাব্য সেরা ১০-এর তালিকায় শীর্ষে হ্যারি কেইন, দুইয়ে ইয়ামাল

ফুটবলের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ সম্মানগুলোর একটি ব্যালন ডি’অর। ২০২৬ সালের এই পুরস্কার ঘিরে আলোচনায় উঠে এসেছে ...

আর্জেন্টিনার কোচ থাকছেন স্কালোনিই, জানুন কত দিন

আর্জেন্টিনার কোচ থাকছেন স্কালোনিই, জানুন কত দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক: লিওনেল স্কালোনির সঙ্গে চুক্তি নবায়নের বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে বলে জানিয়েছে আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম। প্রাথমিকভাবে ...