| ঢাকা, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩

চেতনানাশক দিয়ে জন্মনিয়ন্ত্রণ ওষুধ খাওয়াতেন মাদ্রাসাশিক্ষক

জাতীয় ডেস্ক . বিনোদন৬৯.কম
২০২৬ অক্টোবর ২৩ ১৯:৫৭:১৫
চেতনানাশক দিয়ে জন্মনিয়ন্ত্রণ ওষুধ খাওয়াতেন মাদ্রাসাশিক্ষক

নিজস্ব প্রতিবেদক: পাবনার সদর উপজেলায় একটি মহিলা কওমি মাদ্রাসার শিক্ষকের বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন। অভিযোগের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর উত্তেজিত লোকজন মাদ্রাসা ও অভিযুক্তের থাকার বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন।

বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের দড়িভাউডাঙ্গা গ্রামের পদ্মা মাঠসংলগ্ন নুরে মদিনা মহিলা কওমি মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ফজরের আজানের আগে মাদ্রাসার এক ছাত্রী শৌচাগারে যাওয়ার জন্য কক্ষ থেকে বের হয়। এ সময় মাদ্রাসার পরিচালক ও শিক্ষক আবু ইউসুফ তাকে জোর করে একটি কক্ষে নিয়ে যান বলে অভিযোগ উঠেছে।

ওই ছাত্রীর চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত শিক্ষক পালানোর চেষ্টা করেন বলে জানা গেছে। পরে স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশে খবর দেন।

অভিযুক্ত আবু ইউসুফ পাবনা সদর উপজেলার সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের খালিশপুর গ্রামের মৃত ইয়াকুব আলীর ছেলে। মাদ্রাসাটিতে প্রায় ১৫০ জন ছাত্রী রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

অভিযোগকারী ছাত্রীর দাবি, এর আগেও তাকে একাধিকবার অচেতন করে যৌন নির্যাতন করা হয়েছে। তার অভিযোগ অনুযায়ী, এ কাজে চেতনানাশক পদার্থ ব্যবহার করা হতো এবং ঘটনার পর তাকে জন্মনিয়ন্ত্রণের ওষুধ খাওয়ানো হতো।

মাদ্রাসার অন্য কয়েকজন ছাত্রীর সঙ্গেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছে ওই ছাত্রী। বিষয়টি কাউকে জানালে তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হতো বলেও তার দাবি।

অভিযোগকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। অন্য ছাত্রীদের বিষয়ে ওঠা অভিযোগের স্বাধীন নিশ্চিতকরণও পাওয়া যায়নি।

ঘটনার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার পর উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে কিছু লোক মাদ্রাসা ও অভিযুক্ত শিক্ষকের থাকার বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

এ ধরনের ঘটনার পর আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে পুলিশকে অবহিত করা এবং তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সত্যতা নির্ধারণ করা জরুরি।

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) সঞ্জয় কুমার সাহা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করা হয়েছে। ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

মামলার পরবর্তী অগ্রগতি, অভিযোগের বিস্তারিত তদন্ত এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী বক্তব্যের অপেক্ষা রয়েছে।

একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠায় ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগকারী ছাত্রীর নিরাপত্তা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করা এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করা গুরুত্বপূর্ণ।

পুলিশি তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারিত হবে। আদালতে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তকে আইনগতভাবে নির্দোষ বলে গণ্য করার নীতি প্রযোজ্য।

সোহাগ/

আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ

ক্রিকেট

১৬ ডিসেম্বর হতে পারে আইপিএলের নিলাম, কোথায় হবে আয়োজন

১৬ ডিসেম্বর হতে পারে আইপিএলের নিলাম, কোথায় হবে আয়োজন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) ২০২৭ মৌসুমের মিনি নিলাম আগামী ১৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হতে ...

লিটন-মিরাজের শতরানের জুটিতে লাঞ্চের আগে বাংলাদেশের লিড ৪৪৩

লিটন-মিরাজের শতরানের জুটিতে লাঞ্চের আগে বাংলাদেশের লিড ৪৪৩

নিজস্ব প্রতিবেদক: আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন বাংলাদেশের লিটন দাস। ...

ফুটবল

ব্যালন ডি’অর ২০২৬: সম্ভাব্য সেরা ১০-এর তালিকায় শীর্ষে হ্যারি কেইন, দুইয়ে ইয়ামাল

ব্যালন ডি’অর ২০২৬: সম্ভাব্য সেরা ১০-এর তালিকায় শীর্ষে হ্যারি কেইন, দুইয়ে ইয়ামাল

ফুটবলের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ সম্মানগুলোর একটি ব্যালন ডি’অর। ২০২৬ সালের এই পুরস্কার ঘিরে আলোচনায় উঠে এসেছে ...

আর্জেন্টিনার কোচ থাকছেন স্কালোনিই, জানুন কত দিন

আর্জেন্টিনার কোচ থাকছেন স্কালোনিই, জানুন কত দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক: লিওনেল স্কালোনির সঙ্গে চুক্তি নবায়নের বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে বলে জানিয়েছে আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম। প্রাথমিকভাবে ...